জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: স্ত্রীর কোনও কাজ বা অবহেলার কারণে স্বামী যদি উপার্যন করতে না পারেন তাহলে তিনি বিবাহ বিচ্ছেদের পর ভরনপোষণ দাবি করতে পারবেন না। এমনই এক রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। বেদ প্রকাশ সিং নামে এক হোমিওপ্যাথি চিকিত্সকের বিবাহ বিচ্ছেদের পর স্ত্রী করা ভরনপোষণ মামলায় এমনই রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। মামলাটি নিম্ন আদালতে উঠলে একই কথা বলেছিলেন সেখানকার বিচারক।
Add Zee News as a Preferred Source
অভিযোগ, একদিন ওই হোমিওপ্যাথি চিকিত্সকের চেম্বারে হাজির হন তাঁর স্ত্রী ভাই, বাবা ও অন্যান্য অত্মীয়রা। সেখানে ওই চিকিত্সকের সঙ্গে তার স্ত্রীর আত্মীয়দের প্রবল ঝগড়াঝাঁটি হয়। তার পরই তাদের মধ্যে একজন ওই চিকিত্সককে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দেন। সেই গুলি আটকে যায় চিকিত্সকের শিরদাঁড়ার কাছে। কিন্তু অপারেশন করে সেই গুলি বের করা যায়নি। কারণ ওই জায়গায় অপারেশন করতে সাহস পাচ্ছেন না চিকিত্সকেরা। তাতে রোগীর পক্ষাঘাত পর্যন্ত হতে পারে। এখন ওই চিকিত্সক এখন ভালো করে বসতে পর্যন্ত পারেন না। তার পরেও তার স্ত্রী ভরনপোষণের মামলা করেন।
মামলাটি প্রথম ওঠে কুশীনগরের জেলা আদালতে। তারপর সেই মামলা যায় এলাহাবাদ হাইকোর্টে। কুশীনগর জেলা আদালতের রায় বহাল রেখে বিচারপতি লক্ষ্মীকান্ত শুক্লা এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে জানান যে, যেখানে স্ত্রীর পরিবারের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে স্বামীর উপার্জনের ক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, সেখানে স্ত্রীকে খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ হবে চরম অন্যায়; তাই আদালত ওই স্ত্রীর খোরপোশের আবেদনটি খারিজ করে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন-স্ত্রীকে তার প্রেমিক দেওরের হাতে তুলে দেন ৭ দিন আগেই, এবার তাকে কুপিয়ে খুন স্বামীর
আরও পড়ুন-খুনই হয়েছে আলাউদ্দিন; ঝাড়খণ্ড পুলিসের সঙ্গে চক্রান্ত করে আত্মহত্যা দেখানো হচ্ছে, বিস্ফোরক হুমায়ূন
এলাহাবাদ হাইকোর্টের তরফে বলা হয়, স্বামীর মেরুদণ্ডে এখনো একটি পেলেট আটকে আছে এবং সেটি অস্ত্রোপচার করে বের করতে গেলে রোগীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। ওই আঘাতেই তিনি বর্তমানে স্বাচ্ছন্দ্যে বসতেও পারেন না এবং কোনো কাজ বা চাকরি করার ক্ষমতাও হারিয়েছেন।
২০২৫ সালের ৭ মে ফ্যামিলি কোর্ট স্ত্রীর অন্তর্বর্তীকালীন খোরপোশের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছিল। হাইকোর্ট সেই রায়টি বহাল রেখে জানায় যে, স্বামীর শারীরিক অক্ষমতার বিষয়টি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই এবং তার জন্য সরাসরি স্ত্রীর পরিবারের লোকজনই দায়ী।
বিচারপতি শুক্লা মন্তব্য করেন, সমাজে সাধারণত একজন স্বামীর কাছ থেকে তার পরিবারের ভরণপোষণের আশা করে। তার পরেও মামলাটির পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্ত্রীকে ভরণপোষণ দেওয়া স্বামীর একটি পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃত হলেও আইনের বলা নেই যে শুধু স্বামীকেই আয় করতে হবে।
আদালতের তরফে বলা হয়, মামলার তথ্যপ্রমাণ অনুযায়ী স্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের আচরণের কারণেই স্বামী আজ জীবিকা অর্জনে অক্ষম। যদি কোনো স্ত্রী তাঁর নিজের কাজ বা ত্রুটির মাধ্যমে স্বামীকে উপার্জনে অক্ষম করে তোলেন বা তাতে ভূমিকা রাখেন, তবে সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি খোরপোশ দাবি করতে পারেন না।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)