)
রাজীব চক্রবর্তী: দিল্লির অভিজাত এলাকায় জোড়া খুন, ঘরে মা-ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার, অভিযুক্ত চাকর পুলিশ হেফাজতে।
ঘটনার সূত্রপাত:
দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির লাজপত নগরে ৪২ বছর বয়সী রুচিকা এবং তার ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গভীর রাতে। পরিবারের সদস্যরা তাদের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে তারা পুলিসকে খবর দেয়।
পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে, শোবার ঘরে মহিলার মৃতদেহ এবং বাথরুমে ছেলের মৃতদেহ পাওয়া যায়। স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মামলার তদন্ত চলছে। এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ সন্দেহ করছে বাড়ির পরিচারক এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
হাড়হিম তথ্য:
দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির লাজপত নগর-১ এলাকায় এই মা ও ছেলের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি বড়সড় তথ্যও পেয়েছে পুলিস। জানিয়েছে, ঘরের ভেতরেই গলা কেটে দুজনকেই হত্যা করা হয়েছে। ৪২ বছর বয়সী রুচিকা এবং তার ছেলেকে শনাক্ত করা হয়েছে। গভীর রাতে বাড়ি থেকে কোনও সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীরা পুলিসকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে বাড়ির পরিচারক পলাতক থাকায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
পালানোর চক্রান্ত:
দিল্লি পুলিস অভিযুক্ত চাকর মুকেশকে গ্রেপ্তার করার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বের করে। এরপর সেই ফুটেজ পরীক্ষা করার সময়, রেলওয়ে স্টেশনের দিকে অভিযুক্ত মুকেশের লোকেশন দেখতে পাওয়া যায়। এর পরে, পুলিসের সন্দেহ হয় যে অভিযুক্ত বিহারগামী একটি ট্রেনে পালিয়ে গেছে।
রেলওয়ে পুলিস এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং দিল্লি পুলিসও এখান থেকে চলে যায়। অভিযুক্ত পরিচারক মুকেশ, দীনদয়াল উপাধ্যায় রেলওয়ে জংশনে ধরা পড়ে। অভিযুক্ত বিহারগামী ট্রেনে উঠে পালানোর চেষ্টা করছিল। অভিযুক্তদের সিসিটিভি ফুটেজ এবং ছবি সকলের সাথে শেয়ার করা হয়েছিল। এরপর ইউপি পুলিশ অভিযুক্ত মুকেশকে ট্রেন থেকে গ্রেফতার করে।
নিহতদের পরিবারের অভিযোগ:
বুধবার রাত ৯:৪৩ মিনিটে, লাজপত নগর-১-এর বাসিন্দা কুলদীপ (৪৪ বছর) এর কাছ থেকে একটি পিসিআর কল আসে। তিনি পুলিশকে জানান যে তার স্ত্রী এবং ছেলে তার ফোনের উত্তর দিচ্ছেন না। বাড়ির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। গেট এবং সিঁড়িতে রক্তের দাগ ছিল। ফোন পাওয়ার পর পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছন যেখানে কুলদীপ জানান যে সিঁড়িতে রক্তের দাগ দেখা যাচ্ছে। তাঁর স্ত্রী এবং ছেলে তার ফোনের উত্তর দিচ্ছেন না। ইতিমধ্যে, এসএইচওও ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং জোর করে গেটটি খুলে দেওয়া হয়। চত্বরের ভেতরে এক মহিলা এবং একটি শিশুর মৃতদেহ পাওয়া যায়। মৃতদেহটি শনাক্ত করা হয়েছে রুচিকা সেওয়ানি (বয়স ৪২), কুলদীপের স্ত্রী। তিনি তার স্বামীর সাথে লাজপত নগর বাজারে একটি পোশাকের দোকান চালান। তাদের ছেলে দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।
প্রধান অভিযুক্ত মুকেশের বর্ণনা:
প্রধান অভিযুক্ত মুকেশ (২৪ বছর) বিহারের হাজিপুরের বাসিন্দা। বর্তমানে সে অমর কলোনিতে থাকত। দিল্লি পুলিশ তাকে পলাতক অবস্থায় গ্রেপ্তার করেছে। সে একটি পোশাকের দোকানে ড্রাইভার/দোকান-সহায়ক হিসেবে কাজ করে। আরও তদন্ত চলছে। বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে।
খুনের কারণ:
পুলিশ সন্দেহ করছে যে গৃহপরিচারিকা মুকেশকে বাড়িওয়ালা কোনও কারণে বকাঝকা করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এই অপরাধ করেছেন। তবে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাড়িওয়ালার বকাঝকা করার পর পরিচারক অবশ্যই রাগের বশে খুনটি করেছে।
ধৃত অভিযুক্ত:
জোড়া খুন করে পালানো পরিচারক ধরা পড়ল দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশনে, দিল্লি থেকে বিহার যাচ্ছিল। খবর পেয়ে দিল্লি পুলিশ দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশনে খবর পাঠায়। এরপর জিআরপি, আরপিএফ ও মুঘলসরাই থানার যৌথ অভিযানে তাকে স্টেশন থেকে ধরে ফেলে পুলিস। ধৃতের নাম মু্কেশ পাসওয়ান, বাবার নাম নরেশ পাসওয়ান। তার বাড়ি বিহারের বৈশালীর জনদহা থানার অন্তর্গত এলাকায়। এই মুহূর্তে মুঘলসরাই থানার হেফাজতে রয়েছে অভিযুক্ত। দিল্লি পুলিশ মুঘলসরাই পৌঁছলে তাকে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল