)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাকিস্তানের ত্রাতা সেই ভারতই! স্রেফ এক অ্যালার্টেই নয়াদিল্লি বাঁচাল ১৫০০০০ প্রাণ! প্রতিবেশি দেশ এখন শত্রুদেশে পরিণত হলেও, ভারত দেখাল 'গুডউইল জেসচার'! মহান দেশের মানবিক পদক্ষেপেই বাঁচল হাজার-হাজার প্রাণ। ভয়ংকর বৃষ্টির জেরে জম্মুর তাওয়ি নদীতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপদ বাড়ছিল পাকিস্তানের জন্যও। আর ভারতই পাকিস্তানকে বন্যার সতর্কতা পাঠিয়েছিল 'উচ্চ সম্ভাবনা'র কথা জানিয়ে। যদিও কোনও দেশের তরফেই আনুষ্ঠানিক ভাবে এই কথা জানানো হয়নি এখনও।
ভারত কীভাবে ১৫০০০০ পাকিস্তানির জীবন বাঁচাল?
উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে পাকিস্তানে ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন! যার ফলে প্রধান বাঁধগুলি থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়তে হয়েছে। গত রবিবার বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে ইসলামাবাদে পাঠানো সতর্কবার্তাই বাঁচিয়ে দিল পড়শি দেশকে। গত সোমবার ভারতের জারি করা প্রথম সতর্কবার্তায় ১৫০০০০ পাকিস্তানির প্রাণ বেঁচেছে। আর ভারতের এই উপকারের জেরেই পাকিস্তান সময়মতো তার নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে পাঠানোর সুযোগ পেয়েছে।
'আমরা গত মঙ্গলবার এবং আজ (বুধবার) আরেকটি সতর্কতাও জারি করেছি যে, তাওয়ি নদীতে বন্যার সম্ভাবনা বেশি। ভারতীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু বাঁধ খুলে দিতে হয়েছে' সূত্রকে উদ্ধৃত করে পিটিআই এই প্রতিবেদন করেছে। বিগত কয়েকদিন ধরেই পাকিস্তান প্রায় জলের তলায়। বন্যা সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। মূলত পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চল- খাইবার পাখতুনখাওয়া, গিলগিট-বালতিস্তান ও পঞ্জাব বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। লাগাতার বৃষ্টিতে সেখানে ঘরবাড়ি ভেসে গিয়েছে। হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া। গতবছরের তুলনায় এবছর পাকিস্তানে বৃষ্টি ও বন্যা অনেক বেশি হয়েছে।
ভারত-পাকিস্তান নদীর সিস্টেম
তাওয়ি নদী হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে পাকিস্তানে চেনাব নদীতে মেশার আগে জম্মু ডিভিশনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সাম্প্রতিক আপডেটে জানা গিয়েছে যে পাক সেনার সহায়তায় শতদ্রু, রাভি এবং চেনাবের আশেপাশের নীচু এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রেখেছে। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানকে শায়েস্তা করতে ভারত একাধিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আটারি চেকপোস্ট বন্ধ এবং পাকিস্তানিদের ভিসা বাতিল যেমন রয়েছে, তেমনই আছে সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি স্থগিত রাখা। পাকিস্তানকে জলে মারার নীল নকশাই করে ফেলেছে ভারত।
সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি
১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। ভারতের প্রধানমন্ত্রী তখন জওহরলাল নেহরু। টানা ৯ বছর ধরে চলে দর কষাকষি। শেষে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলবন্টন চুক্তিতে সই করেছিল ভারত। পাশাপাশি দুটি দেশ। কিন্তু কাঁটাতারের বেড়ায় ভূ-খণ্ডকে ভাগ করা গেলেও, নদীকে আটকানো যায় না। ভারত ও পাকিস্তানের বুক চিরে বয়ে গিয়েছে মোট ৬ নদী। সেই নদীগুলিকেই চলে আসে এই সিন্ধু জলবন্টন চুক্তির আওতায়। চুক্তি অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলীয় সাটলেজ, বিয়াস ও রাভী নদীর জল ভারতকে ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেয় পাকিস্তান। বিনিময়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর জল পায় পাকিস্তান। চুক্তিতে রয়েছে ১২টি ধারা ও ৮টি উপধারা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)