জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ফের পাহাড়ে বিভীষিকা! উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) পর আবার জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir)। মেঘভাঙা (Cloudburst) বৃষ্টিতে নামল ভয়ংকর হড়পা বান (Flash Floods)। এবার কাঠুয়ায় মারণবাণ (Kathua cloudburst)। বহু প্রাণহানির আশঙ্কা। উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীর ধারালি (Uttarakhand's Uttarkashi Dharali)-র পরে ফের আতঙ্ক পাহাড়ে। আর তার আগেই ফের এই বিপর্যয়।
Add Zee News as a Preferred Source
আরও পড়ুন: Premanand Maharaj on Janmashtami: জন্মাষ্টমীর রাতে এই কাজটি করলেই মুহূর্তে মুছে যাবে বিগত ১০০ জন্মের জমে থাকা পাপ! বলছেন স্বামী প্রেমানন্দ মহারাজ...
কিস্তওয়ারের পরে কাঠুয়া
জম্মু-কাশ্মীরে ফের মেঘভাঙা বৃষ্টি। নামল ভয়ংকর হড়পা বান। কিস্তওয়ারের পরে এবার বড় বিপর্যয় কাঠুয়া জেলায়। মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং তার জেরে হড়পা বানে মৃত্যু এখনও পর্যন্ত ৭ জনের। জলের স্রোতে ভেসে কমপক্ষে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক খবর মিলেছিল। শনিবার মধ্যরাত থেকে রবিবার ভোরের মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলার একটি গ্রামে মেঘভাঙা বৃষ্টি নামে। লাগাতার বৃষ্টিতে এর পরই আসে হড়পা বান। ভেসে যায় গ্রামের একাংশ। রেললাইন থেকে শুরু করে ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়ক হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে বলে খবর। এখনও পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত বহু। বহু মানুষ জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সতর্কতা
আবহাওয়া দফতর জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। কাঠুয়া জেলায় আজ, রবিবার থেকে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। যেহেতু নদীর জলস্তর বেড়ে হড়পা বান ও ধসের সম্ভাবনা রয়েছে, সেহেতু নদী বা নালার তীরে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে, ধস প্রবণ এলাকাগুলিও এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
প্রশাসনিক
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জীতেন্দ্র যাদব, যিনি জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুরের সাংসদও, জানিয়েছেন, মেঘভাঙা বৃষ্টিতে একটি পুলিস স্টেশন, ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ও রেলওয়ে ট্র্যাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজও শুরু হয় দ্রুত। উদ্ধার অভিযানে নামে সেনা ও প্যারামিলিটারি ফোর্স। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও এই ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি শোকপ্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তিনি আধিকারিকদের দ্রুত উদ্ধারকাজের নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: Janmashtami Zodiacs 2025: এই জন্মাষ্টমীতে তিন যোগের মহা-যোগ! শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদে অপ্রত্যাশিত অর্থপ্রাপ্তি, সৌভাগ্যের তুঙ্গে ৩ রাশি...
ভূস্বর্গে হড়পা
জম্মু-কাশ্মীরে মেঘভাঙা বৃষ্টি, আর তার জেরে নেমেছিল হড়পা বান। ধুয়েমুছে গিয়েছিল লঙ্গর। বহু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছিল। জম্মু-কাশ্মীরের কিস্তওয়ার জেলায় পাদ্দার সোতি এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে হড়পা বান নামে। কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের চোসিতি এলাকায় এই মেঘভাঙা বৃষ্টি নেমেছে। যার কারণে বড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। মাচেইল মাতার যাত্রা এখান থেকেই শুরু হয়। উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
আবহাওয়া
কিস্তওয়ারের ডেপুটি কমিশনার জানান, হড়পা বানে লঙ্গরখানা ভেসে গিয়েছিল। বহু প্রাণহানির হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড. জীতেন্দ্র সিং সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছিলেন। ওই সময়ে দিনভর মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। সঙ্গে ঝড়, বজ্রপাতের আশঙ্কাও ছিল। আতঙ্ক ছিল কুপওয়াড়া, বারামুল্লা, বান্দিপোরা, শ্রীনগর, গান্দেরবাল, পুঞ্চ, রাজৌরি, রিয়াসি, জম্মু, উধমপুর, জম্মু, ডোডায়।
ধারালি বিভীষিকা
এর কদিন আগেই ধারালি বিপর্যয় ঘটে। সেখানে যাঁরা উদ্ধারকাজ করেছেন, তাঁরা পর্যন্ত এই দুর্যোগের বিভীষিকায় হতবাক, ভীত। উত্তরাখণ্ড হাসপাতালে যাঁরা ভর্তি তাঁরাও খুব ট্রমাটাইজড বলে জানা গিয়েছে। স্রোতের ভয়ংকর ধাক্কায় জীবন্ত মানুষগুলি প্রায় ৫০০ ফুট দূরে ছিটকে পড়েছিলেন সেখানে। তখনই আর তাঁদের শরীরে কিছু নেই। প্রাণটুকু কোনও রকমে ধুকপুক করছিল! বা তা-ও তখন নেই হয়তো! কারও ফুসফুসে কাদা, কারও গলায় পাথর, কারও শিরদাঁড়া-পাঁজর গুঁড়ো-গুঁড়ো হয়ে গিয়েছে, কারও মাথা ভেঙে গিয়েছে, কারও বুক ফেটে গিয়েছে, কারও পা নেই! ভয়ংকর! যাঁরা বেঁচে গিয়েছেন তাঁদের শরীরের পাশাপাশি মনও গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গিয়েছে। প্রতি বর্ষাতেই কখনও হিমাচল, কখনও উত্তরাখণ্ড ক্লাউডবার্স্ট, ফ্ল্যাশফ্লাডে, বৃষ্টি-ধসে ব্যতিব্যস্ত থাকে বিস্তীর্ণ হিমালয়। এবারও ছবিটা প্রায় একই। এবার কদিন আগে উত্তরকাশীতে ভয়ংকর প্লাবন নামল ধারালি গ্রামের কাছের ক্ষীরগঙ্গায়। সেদিন ভয়ংকর প্লাবন ঘটে উত্তরাখণ্ডের ক্ষীরগঙ্গায়। ভয়াবহ ক্লাউডবার্স্টে ভেসে গিয়েছিল ধারালি। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছিল, ভয়াল সেই বন্যায় ধারালির ২৫টির মতো হোটেল-হোমস্টে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছেন। বন্যায় ধারালি মার্কেটের বিপুল ক্ষতি হয়। চারিদিকে সেদিন শুধু ধ্বংসস্তূপ। লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যান। ক্ষীরগঙ্গার ধারেই ছিল প্রাচীন কল্পা কেদার মন্দির। সেই মন্দিরও ঢাকা পড়ে যায়। ক্ষীরগঙ্গার ধারের এই মন্দির হিমালয়ের অতি প্রাচীন শিবমন্দির। গঙ্গোত্রীধামে যেতে এই ধারালিতে থামেন তীর্থযাত্রীরা। হরশিলের কাছেই এই ধারালি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)