Delhi crime news: সোমবার সকালে তিনি এসে ওই তরুণীকে ছাদ থেকে ঠেলে নীচে ফেলে দেন। ওই যুবক উত্তরপ্রদেশের রামপুরের বাসিন্দা। তবে থাকতেন দিল্লিতে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার দিন যে তিনি ওই বহুতলে এসেছিলেন, তা গোপন করতে বোরখা পরে এসেছিলেন তৌফিক।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দিল্লিতে মর্মান্তিক ঘটনা। এক কিশোরীর বাড়িতে বোরখা পরে এক ব্যক্তি ঢুকে পাঁচ তলা থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিল কিশোরীকে। অন্য মেয়েকে বিয়ের করার পরিকল্পনা করছে প্রেমিক। জানতে পেরে গিয়েছিলেন প্রেমিকা। যা নিয়ে দু’জনের সম্পর্কে টানাপোড়েনের শুরু। যা পরিণতি হল ভয়ংকর।
অভিযুক্তের পরিচয়:
উত্তর-পূর্ব দিল্লির অশোক নগরে এই হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে। ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণীকে ২৬ বছর বয়সী তৌফিক নৃশংসভাবে এই হত্যা করেছে। উত্তর প্রদেশের রামপুরের বাসিন্দা তৌফিক নামে ওই অভিযুক্তকে মঙ্গলবার রাতে আটক করেছে পুলিস। বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর তাকে আটক করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের রামপুরের বাসিন্দা ওই ব্যক্তিকে মঙ্গলবার রাতে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহত তরুণী:
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রথমে জ্যোতি নগর থানায় এই ঘটনাটি রিপোর্ট করে পরিবারের লোকজন। পুলিসের মতে, নেহা নামের ওই তরুণীকে তাঁর বাড়ির ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে গুরুতর অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে দ্রুত 'গুরু তেগ বাহাদুর (জিটিবি) হাসপাতালে' নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
অভিযুক্তের গোপন প্ল্যান:
পরিচয় গোপন রাখতে এবং নিহত কিশোরীর পরিবার এবং প্রতিবেশীদের নজর এড়াতে তৌফিক বোরখা পরে বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় তৌফিক স্বীকার করেছেন যে তিনি কোনও সতর্কতা ছাড়াই নেহার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য ছদ্মবেশ ব্যবহার করেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে বোরখা পরা একজন ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকছে এবং পরে সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে বেরিয়েও যাচ্ছে। তদন্তকারীরা কমপ্লেক্সের চারপাশের একাধিক ক্যামেরার ফুটেজ ব্যবহার করে ঘটনার সম্পূর্ণ সময়রেখা পুনর্গঠনের জন্য কাজ করছেন।
সম্পর্কের টানাপোড়েন:
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তৌফিক এবং নেহার মধ্যে বেশ কয়েক মাস ধরে সম্পর্ক ছিল। নেহা যখন জানতে পারেন যে তৌফিক তার পরিবারের পক্ষ থেকে অন্য একজনকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করছে, তখন তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি শুরু হয়। এই কথা নিয়েই নেহাদের ছাদে দুজনের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয় বলে অভিযোগ। প্রাথমিক তদন্তের পর দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরে সম্পর্কে ছিল দু’জনে। কিন্তু নেহা জানতে পেরেছিল যে বাড়ির দেখা অন্য মেয়েকে বিয়েকে করতে চলেছে তৌফিক। এনিয়ে দু’জনের মধ্যে ঝামেলার সূত্রপাত। সেদিনও ছাদে তাঁদের মধ্যে অশান্তি হয়। তারপরই নেহাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় তৌফিক। তাকে মৃতার পরিবার ভালোভাবেই চেনে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
অভিযোগ অস্বীকার:
কিন্তু নেহার পরিবার এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে। তাঁর বাবা জানিয়েছেন যে তৌফিকের সঙ্গে নেহার কখনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল না এবং তিনি তাকে রাখি বাঁধতেন। পরিবারের দাবি, তারা তৌফিককে প্রায় তিন বছর ধরে চিনতেন এবং তিনি প্রায়শই তাদের বাড়িতে আসতেন।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার আরও তদন্ত চলছে। জেরায় বোরখা পরে বহুতলে প্রবেশ এবং নেহাকে ঠেলে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তৌফিক।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)