Madhya Pradesh crime: ১৯-এর তরুণী সন্ধ্যার প্রেমে পাগল অভিষেক। সন্ধ্যাকে না পেয়ে তার বুকে চেপে গলা কাটল অভিষেক। গোটা ঘটনাটি প্রকাশ্য আলোতে ঘটে।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: হাড়হিম মধ্যপ্রদেশ! প্রকাশ্যে ১৯-এর তরুণীকে নৃশংস খুন। হাসপাতালের ভিতর তরুণীর বুকের উপর বসে ছুরি দিয়ে গলা কাটছে। এই ভয়ানক দৃশ্য দেখেও ভুক্তভোগী মেয়েটিকে সাহায্য করার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। ভয়াবহ এই ঘটনাটি একজন ডাক্তার নিজের ফোনে রেকর্ড করেন।
নৃশংস ঘটনাটি ঘটে, ২৭ জুন মধ্যপ্রদেশের নরসিংহপুরের সরকারি জেলা হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, ১৯ বছরের সন্ধ্যা চৌধুরি ক্লাস টুয়েলভের ছাত্রী। তাকে প্রকাশ্য নৃশংসভাবে খুন করে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবক। যে কিনা সন্ধ্যার প্রেমে পাগল ছিল। আশ্চর্যজনকভাবে, ঘটনাটির সময় হাসপাতালের কেউ সন্ধ্যাকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসেনি।
সোমবার ঘটনাটির ভিডিয়ো ফুটেজে সামনে আসে। সেখানে দেখা গিয়েছে, অভিযুক্ত অভিষেক সবার সামনে সন্ধ্যার গলা কাটছে। আর পাশের লোকজন, হাসপাতালের কর্মীরাও হতভম্ব অবস্থায় কিছুই করছেন না। এমনকি কেউ কেউ হাসপাতালের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েটির মৃত্যুর সময় পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন।
ফুটেজে আরও দেখা গিয়েছে, কালো শার্ট পরা অভিষেক সন্ধ্যাকে চড় মারতে থাকে। মাটিতে ফেলে তার বুকের উপর উঠে ছুরি দিয়ে গলা কাটছে। এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে প্রকাশ্য আলোতে ইর্মাজেন্সি বিভাগের ভিতরে। প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলে এই নৃশংস ঘটনাটি।
অভিযুক্ত সন্ধ্যার গলা কেটে ফেলার চেষ্টায় ব্যর্থ হলে হাসপাতালে থেকে পালিয়ে যায়। হাসপাতালের বাইরে আগে থেকে অভিষেকের বাইক পার্ক করা ছিল। ঘটনার পর হাসপাতালের ভিতর আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ট্রমা ওয়ার্ডে ভর্তি ১১ জন রোগীর মধ্যে ৮ জন সেদিনই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান, আর বাকি ৩ জন পরের দিন সকালে ছাড়পত্র নেন।
সান্ধ্যা সেদিন দুপুর ২টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল, পরিবারকে জানিয়েছিল সে হাসপাতালের ম্যাটারনিটি ওয়ার্ডে এক বন্ধুর বৌদিকে দেখতে যাবে। জানা গিয়েছে, অভিষেকপুর থেকেই হাসপাতালের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছিল, সম্ভবত সে সন্ধ্যার জন্যই অপেক্ষা করছিল।
এমনকি আরও জানা গিয়েছে, অভিষেক-সন্ধ্যা রুম নম্বর ২২-এর সামনে কিছুক্ষণ কথা বলে। তারপরেই এই ভয়ংকর প্রাণঘাতীর ঘটনাটি ঘটে। সন্ধ্যার উপর নৃশংস হামলার পর তার অতিরিক্ত রক্তপাত হয়। ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত তরুণীর পরিবারকে বিকেল ৩.৩০টের দিকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে তারা যখন হাসপাতালে পৌঁছায়, তখনও সন্ধ্যার মৃতদেহ সেখানেই পড়ে ছিল। ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে পরিবার ও স্থানীয়রা হাসপাতালের বাইরে রাস্তা অবরোধ করেন। বিক্ষোভ কিছুটা শান্ত হয় রাত ১০টা ৩০ মিনিটে। তবে উত্তেজনা আবারও বাড়ে এবং রাত ২টা পর্যন্ত চলে, যতক্ষণ না প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)