)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পুলিস ও মদ পাচারকারীদের মধ্যে তীব্র গুলি বর্ষণ। ভয়ংকর সংঘর্ষের মাঝে আটকে পড়লেন ভারতীয় যুবক। বেঘোরে প্রাণ হারায় ২৭ বছরের বিজয় কুমার মাহাতো। জানা গিয়েছে, বিজয় ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। গত নয় মাস ধরে দুবাইয়ের একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে টাওয়ার লাইন ফিটার হিসেবে কাজ করছিলেন।
বিজয় হুয়ান্ডাই ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন সিনিয়েরের আদেশে তিনি সাইটে মালপত্র সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। সেই সময় সেখানে স্থানীয় পুলিস মাদকবিরোধী অভিযানের সময় গুলি চালায়।
দুর্ভাগ্যবশত, বিজয় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং দুর্ঘটনায় পুলিস তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাঁকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু ২৪ অক্টোবর তিনি মারা যান। বিজয় তাঁর স্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভয়েস নোট পাঠিয়েছিলেন, যেখানে তিনি জানিয়েছিলেন যে তিনি ক্রসফায়ারে আহত হয়েছেন। তাঁর পরিবার প্রথমে ভেবেছিল তিনি আহত হলেও বেঁচে আছেন।
সামাজিক কর্মী সিকন্দর আলি বলেন, 'তিনি হোয়াটসঅ্যাপে তার স্ত্রী বাসন্তী দেবীকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ক্রসফায়ারে ধরা পড়েছেন এবং আহত হয়েছেন।' গোলাগুলির ঘটনা জেদ্দা পুলিসের এবং অবৈধ মদ পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত একটি গ্যাংয়ের মধ্যে সংঘটিত হয়।
বাসন্তী দেবী তখন তাঁর শ্বশুর-শাশুড়িকে ঘটনাটির ব্যাপারে জানান। কিন্তু তারা ভেবেছিলেন তিনি চিকিৎসাধীন। ২৪ অক্টোবর কোম্পানি বিজয়ের পরিবারকে জানায় যে তিনি শুটআউটে মারা গিয়েছেন।
ঘটনার পরে ডুমরি বিধায়ক জয়রম কুমার মাহাতো ভারতের সৌদি আরব দূতাবাসকে চিঠি লিখে পূর্ণ তদন্তের দাবি করেন। চিঠিতে তিনি বলেন, বিজয়ের মৃত্যুর বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা উচিত এবং দ্রুত তার দেহ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা উচিত। তিনি দূতাবাসকে পরিবারের জন্য আইনগত ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ঝাড়খণ্ড শ্রম দফতরের কর্মকর্তারা জানান, তারা সৌদি আরবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজয়ের মৃতদেহ ফিরিয়ে আনার কাজ করছেন। মাইগ্র্যান্ট কন্ট্রোল সেলের টিম লিডার শিখা লক্ষ্মী প্রকাশ করেছেন যে, দফতর ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য ও গিরিদিহ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পেয়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং জেদ্দা পুলিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি, যাতে দেহ বাড়ি ফিরিয়ে আনা যায়।'
ক্ষতিপূরণের দাবি:
সামাজিক কর্মী আলি বলেন, তিনি রাজ্য শ্রম দফতর ও গিরিদিহ জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন যাতে বিজয়ের পরিবারকে সহায়তা করা যায় এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবি করা যায়। বিজয়ের পরিবারে আছেন তাঁর স্ত্রী বাসন্তী দেবী, সন্তান ঋষি কুমার (৫) ও রোশন কুমার (৩), পিতা সূর্যনারায়ণ মাহাতো এবং মা স্বাত্রী দেবী।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)