জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন। আর যুদ্ধের আগুনের সেই আঁচ খুব শিগগিরই ভারতের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার বদলায় ইরান দাবি করেছে তারা হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনও জাহাজ গেলেই, তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। এখন বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশেরও বেশি এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। মধ্য়প্রাচ্যের সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং কুয়েতের মতো প্রধান তেল উৎপাদক দেশগুলির তেল রফতানিও এই পথেই হয়। পাশাপাশি, কাতারের অধিকাংশ এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রফতানিও এই রুট দিয়ে হয়। ফলে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকলে, তেল ও গ্যাস বাণিজ্যে বড়সড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা।
Add Zee News as a Preferred Source
এখন এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে ভারত সরকার ইতিমধ্যেই একটি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করেছে বলে খবর। যাতে পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজি-সহ প্রয়োজনীয় জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি থেকে সাধারণ মানুষকে রেহাই দেওয়া যায়। ভারত পেট্রোল ও ডিজেলের রফতানি সীমিত করার পাশাপাশি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। যদি হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকে, সেক্ষেত্রে এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে তা মোকাবিলায় এলপিজি রেশনিং চালুর কথাও ভাবা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ চার সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। যার জেরে বাজারদরে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে ভারতের অয়েল মিনিস্টার হারদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, সরকার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের যোগান ও মূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরপ্রেক্ষিতে সোমবারই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক একটি জরুরি বৈঠক করে। সেখানে অপরিশোধিত তেল, এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
বলাই বাহুল্য যে, যুদ্ধের জেরে সোমবারই তেল ও গ্যাসের দামে ব্যাপক বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছয়। ইউরোপে গ্যাসের দাম ৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। সৌদি আরবের রাস তানুরা রিফাইনারি এবং কাতারের একটি এলএনজি প্ল্যান্ট-সহ একাধিক জ্বালানি কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইরান। যার জেরে বন্ধ উৎপাদন। আর তার জেরেই বিশ্বব্যাপী তেল ও জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা। উল্লেখ্য, ভারতের প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশ এলপিজি আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।
এই পরিস্থিতিতে, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা যেমন ইন্ডিয়ান অয়েল, এইচপিসিএল ও বিপিসিএল একযোগে দেশের পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারিগুলিতে এলপিজি উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছে। সেইসঙ্গে চাহিদা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও বিবেচনা করছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে যাঁরা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে পারেন, তাঁদের জন্য এলপিজি সরবরাহ সীমিত করার কথা ভাবা হচ্ছে।
আরও পড়ুন, Iran Israel War: তৃতীয় দিনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ! কোন দেশ কার পক্ষে? ইরানের হয়ে ময়দানে নামল কারা?
আরও পড়ুন, Iran Israel War: চোখে চোখ রেখে আমেরিকা-ইসরায়েলকে জবাব দিতে ইরানের হাতে কী কী ভয়ংকর অস্ত্র?
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)