Delhi: স্ত্রী পরকীয়ায় লিপ্ত। এই সন্দেহে স্বামীর চরম সিদ্ধান্ত। মঙ্গলবার সকালে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে ৪ ছেলেদের পার্কে নিয়ে যাবে বলে বেরোয়। তারপর স্টেশনে গিয়ে রেললাইনের উপর দাঁড়িয়ে পড়ে। ছেলেরা বাঁচতে চাইলেও, বাবা ছাড়েনি হাত। চলন্ত ট্রেন শেষমেষ এসে পাঁচজনকেই পিষে দেয়।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে দেশজুড়ে শোনা যাচ্ছে ভয়ংকর কাণ্ড। কোথাও নৃশংস খুন করা হচ্ছে স্ত্রীদের, আবার কোথাও স্ত্রী নিজের প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করছে। কিন্তু এই ঘটনা একেবারেই অন্য়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্য়ে কেউই খুন হননি। বরং স্ত্রীর পরকীয়া করছে এই সন্দেহে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন স্বামী।
জানা গিয়েছে, স্বামী নিজের চার সন্তান-সহ চলন্ত ট্রেনে সামনে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটে, দিল্লির ফরিদাবাদে। ঘটনাস্থল থেকে একটি আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিহত ব্যক্তির নাম মনোজ মাহাতো, তিনি বিহারের বাসিন্দা।
জানা গিয়েছে, মনোজ তার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বেরোয়। মঙ্গলবার সকালে তিন চার ছেলে পবন (১০), কারু (৯), মুরলি (৫) এবং ছোটু (৩) - কে একটি পার্কে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেরোয়। কিন্তু পার্কের পরিবর্তে যায় স্টেশন। ছেলেদের নিয়ে প্রায় প্রায় এক ঘন্টা ধরে রেললাইনের কাছে একটি ফ্লাইওভারের নিচে অপেক্ষা করে। ট্রেন আসার পর মনোজ রেললাইনের উপর দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ। তিনি চার ছেলেকে শক্ত করে ধরে ছিলেন। আতঙ্কিত প্রত্যক্ষদর্শীরা শিশুদের চিৎকার করতে দেখেছিলেন, কিন্তু তাদের বাবা যেতে দেননি। শেষমেষ চলন্ত ট্রেন এসে তাদের পিষে দেয়।
পুলিস তার স্ত্রীর ফোন নম্বরও উদ্ধার করে। পরে তার পরিবারের সদস্যদের ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করে। পরিবার ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ শনাক্ত করে। ইতিমধ্যে মৃতদেহগুলিকে ময়নাতদন্তের জন্য বাদশা খান সিভিল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জিআরপি এসএইচও রাজ পাল বলেন, 'গোল্ডেন টেম্পল এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক স্টেশন মাস্টারকে ঘটনাটি জানান, এবং তিনি আমাদের খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমরা একটি আধার কার্ড পাই, যেখানে নাম ও একটি ফোন নম্বর ছিল — যা তার স্ত্রীর ছিল। আমরা তাকে ঘটনাটি জানাই এবং তিনিই মৃতদেহ শনাক্ত করেন।'
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির স্ত্রী প্রীতি জানিয়েছেন যে তার স্বামী সন্তানদের পার্কে নিয়ে যাবেন বলে বাড়ি থেকে বের হয়। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, তার স্বামী তাকে সন্দেহ করতেন। কারণ তিনি তাঁর এক ভাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন, তাই তিনি নাকি ভাইয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত। এই সন্দেহ থেকেই তিনি সন্তানদের নিয়ে আত্মহত্যা করেন।
Disclaimer: আপনি কি অবসাদগ্রস্ত? বিষণ্ণ? চরম কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনার হাত ধরতে তৈরি অনেকেই। কথা বলুন প্লিজ...
iCALL (সোম-শনি, ১০টা থেকে ৮টা) ৯১৫২৯৮৭৮২১
কলকাতা পুলিস হেল্পলাইন (সকাল ১০টা-রাত ১০টা, ৩৬৫ দিন) ৯০৮৮০৩০৩০৩, ০৩৩-৪০৪৪৭৪৩৭
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)