)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কেরিয়ার নিয়ে বাবার সঙ্গে মতবিরোধ। বিবাদের জেরে বাবাকে গুলি করে খুন ছেলের। তারপর বোনের সামনেই বাবার দেহ টুকরো টুকরো করে নীল ড্রামবন্দির অভিযোগ ২১ বছরের ছেলের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যেই পুলিস তাকে গ্রেফতার করেছে। মৃত ব্যক্তির নাম মানবেন্দ্র সিং (৪৯), যিনি পেশায় একজন ওষুধ ও মদ ব্যবসায়ী ছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত:
গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মানবেন্দ্র সিং নিখোঁজ ছিলেন বলে জানা যায়। তদন্তে নেমে পুলিস তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালালে একটি ড্রামের ভেতর দেহের অংশ খুঁজে পায়। এরপর তাঁর ছেলে অক্ষয় প্রতাপ সিংকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর হাড়হিম সত্যি বেরিয়ে আসে। অক্ষয় পুলিসের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে।
হাড়হিম খুনের পিছনে কী কারণ:
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অক্ষয়কে ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন তাঁর বাবা। 'লা মার্টিনিয়ার কলেজ' থেকে পাস করা অক্ষয় দু’বার নিট (NEET) প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। বর্তমানে সে বি.কম নিয়ে পড়লেও বাবার পক্ষ থেকে পড়াশোনার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে বিবাদের মূলে ছিল আরও গভীর কিছু।
পুরনো চুরির গোপন রহস্য:
পুলিস সূত্রে আরও জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে মানবেন্দ্রর বাড়ি থেকে বেশ কিছু গয়না চুরি হয়েছিল। শুরুতে তিনি পরিচারিকার বিরুদ্ধে পুলিসে অভিযোগ জানালেও পরে বুঝতে পারেন যে নিজের ছেলেই ওই চুরি করেছে। ছেলেকে আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচাতে মানবেন্দ্র অভিযোগ তুলে নেন। কিন্তু তারপর থেকে অক্ষয়ের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেন তিনি। ছেলের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ এবং সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখাটাই অক্ষয় সহজভাবে নিতে পারেননি। বাবার এই 'শাস্তি' ও নিয়ন্ত্রণই তাঁদের সম্পর্কের তিক্ততা চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়।
অভিশপ্ত সেই শুক্রবার:
পুলিসি বয়ান অনুযায়ী, ২০ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বিকেল ৪টা ৩০ নাগাদ আবারও পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। মেজাজ হারিয়ে অক্ষয় নিজের লাইসেন্সড রাইফেল দিয়ে বাবাকে গুলি করে। এরপর তিন তলা থেকে দেহটি নীচে নামিয়ে এনে একটি খালি ঘরে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় টুকরো করে অক্ষয়। অক্ষয়ের বোন এই দৃশ্য দেখে ফেললে তাঁকে ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করে সে।

তারপর বাবার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্লিপিং ব্যাগে ভরে লখনউয়ের সদরুনা নদীতে ফেলে দেয়। এবং বাকি অংশ নীল ড্রামে ভরে রাখে। তারপর পুলিসকে বিভ্রান্ত করার জন্য, সে তার বাবার নামে একটি নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরি করে। দেহের কিছু অংশ সদরুনার কাছে ফেলে দিয়ে এলেও ধড়সহ বাকি অংশ বাড়িতেই ড্রামে লুকিয়ে রাখে।
পুড়িয়ে ফেলার ছক:
অন্যদিকে, পুলিস মানবেন্দ্রের ধড় উদ্ধার করলেও তাঁর কাটা মাথাটি এখনও খুঁজে পায়নি। অক্ষয় তাঁর বাবার হাঁটু থেকে পা এবং দুই হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। নৃশংসভাবে কুপিয়ে বাবার শরীরের ধড়টি একটি স্লিপিং ব্যাগে ভরে বাড়ির ভেতরে রাখা একটি নীল রঙের ড্রামে লুকিয়ে রেখেছিল সে। খুনের প্রমাণ পুরোপুরি মুছে ফেলতে অক্ষয় ১০ লিটার কেরোসিন তেল জোগাড় করে রেখেছিল। পরিকল্পনা ছিল, সুযোগ বুঝে দেহাংশগুলো পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া।
আসিয়ানা এলাকার ঊর্ধ্বতন পুলিস কর্মকর্তা বিক্রান্ত বীর জানিয়েছেন, ফরেনসিক ও ব্যালেস্টিক দল ঘটনার পুনর্গঠন করছে। বাড়ি থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)