
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাশিয়ার সঙ্গে কাঁধ ঘষাঘষির জেরে (tensions over Russia ties India) আমেরিকা ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে (US imposed 50% tariffs on Indian exports)। কেন এই সংকট? ভারত আসলে আমেরিকাকে এদেশের কৃষি ও দুগ্ধশিল্পের ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার দিতে চাইছে না। এ বিষয়ে মার্কিন-প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। মনে করা হচ্ছে, ট্রাম্পের (US President Donald Trump)শুল্কবোমা এরই জের। কিন্তু ভারতের (India) উপর বিপুল শুল্ক চাপানোর পরে এর প্রতিক্রিয়া কী হচ্ছে?
শুল্কযুদ্ধ এবং বাণিজ্যচুক্তি
একটি পরিকল্পিত বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদলের ভারত সফর স্থগিত করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান শুল্কযুদ্ধ এবং কিছু রাজনৈতিক সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে মতবিরোধের কারণে এই সফর স্থগিত করা হয়। এর ফলে, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্যচুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার যে আশা ছিল, তা বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অগাস্ট ২৫ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের ভারতে আসার কথা ছিল। এটি ছিল প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (Bilateral Trade Agreement-- BTA) ষষ্ঠ দফার আলোচনা। কিন্তু, এই সফরটি সম্ভবত পুনরায় নির্ধারিত করা হবে। পরবর্তী তারিখ এখনও ঠিক হয়নি।
কেন ভেস্তে গেল?
মনে করা হচ্ছে, এই সফরের স্থগিতাদেশের পেছনে মূল কারণ হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভারতের উপর কঠোর শুল্ক আরোপ করা। সম্প্রতি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। এর ফলে ভারতের কিছু পণ্যের উপর মোট শুল্ক ৫০% পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। এই পদক্ষেপকে ভারত অযৌক্তিক এবং অন্যায্য বলে নিন্দা করেছে। মার্কিন প্রশাসন এই শুল্ক আরোপের পেছনে ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনাকে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
কোনও আপস
তবে, এটাই সব নয়। এই শুল্ক ছাড়াও, বাণিজ্য আলোচনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের কৃষি এবং দুগ্ধ ব্যবসাক্ষেত্রে আরও বেশি বাজারের সুযোগ চেয়েছে। কিন্তু ভারত বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা তাদের দেশের কৃষক এবং পশুপালকদের স্বার্থে কোনো ধরনের আপস করবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তাঁর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে দৃঢ়ভাবে দেশের এই অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেছেন।
বাণিজ্যঘাটতি
যদিও উভয় দেশই ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে $১৯১ বিলিয়ন থেকে $৫০০ বিলিয়নে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি নিশ্চিত ভাবে সেই লক্ষ্য পূরণের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত হওয়ার কারণে ভারত এখন শুল্ক মকুবের আশা প্রায় হারিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে চাপের মুখে রাখতে ভারতের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যঘাটতি কমাতে চাইছে। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং নতুন কোনো সময়সূচি নির্ধারিত না হওয়ায়, আগামী দিনের পথ এখনও অনিশ্চিত।
তনভি গুপ্ত জৈন
বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে। ইউবিএস-এর প্রধান ভারতীয় অর্থনীতিবিদ তনভি গুপ্ত জৈন সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আবার আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হন এবং শুল্ক আরোপ করেন, তাহলে ভারতের প্রায় ৩০-৩৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি ঝুঁকিতে পড়বে। কোন কোন ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে, তা-ও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, যেসব খাতে প্রভাব পড়বে: মূলত জুয়েলারি, ফার্মাসিউটিক্যালস, টেক্সটাইল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের মতো প্রধান রফতানি খাতগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বর্তমানে ভারত থেকে আমেরিকায় পণ্য রফতানির উপর গড় শুল্ক ৩.১%, কিন্তু ট্রাম্প এই শুল্ককে ১০% পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলেছেন। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের দাম বাড়বে এবং আমেরিকান বাজারে তাদের চাহিদা কমতে পারে। এর জেরে গ্লোবাল প্রভাব পড়বে। শুধু ভারত নয়, ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির কারণে বিশ্ববাণিজ্যও প্রভাবিত হতে পারে। এর ফলে আমেরিকা এবং তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হতে পারে।
ট্রাম্পীয় ব্যাখ্যা
সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছিলেন-- 'মনে রাখতে হবে, ভারত আমাদের বন্ধু হলেও আমাদের দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য খুবই কম। কারণ ওদের শুল্কহার খুব বেশি। তাছাড়াও, ওদের যুদ্ধাস্ত্রের অনেকটাই ওরা রাশিয়া থেকেই কেনে। রুশ শক্তিসম্পদের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ভারত এবং চিন। বিশেষ করে সেই সময়ে, যখন কি না সকলে বলছে, রাশিয়ার উচিত ইউক্রেনে গণহত্যা বন্ধ! যাই হোক, এসবের জন্যই ভারত এবার ২৫ শতাংশ শুল্ক দেবে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার শাস্তিও পেতে হবে ভারতকে।' যদিও পরে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান ট্রাম্প। যার জেরে শুল্ক দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ!
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)