Modi Xi meet: রাশিয়া থেকে কম দামে তেল কেনার মাসুল দিতে হচ্ছে ভারতকে। আমেরিকার দাবি, রাশিয়া থেকে তেল কেনার অর্থ সরাসরি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে মদত দেওয়া

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সাংহাই কোঅপারেশনে অর্গানাইজেশনের শীর্ষ বৈঠকের ফাঁকে চিনের প্রধানমন্ত্রী শি জিংপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ভারত-চিন সম্পর্ক দুদেশের ২৮০ কোটি মানুষের সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত। ভারত-চিনের এই কাছে আসা স্পষ্টতই আমেরিকাকে একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ভারতীয় পণ্যের উপরে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে আমেরিকা। রাশিয়া থেকে কম দামে তেল কেনার মাসুল দিতে হচ্ছে ভারতকে। আমেরিকার দাবি, রাশিয়া থেকে তেল কেনার অর্থ সরাসরি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে মদত দেওয়া। কিন্তু ট্রাম্প বিরোধী বিশ্বের পাল্টা বক্তব্য হল, ভারত না হয় ঘুরপথে রাশিয়াকে সাহায্য় করছে, ইসারায়েলকে অস্ত্র দিয়ে, প্রযুক্তি দিয়ে আমেরিকা তাহলে কী করছে। এরকম এক পরিস্থিতিতে চিন-ভারত বৈঠক হয়ে গেল। দেখে নেওয়া যাক ওই বৈঠক থেকে কী বেরিয়ে এল-
সহযোগী, শত্রু নয়
রাশিয়ায় ব্রিক্সেক বৈঠকের পর চিন-ভারত সম্পর্কে যে উন্নতি হয়েছে তার দুই নেতা স্বীকার করে নেন। তাঁর একটা বিষয় স্পষ্ট করে দেন যে চিন ও ভারত বন্ধু, শত্রু নয়। দুদেশের মধ্যে যে মতবিরোধ রয়েছে তা যেন সম্পর্কে প্রভাব না ফেলে।
সরাসরি বিমান
প্রধানমন্ত্রী মোদী ঘোষণা করেন, ভারত থেকে সরাসরি উড়ান চিনে যাবে। কোভিডের পর থেকে ওই উড়ান বন্ধ রয়েছে। যাত্রীদের হংকং ও সিঙ্গাপুর হয়ে চিনে যেতে হচ্ছে।
পর্যটন ফের চালু করা
কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা ও পর্যটন নিয়ে কথা তোলেন মোদী। তিব্বতে তীর্থযাত্রা ও চিনা পর্যটকদের ভারতে ভিসা দেওয়ার কাজ গত বছর থেকেই শুরু হয়েছে।
সহযোগিতা
সন্ত্রাস ও পর্যটনের মতো বিষয়ে দুদেশের নেতারা কথা বলেন। জোর দেন, এনিয়ে দুদেশকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। এনিয়ে তৃতীয় পক্ষকে জড়ানো যাবে না।
গালওয়ান পরবর্তী সময়
২০২০ সালে ভারত-চিন সেনাদের মধ্যে গালওয়ানে সংঘর্ষের পর সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে গিয়েছিল। তবে তা অনেকটাই সহজ হয়েছে। দুদেশের নেতাই মেনে নেন য়ে সীমান্তে অনেকটাই শান্তি ফিরে এসেছে।
বন্ধু
চিনকে ভারতের বন্ধু বলে ঘোষণা করেন মোদী। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, দুদেশের মানুষকে ভালো থাকতে সম্পর্ক-সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করেত হবে।
সীমান্ত সমস্যা
শি বলেন, সীমান্ত সমস্যা দিয়ে দুদেশের সম্পর্ক মাপা উচিত নয়। কীভাবে দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আরও শক্ত করা যায় সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
আমেরিকাকে বার্তা
ভারত-আমেরিকা শুক্ল যুদ্ধের আবহে এই বৈঠক যথেষ্টই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের এই চিনের কাছে আসা আমেরিকার কাছে এক বড় বার্তা। আমেরিকা যে এতদিন ভারত ও চিনকে আলাদা করে রাখার নীতিতে কাজ করেছে যাচ্ছে তা এক বড় ধাক্কা খাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)