জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র থেকে একটি খুবই ভয়ঙ্কর ঘটনা সামনে এসেছে। যে মা সন্তানের জন্ম দেয়, সেই মায়ের হাতেই প্রাণ গেল পাঁচ বছরের এক নিষ্পাপ শিশুর। নিজের ছেলেকে খুন করার অপরাধে ওই মহিলাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
Add Zee News as a Preferred Source
ঘটনাটি ঘটে ২৮ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে। অভিযুক্ত মহিলার নাম জ্যোতি রাঠোর। তিনি একজন পুলিস কনস্টেবল ধ্যান সিং রাঠোরের স্ত্রী। পুলিস জানিয়েছে, জ্যোতির সঙ্গে তার প্রতিবেশী উদয় ইন্দোলিয়ার অবৈধ সম্পর্ক ছিল। একদিন ছোট্ট যতীন তার মাকে উদয়ের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। এই দৃশ্যই পরে শিশুটির মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আরও পড়ুন:Assam: ছেলের রেজাল্ট হাতে হাসিমুখে স্কুল থেকে বেরোচ্ছিলেন ৩৫-এর বাবা! গেটের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লেন, আর উঠলেন না...
ছেলে যদি বাবার কাছে সব বলে দেয়—এই ভয় জ্যোতিকে অমানুষিক করে তোলে। নিজের সম্মান বাঁচাতে সে এমন এক সিদ্ধান্ত নেয়, যা ভাবতেই শিউরে ওঠে গা। জ্যোতি নিজের পাঁচ বছরের ছেলেকে দুইতলা বাড়ির ছাদ থেকে নিচে ছুড়ে ফেলে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় যতীন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিভে যায় তার ছোট্ট প্রাণ।
দুর্ঘটনার আড়ালে লুকিয়ে ছিল ভয়ংকর সত্য:
শুরুতে পুলিস মনে করেছিল, ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ায় যতীনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সত্যি বেশিদিন চাপা থাকেনা। ঘটনার প্রায় ১৫ দিন পর জ্যোতি ভেঙে পড়ে এবং স্বামী ধ্যানের কাছে সব কিছু স্বীকার করে। ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই ধ্যানের সন্দেহ হচ্ছিল যে কিছু একটা ঠিক নয়। তিনি জ্যোতির সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের অডিয়ো ও ভিডিয়ো রেকর্ড করেন, যেখানে জ্যোতি নিজের অপরাধ স্বীকার করে। এছাড়াও তিনি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। এই সব প্রমাণ নিয়ে ধ্যান পুলিসে অভিযোগ দায়ের করেন।
আরও পড়ুন:Live in Partner Death: ২ বউকে ছেড়ে লিভ-ইনে, সেই যুবতী প্রীতিকেও মেরে নীল ট্রাংকে ভরে জ্বালিয়ে দিল রেলকর্মী রাম! ঝাঁঝাল ঝাঁসি...
বিচারে মায়ের সাজা, প্রেমিকের মুক্তি:
পুলিস জ্যোতি এবং তার প্রেমিক উদয়- —দুজনের বিরুদ্ধেই মামলা করে। তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। বিচার চলাকালীন আদালত প্রমাণের ভিত্তিতে জ্যোতিকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তবে উদয়ের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় আদালত তাকে খালাস দেয়।
থাটিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমল কিশোর জানান, স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা করা হয় এবং তদন্তে স্ত্রীর ভূমিকা স্পষ্ট হয়। সরকারি আইনজীবী ধর্মেন্দ্র শর্মা বলেন, পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে জ্যোতিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, আর দ্বিতীয় অভিযুক্তকে সন্দেহের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)