)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। ফের পাহাড়ে বিভীষিকা! উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) পরে জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir)। মেঘভাঙা (Cloudburst) বৃষ্টিতে (Heavy Rain) নামল ভয়ংকর হড়পা (Flash Floods)। বহু প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। সেই আশঙ্কাই সত্য হতে চলেছে। এখনই মৃতের সংখ্যা ৩৪ জন! আহত ৩৫ জন! আর কত মৃতমুখ দেখবে পাহাড়? উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার ধারালি (Uttarakhand's Uttarkashi Dharali) এখনও আতঙ্ক হয়ে জেগে আছে। আর তার আগেই ফের এই বিপর্যয়।
৩৪ মৃত্যু
কাশ্মীরের কিস্তওয়ার থেকে মর্মান্তিক খবরের বন্যা। একের পর এক বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। কিস্তওয়ারের ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার পঙ্কজ কুমার শর্মা জানিয়েছেন, 'আমরা এখনও পর্যন্ত ৩৪টি দেহ খুঁজে পেয়েছি। ৩৫ জন আহতকেও উদ্ধার করতে পেরেছি। আশঙ্কা করছি, আরও বডি হয়তো আমাদের উদ্ধার করতে হতে পারে।'
৩৪টি দেহ এখনই মিলেছে, আহত ৩৫! মৃত্যু কি বাড়বে? কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সংখ্যাটা?
ভূস্বর্গে হড়পা
জম্মু-কাশ্মীরে মেঘভাঙা বৃষ্টি হল। তার জেরে নামল হড়পা বান। ধুয়েমুছে গেল একটা লঙ্গর। বহু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছিলই। এদিন জম্মু-কাশ্মীরের কিস্তওয়ার জেলায় পাদ্দার সোতি এলাকার এই মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে হড়পা বান নেমেছিল। কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছিল তখন। তবে, মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। জানা গিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের চোসিতি এলাকায় এই মেঘভাঙা বৃষ্টি নেমেছিল। যে কারণে বড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছিল। সেটাই ঘটেছে। প্রসঙ্গত, মাচেইল মাতার যাত্রা এখান থেকেই শুরু হয়। উদ্ধারকারী দল সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন।
আবহাওয়া
কিস্তওয়ারের ডেপুটি কমিশনার তখনই জানিয়েছিলেন, হড়পা বানে লঙ্গরখানা ভেসে গিয়েছে। প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তখনও অবশ্য হতাহতের সংখ্য়া সরকারিভাবে জানা যায়নি। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড. জীতেন্দ্র সিং তখনই পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছিলেন। শ্রীনগরের মৌসম বিভাগের তরফে জানানো হয়েছিল, বৃহস্পতিবার দিনভর মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সঙ্গে ঝড়, বজ্রপাতের আশঙ্কা। জানানো হয়েছিল, কুপওয়াড়া, বারামুল্লা, বান্দিপোরা, শ্রীনগর, গান্দেরবাল, পুঞ্চ, রাজৌরি, রিয়াসি, জম্মু, উধমপুর, জম্মু, ডোডা ও কিস্তওয়ারে ভারী বৃষ্টিপাত হবে।
ধারালি বিভীষিকা
প্রসঙ্গত, কদিন আগেই ধারালি বিপর্যয় ঘটে। সেখানে যাঁরা উদ্ধারকাজ করেছেন, তাঁরা পর্যন্ত এই দুর্যোগের বিভীষিকায় হতবাক, ভীত। উত্তরাখণ্ড হাসপাতালে যাঁরা ভর্তি তাঁরাও খুব ট্রমাটাইজড বলে জানা গিয়েছে। স্রোতের ভয়ংকর ধাক্কায় জীবন্ত মানুষগুলি প্রায় ৫০০ ফুট দূরে ছিটকে পড়েছিলেন সেখানে। তখনই আর তাঁদের শরীরে কিছু নেই। প্রাণটুকু কোনও রকমে ধুকপুক করছিল! বা তা-ও তখন নেই হয়তো! কারও ফুসফুসে কাদা, কারও গলায় পাথর, কারও শিরদাঁড়া-পাঁজর গুঁড়ো-গুঁড়ো হয়ে গিয়েছে, কারও মাথা ভেঙে গিয়েছে, কারও বুক ফেটে গিয়েছে, কারও পা নেই! ভয়ংকর! যাঁরা বেঁচে গিয়েছেন তাঁদের শরীরের পাশাপাশি মনও গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গিয়েছে। প্রতি বর্ষাতেই কখনও হিমাচল, কখনও উত্তরাখণ্ড ক্লাউডবার্স্ট, ফ্ল্যাশফ্লাডে, বৃষ্টি-ধসে ব্যতিব্যস্ত থাকে বিস্তীর্ণ হিমালয়। এবারও ছবিটা প্রায় একই। এবার কদিন আগে উত্তরকাশীতে ভয়ংকর প্লাবন নামল ধারালি গ্রামের কাছের ক্ষীরগঙ্গায়। সেদিন ভয়ংকর প্লাবন ঘটে উত্তরাখণ্ডের ক্ষীরগঙ্গায়। ভয়াবহ ক্লাউডবার্স্টে ভেসে গিয়েছিল ধারালি। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছিল, ভয়াল সেই বন্যায় ধারালির ২৫টির মতো হোটেল-হোমস্টে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছেন। বন্যায় ধারালি মার্কেটের বিপুল ক্ষতি হয়। চারিদিকে সেদিন শুধু ধ্বংসস্তূপ। লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যান। ক্ষীরগঙ্গার ধারেই ছিল প্রাচীন কল্পা কেদার মন্দির। সেই মন্দিরও ঢাকা পড়ে যায়। ক্ষীরগঙ্গার ধারের এই মন্দির হিমালয়ের অতি প্রাচীন শিবমন্দির। গঙ্গোত্রীধামে যেতে এই ধারালিতে থামেন তীর্থযাত্রীরা। হরশিলের কাছেই এই ধারালি। আশঙ্কা হয়েছিল প্রচুর মানুষের মৃত্যু ঘটবে এতে। মৃত্যু ঘটেছে। এবং প্রতিটি মৃত্যুই সমান দুঃখজনক। তবে, বলতে বাধা নেই, যত মানুষের মৃত্য়ু হতে পারত, তত মানুষ মারা যাননি! এত বড় বিপর্যয় ঘটলেও উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার ধারালি গ্রামের অর্ধেক মানুষই প্রাণে বেঁচে গেলেন। যার কারণ সেদিনের এক বিশেষ আচার।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)