)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতীয় পরিবহণে যুগান্তকারী ঘটনা। আগামী ২৬ জানুয়ারি ভারতীয় রেলে ঘটতে চলেছে এক অত্যাশ্চর্য ঘটনা। ভারত চালাতে চলেছে তার প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন (India's First Hydrogen Train)। এটাকে নতুন দিনের গ্রিন মোবিলিটির ক্ষেত্রে এক ল্যান্ডমার্ক বলে মনে করা হচ্ছে (landmark move in green mobility)। ট্রায়ালরানের জন্য উম্মুখ হয়ে আছে গোটা দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Prime Minister Narendra Modi) প্রত্যাশা করছেন, চলতি মাসেই এটা চালু করা সম্ভব হবে। কোন রুটে চলবে?
হাইড্রোজেন ট্রেন
হরিয়ানার জিন্দ-সোনিপত ৯০ কিমি রুটে প্রথম ট্রায়াল হবে এই ট্রেনের। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, প্রতি ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১৪০ কিমি বেগে চলবে ট্রেন। ফলে, ৯০ কিমি পেরোতে এই ট্রেন সময় নেবে মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যেই। এখন এই পথ পেরোতে সময় লাগে ২ ঘণ্টা।
যৌথ ট্রায়াল
ভারতীয় রেলওয়ে 'রিসার্চ ডিজাইনস অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন' (Research Designs and Standards Organisation) তথা 'আরডিএসও' (RDSO) এবং স্প্যানিশ পার্টনার 'গ্রিন এইচ' (Green H)-এর সঙ্গে মিলে তাদের এই প্রথম পরীক্ষামূলক ট্রায়াল সম্পন্ন করছে। ট্রেনটি দুটি ড্রাইভার পাওয়ার কার এবং আটটি প্যাসেঞ্জার কোচ নিয়ে ছুটবে। পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত একটি যৌথ প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। যার ভিত্তিতে হাইড্রোজেন রেল পরিষেবা ব্যাপকভাবে চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঘণ্টায় ১৫০ কিমি
তবে, ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিবেগে চলার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এই ট্রেনটি। এটি একটি ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল (তড়িৎ-রাসায়নিক) প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এতে জল থেকে হাইড্রোজেন তৈরি হবে। প্রায় ৯ লিটার জল থেকে উৎপন্ন ৯০০ গ্রাম হাইড্রোজেন ট্রেনটিকে এক কিলোমিটার পথ চলতে সাহায্য করবে। এই সিস্টেমে ৩০০০ কিলোগ্রাম হাইড্রোজেন এবং ৭৬৮০ কিলোগ্রাম অক্সিজেন সঞ্চয় করা যায়।
নিরবিচ্ছিন্ন জ্বালানি
স্প্যানিশ কারিগরি সহায়তায় হরিয়ানার জিন্দে ভারতের বৃহত্তম হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। জ্বালানি উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখতেই এই ব্যবস্থা। এই কেন্দ্রে ১.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
১২০০ ঘোড়া-শক্তিতে
চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে কোচগুলি তৈরি করা হয়েছে। ট্রেনটিতে উভয় প্রান্তে ১২০০ হর্স পাওয়ার ইঞ্জিনের ডুয়াল ড্রাইভার কার রয়েছে। এর ফুয়েল সেল ৩৭৫০-অ্যাম্পিয়ার ডিসি (DC) কারেন্ট তৈরি করে, যা ট্রেনের লাইট, ফ্যান এবং এয়ার-কন্ডিশনিং ব্যবস্থা-সহ অনবোর্ড সিস্টেমগুলি চালাবে। এছাড়া এতে স্বয়ংক্রিয় দরজা এবং ডিজিটাল প্যাসেঞ্জার ডিসপ্লে থাকছে।
২৫০০ যাত্রী
রেল কর্মকর্তাদের মতে, পরিষেবাটি প্রাথমিকভাবে ১১০ থেকে ১৪০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে জিন্দ-সোনিপত যাত্রা সম্পন্ন করতে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লাগবে, যা বর্তমানে এই রুটে চলাচলকারী ডিজেল মাল্টিপল ইউনিট (DMU) ট্রেনের তুলনায় ১ ঘণ্টা কম। এই রেলপথে ছটি স্টেশন রয়েছে। ভাড়া ৫ টাকা থেকে ২৫ টাকার মধ্যে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রেনটির যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় ২৫০০। এরকম একটি ট্রেন নির্মাণে খরচ পড়ছে ৮৯ কোটি টাকা।
একনজরে হাইড্রোজেন ট্রেন
কোথায় তৈরি হচ্ছে: ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি (ICF), চেন্নাই
ইঞ্জিনের ক্ষমতা: দুই প্রান্তে ১২০০ হর্স পাওয়ার
সময়ের সাশ্রয়: জিন্দ-সোনিপত যাত্রার সময় এক ধাক্কায় ২ ঘণ্টা থেকে কমে হবে ১ ঘণ্টা
ভাড়া: সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা
যাত্রী ধারণক্ষমতা: ২৫০০
নির্মাণের খরচ: ৮৯ কোটি টাকা
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)