)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বায়ুসেনার বিরাট শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনায় মাইলস্টোন পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত সরকার। চলতি সপ্তাহে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রক, এই মর্মে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করতে চলেছে। যেখানে ফ্রান্স থেকে ১১৪টি রাফাল ফাইটার জেট কেনার জন্য ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার আকাশছোঁওয়া প্রস্তাবই বিবেচনা করতে চলেছে ভারত। শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্রকে উদ্ধৃত করেই সংবাদসংস্থা এএনআই এই রিপোর্ট দিয়েছে। এই রাফাল জেটগুলির বেশিরভাগই ভারতে তৈরি হবে এবং এতে প্রায় ৩০ শতাংশ দেশীয় উপাদান থাকবে বলেই জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে ১২ থেকে ১৮টি রাফাল সরাসরি প্রস্তুত অবস্থায় কেনা হতে পারে বলেই জানা যাচ্ছে। যার মানে দাঁড়াচ্ছে ভারত বিরাট রাফাল স্কোয়াড্রন তৈরি করছে।
১৭৬ রাফাল হবে ভারতের
দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই প্রতিরক্ষামন্ত্রকের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। আরও জানা যাচ্ছে যে, সরকার-থেকে-সরকার চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত রাফাল প্ল্যাটফর্মে ভারতীয় অস্ত্র এবং অন্যান্য দেশীয় ব্যবস্থা একীভূত করার জন্য ফ্রান্সের অনুমোদনও চাইছে। তবে সোর্স কোডগুলি ফরাসি পক্ষের কাছেই থাকবে। যদি এই অনুমোদন মেলে তবে এই চুক্তি ভারতের সর্বকালের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ হবে। ভারতীয় বিমানবাহিনীতে রাফাল জেটের মোট সংখ্যা ১৭৬-এ উন্নীত হবে। ভারতীয় বিমানবাহিনী বর্তমানে ৩৬টি রাফাল জেট পরিচালনা করে, অন্যদিকে নৌসেনা গত বছর ২৬টি রাফাল-এম জেটের জন্য অর্ডার দিয়েছে। 'ভারতীয় বিমানবাহিনী কর্তৃক প্রস্তুত ১১৪টি রাফাল জেটের জন্য স্টেটমেন্ট অফ কেস (এসওসি) বা প্রস্তাবটি কয়েক মাস আগেই প্রতিরক্ষামন্ত্রকে জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই প্রস্তাবটি নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পেশ হবে।'
ভারতের বিরাট পরিকল্পনা
ভারত রাফাল চুক্তি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, যদিও আমেরিকা এবং রাশিয়া উভয়ই, ভারতীয় বায়ুসেনাকে যথাক্রমে তাদের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ এবং এসইউ-৫৭ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। যদিও বিমানটিতে বর্তমানে দেশীয় উপাদানের পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ, যা 'মেক ইন ইন্ডিয়া' নীতির অধীনে প্রচলিত ৫০-৬০ শতাংশের প্রয়োজনীয়তার চেয়ে কম, সূত্রের ইঙ্গিত, ভারতে তৈরি রাফালে শেষপর্যন্ত দেশীয় উপাদানের পরিমাণ ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই প্রস্তাব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ এমন এক প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে, যেখানে অপারেশন সিদুঁরের সময়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রাফালের শক্তিশালী পারফরম্যান্স নিয়ে চর্চা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সেই অভিযানে বিমানটি তার স্পেকট্রা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট ব্যবহার করে চিনা পিএল-১৫ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে সফলভাবে প্রতিহত করেছিল। বৃহত্তর প্যাকেজের অংশ হিসেবে ফ্রান্স, হায়দ্রাবাদে রাফাল জেটে ব্যবহৃত এম-৮৮ ইঞ্জিনগুলির জন্য একটি রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহোল (এমআরও) সুবিধা কেন্দ্র স্থাপনেরও পরিকল্পনা করছে। রাফাল নির্মাতা দাসো ইতিমধ্যেই ভারতে ফরাসি-নির্মিত যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে এবং টাটা-সহ ভারতীয় মহাকাশ সংস্থাগুলো উৎপাদন ও সহায়তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সু-৩০ এমকেআই বহর, রাফাল এবং দেশীয় যুদ্ধবিমান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারত ইতিমধ্যেই ১৮০টি এলসিএ তেজস মার্ক ১এ বিমানের জন্য অর্ডার দিয়েছে এবং ২০৩৫ সালের পর তাদের দেশীয় পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানকে বিপুল সংখ্যায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে।
পরিণাম এখনও বকেয়া
দিল্লিতে এনসিসি-র এক শিবিরে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বক্তৃতা করেন। সিঁদুর অভিযানে ভারতের সাফল্যের কথা তিনি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, 'অপারেশন সিদুঁর এখনও চলছে। ভবিষ্যতে যে কোনোও ধরনের অপকর্মের সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। ৭ মে ২২ মিনিটের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ এবং ১০ মে পর্যন্ত ৮৮ ঘণ্টাব্যাপী একটি সুপরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে, এই সিঁদুর অপারেশনটি গভীরে আঘাত হেনেছে। সন্ত্রাসী পরিকাঠামো ধ্বংস করে এবং দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বাগাড়ম্বরকে অকার্যকর করে কৌশলগত ধারণাগুলোকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে।' দ্বিবেদী বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, পহেলগাঁওয়ে দেশের মা-বোনের সিঁদুর মুছেছে পাকিস্তান! ভয়ংকর পরিণাম এখনও বকেয়া আছে!
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)