)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ফের পাহাড়ে বিভীষিকা! উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) পর এবার জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir)। মেঘভাঙা (Cloudburst) বৃষ্টিতে (Heavy Rain) নামল হড়পা বান (Flash Floods)J বহু প্রাণহানির আশঙ্কা। মৃতের পাহাড় দেখবে পাহাড়? উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার ধারালি (Uttarakhand's Uttarkashi Dharali) এখনও আতঙ্ক হয়ে জেগে আছে। আর তার আগেই ফের এই বিপর্যয়। মাচেইল মাতার যাত্রা (Machail Mata Yatra) এখান থেকেই শুরু হয়।
ভূস্বর্গে হড়পা
এবার জম্মু-কাশ্মীরে মেঘভাঙা বৃষ্টি, আর তার জেরে নামল হড়পা বান। ধুয়েমুছে গেল একটা লঙ্গর। বহু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে এখনই। এদিন জম্মু-কাশ্মীরের কিস্তওয়ার জেলায় পাদ্দার সোতি এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে হড়পা বান নামে। কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের চোসিতি এলাকায় এই মেঘভাঙা বৃষ্টি নেমেছে। যার কারণে বড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। মাচেইল মাতার যাত্রা এখান থেকেই শুরু হয়। উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
আবহাওয়া
কিস্তওয়ারের ডেপুটি কমিশনার জানান, হড়পা বানে লঙ্গরখানা ভেসে গিয়েছে। প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনও হতাহতের সংখ্য়া সরকারিভাবে জানা যায়নি। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড. জীতেন্দ্র সিং ইতিমধ্যেই পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছেন। ওদিকে শ্রীনগরের মৌসম বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, আজ, বৃহস্পতিবার দিনভর মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে ওখানে। সঙ্গে ঝড়, বজ্রপাতের আশঙ্কাও রয়েছে। জানানো হয়েছে, কুপওয়াড়া, বারামুল্লা, বান্দিপোরা, শ্রীনগর, গান্দেরবাল, পুঞ্চ, রাজৌরি, রিয়াসি, জম্মু, উধমপুর, জম্মু, ডোডা ও কিস্তওয়ারে ভারী বৃষ্টিপাত হবে।
ধারালি বিভীষিকা
কদিন আগেই ধারালি বিপর্যয় ঘটে। সেখানে যাঁরা উদ্ধারকাজ করেছেন, তাঁরা পর্যন্ত এই দুর্যোগের বিভীষিকায় হতবাক, ভীত। উত্তরাখণ্ড হাসপাতালে যাঁরা ভর্তি তাঁরাও খুব ট্রমাটাইজড বলে জানা গিয়েছে। স্রোতের ভয়ংকর ধাক্কায় জীবন্ত মানুষগুলি প্রায় ৫০০ ফুট দূরে ছিটকে পড়েছিলেন সেখানে। তখনই আর তাঁদের শরীরে কিছু নেই। প্রাণটুকু কোনও রকমে ধুকপুক করছিল! বা তা-ও তখন নেই হয়তো! কারও ফুসফুসে কাদা, কারও গলায় পাথর, কারও শিরদাঁড়া-পাঁজর গুঁড়ো-গুঁড়ো হয়ে গিয়েছে, কারও মাথা ভেঙে গিয়েছে, কারও বুক ফেটে গিয়েছে, কারও পা নেই! ভয়ংকর! যাঁরা বেঁচে গিয়েছেন তাঁদের শরীরের পাশাপাশি মনও গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গিয়েছে।
ধারালি প্লাবন
প্রতি বর্ষাতেই কখনও হিমাচল, কখনও উত্তরাখণ্ড ক্লাউডবার্স্ট, ফ্ল্যাশফ্লাডে, বৃষ্টি-ধসে ব্যতিব্যস্ত থাকে বিস্তীর্ণ হিমালয়। এবারও ছবিটা প্রায় একই। এবার কদিন আগে উত্তরকাশীতে ভয়ংকর প্লাবন নামল ধারালি গ্রামের কাছের ক্ষীরগঙ্গায়। সেদিন ভয়ংকর প্লাবন ঘটে উত্তরাখণ্ডের ক্ষীরগঙ্গায়। ভয়াবহ ক্লাউডবার্স্টে ভেসে গিয়েছিল ধারালি। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছিল, ভয়াল সেই বন্যায় ধারালির ২৫টির মতো হোটেল-হোমস্টে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছেন। বন্যায় ধারালি মার্কেটের বিপুল ক্ষতি হয়। চারিদিকে সেদিন শুধু ধ্বংসস্তূপ। লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যান। ক্ষীরগঙ্গার ধারেই ছিল প্রাচীন কল্পা কেদার মন্দির। সেই মন্দিরও ঢাকা পড়ে যায়। ক্ষীরগঙ্গার ধারের এই মন্দির হিমালয়ের অতি প্রাচীন শিবমন্দির। গঙ্গোত্রীধামে যেতে এই ধারালিতে থামেন তীর্থযাত্রীরা। হরশিলের কাছেই এই ধারালি। আশঙ্কা হয়েছিল প্রচুর মানুষের মৃত্যু ঘটবে এতে। মৃত্যু ঘটেছে। এবং প্রতিটি মৃত্যুই সমান দুঃখজনক। তবে, বলতে বাধা নেই, যত মানুষের মৃত্য়ু হতে পারত, তত মানুষ মারা যাননি! এত বড় বিপর্যয় ঘটলেও উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার ধারালি গ্রামের অর্ধেক মানুষই প্রাণে বেঁচে গেলেন। যার কারণ সেদিনের এক বিশেষ আচার।
সর্পদেবীর স্বপ্ন ও একটি অলৌকিক গল্প
এর মধ্যে এক আশ্চর্য ঘটনাও ঘটেছে! সেদিনের সেই আকস্মিক বন্যার কয়েক ঘণ্টা আগে ধারালি গ্রামের অধিকাংশ গ্রামবাসী দেবী কৈলা কুঁয়ার মন্দিরে জড়ো হয়েছিলেন। কারণ, গ্রামবাসীর দাবি ছিল, স্থানীয় ওই দেবতা তাঁদের স্বপ্নে দেখা দিয়েছিলেন এবং আসন্ন এক বিপদ সম্পর্কে তাঁদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তখন দেবতাকে খুশি করতে এবং তাঁর আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য গ্রামবাসীরা সেদিন তখন ওই মন্দিরে পূজা-অর্চনা করছিলেন। ওই দেবী সর্পদেবী হিসেবে পূজিতা হন। আর সেদিন যখন গ্রামবাসীরা দেবী কৈলা কুঁয়ার মন্দিরে পুজো করছিলেন, ঠিক সেই সময় আকস্মিক আঘাত হানে ওই ভয়ংকর বন্যা। গ্রামের বহু বাড়ি এবং গৃহসম্পত্তি ভেসে যায়। তবে গ্রামবাসীরা, যাঁরা মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাঁরা সকলেই রক্ষা পান। এর পর ওই দেবীর অলৌকিকতা মুখেমুখে প্রচার হয়ে যায়। ঘটনাটি দেখায়, কীভাবে ঈশ্বরবিশ্বাস এবং এর সঙ্গে বিজড়িত ধর্মসংস্কৃতি মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে, হয়ে ওঠে। আর এমনটা যদি তখন ঘটে যখন তারা প্রাকৃতিক কোনও দুর্যোগের মুখোমুখি হয় এবং তার কবল থেকে রক্ষা পায়। যেমন, সেদিন ঘটেছিল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)