জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: হরিয়ানার পঞ্চকুলায় মিত্তল পরিবারের সাত জনের মৃত্যুতে পরতে পরতে রহস্য। পুলিসি তদন্তে পঞ্চকুলায় সুইসাইড কেসে নতুন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। ডঃ বি আর আম্বেদকর ভবন সেক্টর 12A-তে তাদের জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা। পরে তা পাল্টে হয় সেক্টর ২৭।
Add Zee News as a Preferred Source
সিসিটিভির ফুটের দেখে বোঝা যাচ্ছে যে, তাদের বাড়ি থেকে বেরোনোর পর সোমবার সকালে, আম্বেদকর ভবনের দুটো রুম ভাড়া নিয়েছিলেন থাকার জন্য। পুলিস সন্দেহ করছে যে, সেই ভবনেই তাদের আত্মহত্যা করার প্ল্যান ছিল। সন্ধ্যে ছটা ৩৫ এ সেখান থেকে তারা বেরিয়ে যান।
আরও পড়ুন: Fact Check On Rahul Gandhi & Jyoti Malhotra: জ্যোতির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল রাহুল গান্ধীর! দু'জনে একফ্রেমেই! সত্যি?
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছিল, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন প্রবীণ মিত্তলেরা। কিন্তু পুলিসি তদন্ত অন্য কথা বলছে। এক তদন্তকারী জানিয়েছেন, মিত্তলেরা কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাননি। বরং ওই পরিবারের সদস্যেরা আত্মহত্যার জন্য একটি জায়গা বেছেছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে কোনও কারণে সেই ঠিকানা বদলে ফেলেছিলেন তাঁরা। কিন্তু কেন ঠিকানা বদলাতে হল, সেই উত্তর খুঁজছে পুলিস।
তারা তাদের গাড়িটি পার্ক করেছিলেন সেক্টর ২৭-এ। আর সেখানেই জীবনের অন্তিম অধ্যায়ের সূচনা করেন তারা। পুলিস বিভিন্ন ছোট ছোট দলে পাঁচকুলা এবং দেরাদুনে ইনভেস্টিগেশন করছে। পুলিস জানাচ্ছে যে, এটি একটি সম্পূর্ণ আত্মহত্যা। পুলিসের তদন্তে উঠে এসেছে সমস্ত আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে শেষ চার পাঁচ বছরের সম্পর্ক একদম তলানিতে এসে ঠেকেছিল। আর একমাত্র কারণ দেনা।
সোমবার রাতে প্রবীণ মিত্তলের র বাবা দেশরাজ মিত্তাল, মা বিমলা মিত্তল, স্ত্রী রিনা ছেলে হার্দিক, দুই যমজ মেয়ে সেক্টর ২৭-এ পার্ক করা গাড়ির ভেতর বন্ধ অবস্থায় মারা যায়। একমাত্র বাড়ির কর্তা প্রবীণ অচৈতন্য ছিলেন। পরে তিনিও মারা যান। প্রচুর ব্যাংক লোন, চতুর্দিকে ধার-দেনা- তাঁদের মৃত্যুর একমাত্র কারণ বলেই সুইসাইড মোটে মেনশন করে দিয়েছে।
প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ বলছে, এটি খুনের ঘটনা নয়। তবুও মিত্তল পরিবারের গত ছ'মাস থেকে এক বছরের অতীত ঘেঁটে দেখা হচ্ছে। মিত্তলদের এক আত্মীয় জানিয়েছেন, প্রবীণ মিত্তল যে ব্যবসাতেই নেমেছেন, সব ক’টিতেই লোকসানের মুখ দেখেছে।
আরও পড়ুন: IRCTC Rail Tour Package in Jannat-E-Kashmir: পহেলগাঁওয়ে মুছেছে সিঁদুর, ঝরেছে রক্ত! কাশ্মীরে পর্যটক ফেরাতে রেলের জলের দরে ৯ ট্যুর প্যাকেজ...
২০০৮ সাল থেকে মিত্তল পরিবারে নেমে আসে দুর্যোগ। লোহার ছাঁটের যে কারখানা ছিল, সেই ব্যবসায় ব্যাপক লোকসান হয়। নানা ভাবে ব্যবসাটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও পারেননি। ঋণের বোঝা বাড়তে থাকে। ব্যাঙ্কের ১৫ কোটি ঋণ শোধ করতে না পারায় সেই কারখানা বাজেয়াপ্ত হয়। তার পরই বেপাত্তা হয়ে যান প্রবীণ। পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখতেন না।
সাত-আট বছর বেপাত্তা থাকার পর ২০১৪ সালে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন প্রবীণ দেহরাদূনে রয়েছেন। তার পর পরিবারের সঙ্গে ধীরে ধীরে আবার যোগাযোগ গড়ে তোলেন। প্রবীণের তুতো ভাই জানিয়েছেন, দেহরাদূনে থাকাকালীন প্রবীণের সঙ্গে দু’এক বার দেখাও করেছেন তিনি। সেখানে প্রবীণ ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা খুলেছিলেন। ঘটনাচক্রে, সেই ব্যবসাতেও লোকসান হয়।
ফলে বন্ধ করে দিতে হয়। দেহরাদূন থেকে আবার পঞ্চকুলায় চলে আসেন তাঁরা। সেখানে বাবা-মা স্ত্রী এবং সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ওঠেন। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে ভাড়াবাড়িতে চলে যান।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)