)
রাজীব চক্রবর্তী: চরমে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য় সরকারের সংঘাত। রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের। আর সেই এসআইআর বিরোধিতাতেই দিল্লি দরবারে মমতা। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় দিল্লিতে পৌঁছতেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় যখন সোমবার সকালে পুলিস দিয়ে বঙ্গভবন সার্চ করানো হয়। এরপর বিকালে কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বয়কটও করেন ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। ইতিমধ্য়েই জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং সিইওর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। জানা যাচ্ছে, আগামিকাল বুধবার তালিকাভুক্ত হতে পারে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং সিইও-র বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলা। কম্পিউটার জেনারেটেড তালিকায় দিন বদল হল। আগে ৬ ফেব্রুয়ারি দিন ছিল। তা বদলে ৪ ফেব্রুয়ারি তালিকাভুক্ত হয়েছে মামলা। ফলে আগামিকালই কমিশনের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের করা মামলার শুনানি।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, তালিকায় লক্ষ লক্ষ মৃত ভোটারের নাম রয়ে গিয়েছে। আবার অনেক নতুন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করছেন, এই ত্রুটিপূর্ণ তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচন হলে তা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন যে ভোটার তালিকা ব্যবহার করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাতে প্রচুর ভুল রয়েছে। অবিলম্বে তা যাচাই করে সংশোধন প্রয়োজন। যারা মারা গেছেন বা এলাকা পরিবর্তন করেছেন, তাদের নাম বাদ দিয়ে, যারা নতুন ভোটার হওয়ার যোগ্য, তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আর সেজন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দিতে হবে। তাই যতদিন না ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ নির্ভুল হচ্ছে, ততদিন পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন করা যাবে না। নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা যাবে না।
যদিও নির্বাচন কমিশনের দাবি, তারা নির্ধারিত নিয়ম মেনেই ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (Special Intensive Revision) চালিয়েছে। এখন চলছে চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ। শুনানি পর্বে তথ্য যাচাই মিটলেই, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে আর কয়েকদিনের মধ্যেই, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। এছাড়াও প্রতি বছর জানুয়ারিতে কমিশন নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধনও করে। কিন্তু এখন পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে আগামিকালের শুনানির উপর। কমিশন বনাম মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মামলায়, শীর্ষ আদালত কী রায় দেয়, সেদিকেই নজর এখন সব মহলের।
উল্লেখ্য, সোমবার বিকালে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তোপ দাগেন, 'এত দাম্ভিক নির্বাচন কমিশনার কখনও দেখিনি'। ১৫ জন প্রতিনিধি ও SIR আতঙ্কে মৃতদের পরিবারের লোকেদের নিয়ে কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সেই বৈঠক 'বয়কট' করে বেরিয়ে আসেন তিনি। উগরে দেন ক্ষোভ। বলেন, 'আমাদের অপমান করা হয়েছে। অসম্মান করা হয়েছে। আমরা তাই বৈঠক বয়কট করে চলে এসেছি। এই নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনও প্রত্যাশা নেই। সবাইকে নোটিস দিয়েছে। জনতা ওদের নোটিস দেবে।'
প্রশ্ন তোলেন, 'নির্বাচনের তিন মাস আগে কেন SIR করতে হল?' হুঁশিয়ারি দেন, 'প্রয়োজনে এক লক্ষ মানুষ নিয়ে দিল্লি আসব। এখানে প্যারেড করাব। বাইরে থেকে অবজ়ার্ভার নিয়ে এসেছে। এত লোকের মৃত্যু হল তার দায় কে নেবে? কমিশন-ই এই সব মৃত্যুর জন্য দায়ী।' প্রসঙ্গত, মামলা দায়েরের আগে SIR নিয়ে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারকে পাঁচটি চিঠিও লিখেছিলেন মমতা। কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার সেই চিঠির একটারও কোনও উত্তর দেননি বলে অভিযোগ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)