Gyanesh Kumar Impeachment: দিল্লির বিগ ব্রেকিং: CEC জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্টে মরিয়া তৃণমূল, সংসদে বড় পদক্ষেপে ইন্ডিয়া জোট

West Bengal Assembly Election 2026: বর্তমান রাজনৈতিক আবহে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কলকাতা সফর কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। 

নবনীতা সরকার | Updated By: Mar 9, 2026, 03:23 PM IST
Gyanesh Kumar Impeachment: দিল্লির বিগ ব্রেকিং: CEC জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্টে মরিয়া তৃণমূল, সংসদে বড় পদক্ষেপে ইন্ডিয়া জোট
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু

রাজীব কুমার: ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবার এক চরম আইনি ও সাংবিধানিক লড়াইয়ের দিকে মোড় নিচ্ছে। সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া' (INDIA) কোমর বেঁধে নেমেছে। এই প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্য়েই ইমপিচমেন্টের খসড়া প্রস্তাব বা ড্রাফট তৈরি হয়ে গিয়েছে এবং বিরোধী দলগুলো নিজেদের মধ্যে চূড়ান্ত আলোচনা চালাচ্ছে।

Add Zee News as a Preferred Source

দেখুন সেই VDO:

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বর্তমান নির্বাচন কমিশন শাসক দলের অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলোতে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট তৈরি, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং রাজ্য পুলিশের রদবদল নিয়ে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগগুলো হলো—

১. নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ।

২. বিরোধীদের অভিযোগের নিষ্পত্তি না করে একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

৩. সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়া।

এই প্রেক্ষাপটেই বিরোধীরা মনে করছেন, শুধুমাত্র বিবৃতি দিয়ে নয়, এবার সংসদের ভেতরে আইনি পথে চাপ বাড়ানো প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে অভিশংসনের খসড়া প্রস্তাব।

আরও পড়ুন: Sir in Bengal: বিধানসভা ভোট নিয়ে বড় আপডেট! সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত সওয়ালের পরই সামনে এল ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন... নির্বাচন কি তার পরেই?

কলকাতায় জ্ঞানেশ কুমার ও তৃণমূলের বিক্ষোভ

বর্তমান রাজনৈতিক আবহে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কলকাতা সফর কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আসন্ন ভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে তিনি যখন কলকাতায় পা রাখেন, তখনই বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা কালো পতাকা ও স্লোগান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

তৃণমূলের দাবি, কমিশন বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং অহেতুক কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে জনমানসে ভীতি তৈরি করা হচ্ছে। জ্ঞানেশ কুমারের কনভয় যখন সল্টলেকের নির্বাচন সদনের দিকে যাচ্ছিল, তখন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তিও লক্ষ্য করা যায়। তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, 'যতক্ষণ না কমিশন নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে পারছে, ততক্ষণ এই প্রতিবাদ চলবে।'

ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া ও তৃণমূলের ভূমিকা

ভারতের সংবিধানে নির্বাচন কমিশনারকে অপসারন করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল এবং এটি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির অপসারণের সমতুল্য। ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে গেলে লোকসভা বা রাজ্যসভার নির্দিষ্ট সংখ্যক সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়।

ক্ষুব্ধ তৃণমূল 

তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এই খসড়া প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে মূল কারিগরের ভূমিকা পালন করেছেন। দলের আইনজীবী সাংসদরা অন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে প্রস্তাবটি এমনভাবে সাজিয়েছেন যাতে এটি আইনি পরীক্ষায় টিকে থাকতে পারে। তৃণমূল সূত্রে জানানো হয়েছে, "আমরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচানোর লড়াই করছি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার যদি একটি দলের হয়ে কাজ করেন, তবে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়।"

বিরোধী শিবিরের ঐক্য ও ভবিষ্যৎ কৌশল

কংগ্রেস, ডিএমকে, এবং বাম দলগুলোর সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের দফায় দফায় বৈঠক চলছে। যদিও ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবটি পাস করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাতত্ত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তবুও বিরোধীদের আসল উদ্দেশ্য হলো সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা এবং দেশের সাধারণ মানুষের কাছে কমিশনের "পক্ষপাতমূলক" চেহারাটি তুলে ধরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদের আগামী অধিবেশনেই এই প্রস্তাবটি পেশ করার চেষ্টা করতে পারে বিরোধী শিবির। যদি প্রস্তাবটি গৃহীত হয়, তবে এটি ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হবে।

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই ইমপিচমেন্টের লড়াই শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছেন বিরোধীরা। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে তৃণমূলের এই জোরালো প্রতিবাদ এবং দিল্লির অলিন্দে ইমপিচমেন্টের খসড়া প্রস্তুতি প্রমাণ করে যে, আগামী দিনগুলোতে নির্বাচন কমিশন বনাম বিরোধী শিবিরের এই সংঘাত আরও তীব্রতর হবে। বাংলার মানুষ এখন তাকিয়ে আছেন সংসদের দিকে, যেখানে এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

আরও পড়ুন: Nitish Kumar resign as CM and Operation Lotus in Patna: নীতীশকে সরিয়েছে এক বিভীষণ, বিহারের কুর্সি দখলে কার সঙ্গে বিজেপির মারাত্মক চক্রান্ত? তুলকালাম...

 

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল)

About the Author

Nabanita Sarkar

সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরামর্শদাতাদাতা হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা। আইন-আদালত থেকে বিনোদন, দেশ থেকে দুনিয়ার হরেক খবরে শেখার চেষ্টা অবিরাম...

...Read More

.