)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ঐতিহাসিক! হ্যাঁ, প্রায় তাইই। সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ইতিহাস তৈরি করেছেন। ইতিহাস তৈরি করেছেন সেখানে নিজের মামলায় নিজে সওয়াল করে (Bengal CM urgue in sc)। SIR-বিরোধিতায় অন্য বিরোধী দলগুলির তুলনায় অনেকটা এগিয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। এসআইএর বিরোধিতা করছে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকের মতো দল। কিন্তু এসআইআরের বিরুদ্ধে লড়াইকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে চলে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনে দরবারই শুধু নয়, মামলা করে একেবারে সুপ্রিম কোর্ট হাজির মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ এজলাসে হাজির খোদ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নিজে মামলা করেছেন, নিজের করা সেই মামলায় নিজেই সওয়াল করলেন।
মমতার জরুরি প্রশ্ন
মমতা যা বলেছেন, তা মোটামুটি এই: নির্বাচন কমিশন গত ২৪ জুন ও ২৭ অক্টোবর ২০২৫-এ ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে যে বিজ্ঞপ্তিগুলো দিয়েছিল, সেগুলো বাতিল করতে হবে। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন যেন ২০২৫ সালের বিদ্যমান ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই করা হয়। নামের বানান বা ছোটখাটো অমিলের জন্য ভোটারদের যেন শুনানিতে ডাকা না হয়। নথিপত্র দেখে অফিস থেকেই যেন এগুলি নিজে থেকে ঠিক করে দেওয়া হয়। ভোটার তালিকায় যাঁদের নামে অসঙ্গতি আছে বা যাঁদের তথ্য অসম্পূর্ণ, তাঁদের নামের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করতে হবে। শুধু নামের বানানে ভুলের জন্য যাঁদের শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে, তা প্রত্যাহার করতে হবে এবং ভোটারদের সেটা জানিয়ে দিতে হবে। তালিকার ভুলত্রুটি সংশোধন করা গেলেও, কোনো বৈধ ভোটারকে যেন তালিকা থেকে বাদ দেওয়া না হয়। বিশেষ করে ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে মিল আছে, এমন কাউকে যেন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা না হয়। ভোটারদের পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ডকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং অন্য নথির জন্য জোরাজুরি করা যাবে না। ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার জন্য (Form-7) কারা আবেদন করেছে, তা অনলাইনে জানাতে হবে এবং একসঙ্গে অনেক নাম কাটার আবেদন গ্রহণ করা যাবে না। ভেরিফিকেশনের কাজ ৫ দিনের বেশি ঝুলে থাকলে স্থানীয় কর্মকর্তাদের (ERO/AERO) মাধ্যমেই তার সমাধান করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে সব ‘মাইক্রো-অবজারভার’ সরিয়ে নিতে হবে। যদি তা না হয়, তবে নিশ্চিত করতে হবে যে, তারা যেন কোনো আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ না করে বা শুনানির কাজে হস্তক্ষেপ না করে। ভেরিফিকেশনের সময় রাজ্য সরকারের দেওয়া সব বৈধ নথিপত্র গ্রহণ করতে হবে। ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তদন্তের যে নিয়ম আছে, তা পালন করতে হবে এবং নাম কাটার আবেদনকারীকে শুনানির সময় সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে।
সওয়ালে মমতার আক্রমণ
সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক সওয়ালে মমতা কেন্দ্র-পরিচালিত এই স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিসন তথা SIR-কে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, কেন বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে? কেন এসআইআর নিয়ে অযথা এত তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে?
বাংলায় যখন উ।সবের আবহ তখন তাদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। ১০০ জন বিএলও মারা গিয়েছেন। এসব শুধু বাংলাতেি কেন করা হচ্ছে? কেন অসমে নয়?
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)