)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বড়সড় ঝড়ের মুখে ইন্ডাসইন্ড ব্যাংক। কারণ হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগে। ব্যাংকের প্রাক্তন চিফ ফাইনান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) গোবিন্দ জৈন দাবি করেছেন, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যাংকের ট্রেজারি কার্যক্রমে প্রায় ২,৬০০ কোটি টাকার অনিয়ম চলছে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে ২৬ আগস্ট একটি চিঠি থেকে, যা জৈন পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে (পিএমও)। ওই চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগে বছরের পর বছর ধরে গুরুতর অনিয়ম চলছে এবং এই বিষয়ে নিয়মিতভাবে আপত্তি জানানোর একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন তিনিই।
গোবিন্দ জৈনের অভিযোগ কেবল আর্থিক অনিয়মেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ব্যাংকের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের আচরণকেও আঙুল তুলেছে। তাঁর দাবি, ব্যাংকের কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা—বিশেষ করে বোর্ড চেয়ারম্যান সুনীল মেহতা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা—প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এক ধরনের “ভয়ের পরিবেশ” তৈরি করেছিলেন। জৈনের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলতেই তাঁকে ইচ্ছে করেই নিশানা বানানো হয়, অথচ আসল দোষীদের রক্ষা করা হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন দেখা যায়, তাঁকে সমর্থন করা কর্মচারীরাও ধীরে ধীরে সংগঠন থেকে উপেক্ষিত হয়ে পড়েন।
“অমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”: ইন্ডাসইন্ড ব্যাংকের অস্বীকার
ইন্ডাসইন্ড ব্যাংক গোবিন্দ জৈনের আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে। ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযোগগুলো “অমূলক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। ব্যাংকের দাবি, ডেরিভেটিভস, মাইক্রোফাইন্যান্স এবং অন্যান্য রাজস্ব খাতে হিসাব-নিকাশে যে অনিয়ম হয়েছিল, তা ইতিমধ্যেই ২০২৫ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে শেয়ার বাজারে প্রকাশ করা হয়েছে।
ব্যাংক আরও জানিয়েছে, বাইরের সংস্থার মাধ্যমে স্বাধীন তদন্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতারণা সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস (SFIO) এবং মুম্বই পুলিশের ইকোনমিক অফেন্স উইং (EOW)-এ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকে গুরুত্বহীন করে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে ব্যাংক কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে জানিয়েছে যে তাদের বোর্ড সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছে, আর জৈন চলমান তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
২,৬০০ কোটি টাকার ধাক্কা ও বাজারে বিপর্যয়
হিন্দুজা গ্রুপের মালিকানাধীন ইন্ডাসইন্ড ব্যাংক চলতি বছরের মার্চ মাসে বেশ কিছু আশঙ্কাজনক জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ করে, যার ফলে ত্রৈমাসিক ক্ষতি দাঁড়ায় প্রায় ₹২,০০০ কোটি টাকা।
অডিটররা আরও চিহ্নিত করেন যে, ব্যাংকের হিসাবে প্রায় ₹২,৬০০ কোটি টাকার অনিয়ম রয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল—
মাইক্রোফাইন্যান্স ঋণ থেকে আয়ের হিসাব ফুলিয়ে দেখানো
সম্পদ ও দায়ের ভুল শ্রেণিবিভাগ
অভ্যন্তরীণ ডেরিভেটিভস লেনদেন থেকে কৃত্রিমভাবে দেখানো প্রায় ₹১,৯৬০ কোটি টাকার লাভ মুছে ফেলা
এইসব অনিয়মের প্রভাব ছিল ভয়াবহ। ঘোষণার পরের দিনই শেয়ারবাজারে ইন্ডাসইন্ড ব্যাংকের শেয়ারের দাম এক লাফে ২৭ শতাংশ ধসে পড়ে— ১৯৯৭ সালে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় একদিনের পতন।
ব্যাংকের প্রাক্তন সিএফও গোবিন্দ জৈন, যিনি জানুয়ারিতে পদত্যাগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ব্যাংকের চেয়ারম্যান সুনীল মেহতাকে অপসারণ করার দাবি জানিয়েছেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)