)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জায়গাটির নাম ছিল বারণাবত। সেখানেই তৈরি করা হয়েছিল এক লাক্ষাগৃহ (Lakshagriha) বা জতুগৃহ (Jatugriha)। এখানে পাণ্ডবদের পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা করেছিলেন দুর্যোধন (Duryodhana)। কিন্তু পাণ্ডবেরা (Pandavas) একটি সুড়ঙ্গ খনন করে এই ষড়যন্ত্র থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। এটা মহাভারত (Mahabharata)-- কাব্য, কাহিনি, গল্প। আবার সত্যিও হয়তো। অন্তত আধুনিক গবেষণা সেটাই বলছে।
বারণাবত/বারনাবা
মহাভারত সার্কিট প্রকল্পের আওতায় রয়েছে উত্তর প্রদেশের বাগপত জেলার বারনাবা তথা বারণাবত নামের এই গ্রামটি। বাগপত জেলার এই বারনাবা গ্রামটিকে পাণ্ডবদের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হয়। রাজ্য সরকারের মহাভারত সার্কিট প্রকল্পের অধীনে এক বড় ধরনের ঘটনার ইঙ্গিত। স্থানটির উন্নয়নের জন্য রাজ্য পর্যটন দফতর ১ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে।
জতুগহ
দিল্লি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বারনাবা গ্রামটি। মহাভারত অনুসারে, এখানেই তৈরি হয়েছিল জতুগৃহ তথা লাক্ষার প্রাসদ। কৌরবরা একটি ভয়ানক চক্রান্ত করে পাণ্ডবদের পুড়িয়ে মারার উদ্দেশ্যে প্রাসাদটি তৈরি করিয়েছিলেন। তবে বিদুরের পরামর্শে পাণ্ডবেরা এই বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। সেই কাহিনি যুগ যুগ ধরে মানুষকে মুগ্ধ করে এসেছে।
ধর্ম-ইতিহাস-পর্যটন-অর্থনীতি
এই স্থানটির প্রমাণ তাই মানুষকে রোমাঞ্চিত করেছে। এটি আজ একটি প্রাচীন ঢিবি। ধ্বংসাবশেষের আকারে বিদ্যমান। ইদানীং এটি এআসআই (ASI) দ্বারা সুরক্ষিত। পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী জয়বীর সিং জানান, প্রকল্পটি ভারতের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পর্যটনের মানচিত্রে বাগপতকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, "এটি তীর্থযাত্রী এবং ইতিহাসপ্রেমী উভয়কেই আকর্ষণ করবে। পাশাপাশি পর্যটন ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি করবে।"
ঐতিহ্যের সঙ্গে যোগ এবং
এর উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে জায়গাটির সৌন্দর্যায়ন, আলোকসজ্জা, স্যানিটেশনের ব্যবস্থা, পানীয় জল, বিশ্রাম কক্ষ এবং পর্যটক তথ্যকেন্দ্র স্থাপন। আধুনিক সুবিধার সঙ্গে ঐতিহাসিকতার মিশ্রণ ঘটিয়ে দর্শনার্থীরা দেশের মহাকাব্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীর সংযোগ অনুভব করতে পারবেন বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বাগপতের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব
মহাভারতের সংযোগ ছাড়াও, বাগপত প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব অসীম। এখানে খননকার্যের ফলে হরপ্পা যুগের নিদর্শন মিলেছে। যার মধ্যে গ্রেওয়্যার মৃৎশিল্প (greyware pottery) রয়েছে। ২০১৮ সালে, সিনৌলি গ্রামে প্রায় ২০০০ বছরের পুরনো ব্রোঞ্জের রথ এবং সমাধির অবশেষ আবিষ্কার হয়েছিল। এর ফলে জেলাটি বিশ্ব জুড়ে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)