)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'বাইকের প্রমাণ মেলেনি। সন্দেহ-ই যথেষ্ট নয়।' তথ্যপ্রমাণের অভাবে এই যুক্তিতেই মালেগাঁও বিস্ফোরণ (2008 Malegaon blast case) মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন প্রজ্ঞা ঠাকুর (Pragya Thakur) সহ ৭ অভিযুক্ত-ই (Malegaon blast All acquitted)। প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণ যখন ঘটে, তখন প্রজ্ঞা ঠাকুরকে বলা হত 'হিন্দু সন্ত্রাসের মুখ'। অভিযোগ ওঠে, মালেগাঁও বিস্ফোরণে বিস্ফোরক রাখা ছিল প্রজ্ঞা ঠাকুরের বাইকে।
মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় বিচারকের বক্তব্য
এদিন রায় (Malegaon blast verdict) ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারক বলেন, "বিস্ফোরণ হলেও, বিস্ফোরক যে প্রজ্ঞা ঠাকুরের LML ফ্রিডম মোটরসাইকেলেই রাখা ছিল, তার প্রমাণ মেলেনি। মোটরবাইকের চেসিস নাম্বার মুছে গিয়েছে। ইঞ্জিনের নাম্বার নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। তাই যে বাইক বা মোটরসাইকেলে বিস্ফোরক রাখা ছিল বলে সন্দেহ, তার মালিক যে সাধ্বী প্রজ্ঞা ঠাকুরই তার কোনও প্রমাণ মেলেনি।" আর তারপরই ফের গর্জে ওঠেন ভোপালের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুর।
"মামলা আমার গোটা জীবন নষ্ট করেছে"
মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় (Malegaon blast case) বেকসুর খালাস পেতেই ভোপালের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুর ((Pragya Thakur) বিচারককে বলেন, "এই মামলা আমার গোটা জীবনটাকে নষ্ট করেছে।" বিচারকের রায় শোনার পরই একদা 'হিন্দু সন্ত্রাসের মুখ' বলে পরিচিত প্রজ্ঞা ঠাকুর বলেন, "আমি শুরু থেকেই বলে আসছি যে, কাউকে তদন্তের জন্য ডাকা হলে, তার পিছনে একটা ভিত্তি থাকা উচিত। আমাকে ডেকে গ্রেফতার করা হয়। আমার উপর অত্যাচার করা হয়। এই মামলা আমার গোটা জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। আমি একজন সাধ্বীর জীবন কাটাতাম। অথচ আমাকেই অভিযুক্ত করা হল। কেউ আমার পাশে দাঁড়ালও না। আমি এখনও বেঁচে আছি, কারণ আমি একজন সন্ন্যাসিনী। ওরা ষড়যন্ত্র করে ভাগ্য মানে গেরুয়ার অপমান করেছে। আজ ভাগ্য জিতে গিয়েছে। হিন্দুত্ব জিতে গিয়েছে। যারা দোষী, ভগবান তাদের শাস্তি দেবেন।'
মালেগাঁও বিস্ফোরণ
পাশাপাশি রায় ঘোষণা করে এদিন বিচারক আরও বলেন, বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য শক্তিশালী RDX ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ থাকলেও, লেফটেন্যান্ট কর্নেল পুরোহিতের বাসভবনেই যে RDX মজুত ছিল এমন কোনও প্রমাণ নেই। পাশাপাশি, তিনি-ই যে বোমাটি তৈরি করেছিলেন এমনও কোনও প্রমাণও নেই। ২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে, পবিত্র রমজান মাসে মুম্বই থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে ভিক্কু চকের কাছে বিস্ফোরণটি ঘটে। শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে ৬ জন নিহত হন। আহত হন শতাধিক।
বিস্ফোরণের ঘটনায় মূল অভিযোগের আঙুল ওঠে সেইসময় 'হিন্দু সন্ত্রাসের মুখ' বলে পরিচিত ভোপালের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুরের দিকে। পাশাপাশি অভিযুক্তের তালিকায় ছিলেন প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ শ্রীকান্ত পুরোহিত (সেইসময় সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মরত ছিলেন), মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) রমেশ উপাধ্যায়, অজয় রাহিরকর, সুধাকর দ্বিবেদী, সুধাকর চতুর্বেদী ও সমীর কুলকার্নি। রায় ঘোষণা করে তথ্যপ্রমাণের অভাবে ৭ জনকেই এদিন বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছেন এনআইএ বিশেষ আদালতের বিচারক।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)