)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: স্ত্রীকে খুন করে জ্বালিয়ে দেয় স্বামী। তারপর স্ত্রীর ছাই নিয়ে কাছের এক নদীতে ভাসিয়ে দেয়। কেউ জানতেও পারবে না যে কোথায় তার স্ত্রী। কিন্তু কথায় আছে 'অতি চালাকের গলায় দড়ি'। খুন করার পর সে নিজেই থানায় গিয়ে স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করে। এরপর দুদিন ছাড়া ছাড়াই থানায় গিয়ে কেসের গতিবিধি জানতে চায়। যাতে করে পুলিসকে বিভ্রান্ত করতে পারে।
তবে, পুলিসের তদন্তে তার বিকৃত পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ধরা পড়ার পর, সে প্রকাশ করে যে অজয় দেবগণ অভিনীত দৃশ্যম ছবি কমপক্ষে চারবার দেখার পর সে স্ত্রীকে খুনের পরিকল্পনা করে। ঘটনাটি পুণের।
পরিচিতি:
অভিযুক্ত, সমীর যাদব এবং তার স্ত্রী, অঞ্জলি যাদব (৩৮) - যিনি একজন বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। ২০১৭ সালে তারা বিয়ে করেন। সমীর একজন অটোমোবাইল ডিপ্লোমাধারী ছিলেন এবং তার নিজস্ব একটি গ্যারেজ ছিল। দম্পতি পুণের শিবানে এলাকায় থাকত। তাদের দুই সন্তান- তৃতীয় এবং পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত:
পুলিসি জেরায় সমীর নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে। এবং জানায় যে, ২৬ অক্টোবর সে তার স্ত্রী অঞ্জলিকে নিয়ে একটি ভাড়া করা গোডাউনে নিয়ে যায়। 'নতুন গোডাউন দেখানোর' অজুহাতে সে ওখানে নিয়ে গিয়ে স্ত্রীকে গলা টিপে খুন করে।
অপরাধের যেকোনও প্রমাণ লোপাটের জন্য সমীর আগে থেকেই ঘটনাস্থলে একটি লোহার চুল্লি তৈরি করে রেখেছিল। সেই চুল্লিতেই সে তার স্ত্রীকে পুড়িয়ে ফেলে। তারপর কাছের একটি নদীতে ছাই ফেলে দেয়। অন্যদিকে, ঘটনার সময় তাদের সন্তানরা দীপাবলির ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিল।
পুলিস প্রথমে ভেবেছিল যে, সমীর স্ত্রীর উপর সন্দেহের বশে এই কাণ্ড ঘটায়। তবে তদন্তে জানা যায়, সমীর নিজেই অন্য মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল। তাই স্ত্রীকে সরানোর জন্য সে এই ভয়ংকর ছক কষে।
সমীর নিজের প্ল্যানকে পরিপক্ক করার জন্য স্ত্রীর চরিত্রে কালিমালিপ্ত করার প্লট সাজায়। সে নিজেই অঞ্জলির ফোন থেকে তার এক বন্ধুকে 'আই লাভ ইউ' মেসেজ পাঠায়। এবং পরে নিজেই সেই মেসেজের জবাব দিয়েছিল, যেন অঞ্জলির অবৈধ সম্পর্কের একটি ভুয়ো ডিজিটাল প্রমাণ তৈরি করা যায়।
শোকগ্রস্ত স্বামীর অভিনয়:
খুনের সমীর থানায় গিয়ে নিখোঁজ স্ত্রীর জন্য মামলা দায়ের করে। এবং বারবার ফিরে আসতেন, উৎকণ্ঠিত হয়ে জিজ্ঞেস করত পুলিস কখন তার 'নিখোঁজ স্ত্রী' খুঁজে পাবে এবং অভিযুক্তকে ধরার ক্ষেত্রে কতটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে, এই অভিনয় তার জন্য কাজ করার পরিবর্তে পুলিসকে সন্দেহ করতে বাধ্য করেছিল।
পুলিস পরে তার ধারাবাহিক প্রশ্ন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখা এবং তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারে যে তার কথা প্রমাণের সঙ্গে মিলছে না। পুলিস তাকে কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে, তখন সমীর সব কিছু স্বীকার করে। সে বলেছে যে, সে দৃশ্যম ছবি দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিল। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, এবং আরও তদন্তের জন্য এটি রাজগড় পুলিস স্টেশনে পাঠানো হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)