)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শুক্রবার ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনাটি গোটা এলাকা স্তম্ভিত করে দিয়েছে। ৩২ বছর বয়সী স্কুল শিক্ষিকা সঞ্জু বিষ্ণোই নিজের তিন বছরের নিরীহ মেয়ে যশস্বীকে নিয়ে আগুনে পুড়ে আত্মহত্যা করেন। শুক্রবার ঘটনাস্থলেই ছোট্ট যশস্বীর মৃত্যু হয় এবং মারাত্মকভাবে দগ্ধ সঞ্জুও শনিবার সকালে এমজিএইচ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ঘটনাটি ঘটেছে যোধপুর জেলার দাংগিয়াওয়াস থানার অন্তর্গত সারনাদা গ্রামে।
ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন সঞ্জু
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে ছুটি নিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরেন সঞ্জু। বাড়িতে একটি চেয়ারে বসে তিনি নিজের ও মেয়ের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যেই দু’জনই আগুনে জড়িয়ে পড়েন। তখন বাড়িতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন না। গ্রামবাসীরা ঘর থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পরিবার ও পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে গিয়েছিল।
মৃতদেহ নিয়ে দ্বন্দ্ব
ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশুটি। শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সঞ্জুও মারা যান। এর পর মৃতদেহ নিয়ে স্বামীর পরিবার ও বাবার বাড়ির মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ বাবার বাড়ির হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং মা-মেয়ের একসঙ্গে দাহসংস্কার সম্পন্ন হয়।
শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ
মৃতার পরিবার এই ঘটনাকে পণের জন্য নির্যাতন বলে দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, সঞ্জুর স্বামী দিলীপ বিশ্নোই, শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁকে পণের দাবিতে হয়রানি করত এবং আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এফএসএল টিমের সাহায্যে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। একটি আত্মহত্যার নোট উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া মৃতার মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
আত্মহত্যার নোটে নাম
পুলিস জানিয়েছে, আত্মহত্যার নোটে মৃতা তাঁর স্বামী দিলীপ বিষ্ণোই, শাশুড়ি, শ্বশুর, ননদ এবং গণপত সিংহের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। পুলিসের ধারণা, মৃতার মোবাইলে কিছু ভিডিয়ো রেকর্ডিং থাকতে পারে, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে। পুলিসের রিপোর্টে গণপত সিংহের নামও উঠে এসেছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, গণপত সিংহ ও মৃতার স্বামী দিলীপ বিষ্ণোই একসঙ্গে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করত।
তদন্তে পুলিস
মৃত শিক্ষিকার বাবা ওমারাম বিষ্ণোই একটি পুলিস রিপোর্ট দায়ের করেছেন, যেখানে জামাই দিলীপ, শ্বশুর, শাশুড়ি, কনস্টেবল ননদ লীলা এবং সিবারোঁ কি ঢানি এলাকার বাসিন্দা গণপত সিংহকে হয়রানি ও আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিস আরও জানিয়েছে, এফআইআরের ভিত্তিতে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
আপনি কি অবসাদগ্রস্ত? বিষণ্ণ? চরম কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনার হাত ধরতে তৈরি অনেকেই। কথা বলুন প্লিজ...
iCALL (সোম-শনি, ১০টা থেকে ৮টা) ৯১৫২৯৮৭৮২১
কলকাতা পুলিস হেল্পলাইন (সকাল ১০টা-রাত ১০টা, ৩৬৫ দিন) ৯০৮৮০৩০৩০৩, ০৩৩-৪০৪৪৭৪৩৭
২৪x৭ টোল-ফ্রি মানসিক স্বাস্থ্য পুনর্বাসন হেল্পলাইন-- কিরণ (১৮০০-৫৯৯-০০১৯)
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)