Assam Police: এই হল বিজেপি শাসিত অসম। আরও এক বিজেপি শাসনের জঘন্য নমুনা। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা ডবল ইঞ্জিন সরকারের। সাংবাদিক সিদ্ধার্থ বরদরাঞ্জন এবং করণ থাপার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের অভিযোগ তুলে নোটিস পাঠিয়েছে গুয়াহাটি পুলিস

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিজেপি শাসিত অসম ফের শিরোনামে। বাংলাভাষীদের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগে ইদানিং চরম বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত (Himanta Biswa Sarma) বিশ্বশর্মা। এবার দেশের দুই নামি সাংবাদিককে দেশদ্রোহী তকমা দিতেও বাধল না তাঁর। অসম পুলিস (Assam Police) প্রথিতযশা সাংবাদিক সিদ্ধার্থ বরদরাজন (Siddharth Varadarajan) এবং করণ থাপারের (Karan Thapar) বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতার (Sedition) অভিযোগ দায়ের করেছে।
এই হল বিজেপি শাসিত অসম। আরও এক বিজেপি শাসনের জঘন্য নমুনা। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা ডবল ইঞ্জিন সরকারের। সাংবাদিক সিদ্ধার্থ বরদরাঞ্জন এবং করণ থাপার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের অভিযোগ তুলে নোটিস পাঠিয়েছে গুয়াহাটি পুলিস (Guwahati Police)। একইসঙ্গে আগামী ২২ অগাস্টের মধ্যে গুয়াহাটি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁদের। এমনকি নির্দেশ অমান্য করলে গ্রেফতারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
গুয়াহাটি পুলিশ (Guwahati Police) সমনে বলেছে, 'আপনাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। যা যুক্তিযুক্ত। তাই আপনাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বর্তমান তদন্তের নিরিখেই কিছু তথ্য সম্পর্কে আপনাদের প্রশ্ন করা হবে।' কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কোন অভিযোগ? কিসের তদন্ত? তা উল্লেখই নেই। মুখ খুলতে চাননি গুয়াহাটি পুলিসের উচ্চপদস্থ কর্তারাও।
গুয়াহাটি পুলিশের অপরাধ দমন শাখার চিঠি লিখেছেন, ইন্সপেক্টর সৌমজ্যোতি রায় ৷ নির্দিষ্ট করে মামলার কথা না বললেও তাতে কোন কোন ধারার উল্লেখ আছে তা লেখা হয়েছে ৷ বিএনএসের ১৫২, ১৯৬, ১৯৭(১)(ডি)/৩(৬), ৩৫৩, ৪৫ এবং ৬১ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল৷
অসম পুলিসের অপরাধ শাখা, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা ১৫২-এর অধীনে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনার ঘটনায় প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া (PCI) এবং ইন্ডিয়ান উইমেন প্রেস কর্পস (IWPC) ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
মিডিয়া সংগঠনগুলো জানিয়েছে যে, দুই মাসের মধ্যে দ্য ওয়্য়ার- সংবাদ প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় এফআইআর (FIR)। অভিযোগ, অসম পুলিস গুয়াহাটির অপরাধ দমন শাখার মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, '২৫শে জুলাই, ২০২০-এ অসম পুলিশের মরিগাঁওতে দায়ের করা একটি এফআইআর (0181/2025) অনুযায়ী, বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টে মিঃ বরদরাজন এবং দ্য ওয়্যারের সকল সাংবাদিককে BNS-এর ধারা ১৫২ এবং অন্যান্য বিধানের অধীনে কোনও বলপূর্বক পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষাকবচ দিয়েছে। এখন, অসম পুলিস কোনও কারণ উল্লেখ না করেই আরেকটি এফআইআর দায়ের করেছে এবং মিঃ বরদরাজন ও মিঃ থাপারকে ২২শে আগস্ট গুয়াহাটির অপরাধ শাখায় তদন্তকারী অফিসারের সামনে হাজির হতে বলেছে - হাজির না হলে তাদের গ্রেফতার করা হবে।'
'ধারা ১৫২ এখন মিডিয়াকে লক্ষ্য করার একটি হাতিয়ার'
সংগঠনগুলো বলেছে যে মে ২০২২-এ, সুপ্রিম কোর্ট প্রাক্তন ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ১২৪এ-এর অধীনে রাষ্ট্রদ্রোহের জন্য কার্যক্রম এবং ফৌজদারি বিচার স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছিল।
সাংবাদিক সংগঠনগুলো বলেছে, 'BNS-এর ধারা ১৫২ হলো ধারা ১২৪এ-এর একটি সংস্করণ। গত সপ্তাহে তাদের রিট পিটিশনে, দ্য ওয়্যার BNS-এর ধারা ১৫২-এর ক্ষমতাকেও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে এবং শীর্ষ আদালত আসাম সরকার ও অন্যদের নোটিশ জারি করেছে।'
দ্য ওয়্যার-এর ওয়েবসাইট আনব্লক করা হয়েছে, তবে পোর্টালে আর্টিকেলটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
এমন কথাও উঠে আসছে যে, 'অসম পুলিসের কার্যক্রম থেকে দেখা যায়, BNS-এর ধারা ১৫২ সংবাদমাধ্যমকে নীরব করার জন্য একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।' আগে আইপিসির ১২৪-এ ধারায় দেশদ্রোহিতার কথা বলা হত৷ তবে ঠিক কোন মামলায় এই দু'জনকে ডাকা হয়েছে তা নোটিশে উল্লেখ করেনি পুলিস। এখনও দুই সাংবাদিকের কাছ থেকে কোনও প্রতিক্রয়া মেলেনি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)