জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জে পি নাড্ডার পর দলের হাল ধরবেন কে, এনিয়ে জল্পনা ছিলই। সম্ভবত এবার সেই জল্পনা অবসান হতে চলেছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হতে চলেছেন নিতিন নবীন। বর্তমানে তিনি রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় কার্যকরী সভাপতি রয়েছেন। সূত্রের খবর, আগামী ২০ জানুয়ারি ভোটাভুটির পর নিতিন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি পদ আসীন হতে পারেন। তিনি সবচেয়ে বেশি সময় দলের সভাপতিত্বকারী জে পি নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত হবেন।
Add Zee News as a Preferred Source
ডিসেম্বর মাসেই দলের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব নেন নিতিন। বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী ১৯ জানুয়ারি তিনি দলের সর্বভারতীয় সভাপতির পদে মনোনয়ন জমা দিতে পারেন। পরদিনই অর্থাত্ ২০ জানুয়ারি তাঁর নির্বাচন হয়ে যাবে। ওইদিন বিজেপি শাসিত সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রদেশ সভাপতিকে দিল্লিতে উপস্থিতি থাকতে বলা হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচনের জন্য ৩ সেট মনোনয়ন দাখিল করা হবে। একটি সেটে থাকবে বিভিন্ন রাজ্যের ২০ জনেরও বেশি প্রদেশ সভাপতির সাক্ষর। একটি সেটে সাক্ষর থাকবে নরেন্দ্র মোদী, রাজনাথ সিং, অমিত শাহ ও জে পি নাড্ডার। তৃতীয় সেটে সাক্ষর থাকবে বিজেপির ন্যাশনাল কাউন্সিলের সদস্যদের। যদি একজনর নামই উঠে আসে তাহলে ওই দিনই সর্বভারতীয় সভাপতির নাম ঘোষণা হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন-ঘরে বাইরে প্রবল চাপ, ধর্মঘটের পরই Blinkit-Instamart আর দেবে না ১০ মিনিটে ডেলিভারি
আরও পড়ুন-ছিনতাই করে পালানোর সময় PhonePe-তে মিষ্টির দাম মেটানোই কাল হল, ওই ক্লু ধরেই পুলিস...
কে এই নিতিন নবীন
নিতিন নবীন বিহারের ৫ বারের বিধায়ক। গত ১৪ ডিসেম্বর তাঁকে ভারতীয় জনতা পার্টির কার্যকরী সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তিনি দায়িত্ব পেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সভাপতি হিসেবে কাজ শুরু করতে পারছিলেন না 'খরমাস'-এর কারণে। খরমাস হল 'মলমাস'এমন এক সময় যা হিন্দু শাস্ত্র মতে অশুভ বা কোনো শুভ কাজের জন্য অনুপযুক্ত মনে করা হয়। এই খরমাস ১৪ জানুয়ারি শেষ হচ্ছে, তারপরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন নিতিন।
দলীয় সূত্রে খবর, নিতিন নবীন বর্তমানে এই পদের জন্য সবথেকে যোগ্য এবং শক্তিশালী প্রার্থী। যদি তিনি নির্বাচিত হন,তবে ৪৫ বছর বয়সী নিতিন নবীনই হবেন বিজেপির ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী সর্বভারতীয় সভাপতি। তাঁর কার্যকাল ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হওয়ার কথা। তবে সেই বছর লোকসভা নির্বাচন থাকায়,তাঁর এই পদের মেয়াদ আরও কিছুটা বাড়ানো হতে পারে।
বিজেপির দলীয় সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় এবং রাজ্য কাউন্সিলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি 'ইলেক্টোরাল কলেজ' বা নির্বাচক মণ্ডলী নতুন সভাপতি বেছে নেন। সভাপতি পদের প্রার্থীকে অন্তত ১৫ বছর দলের প্রাথমিক সদস্য থাকতে হবে। পাশাপাশি, নির্বাচক মণ্ডলীর অন্তত ২০ জন সদস্যের সমর্থন তাঁর থাকতে হবে। একজন ব্যক্তি টানা সর্বোচ্চ ২ বার বা মোট ৬ বছর এই পদে থাকতে পারেন।
নির্বাচন প্রক্রিয়া
প্রথমে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে হয়, এরপর ভোটগ্রহণ চলে। শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে ভোট গণনা এবং ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
সম্প্রতি বিজেপির সদর দপ্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। সেখানে নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক কে লক্ষ্মণ এবং সহ-আহ্বায়ক সম্বিত পাত্র ও নরেশ বনসল পুরো নির্বাচনী সূচি এবং প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছেন। খুব শীঘ্রই এই নির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)