)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বড় কোনও প্রস্তুতি! বঙ্গোপসাগরে নো ফ্লাই জোন জারি করল ভারত। প্রায় ২৫২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে জারি থাকবে ওই বিধিনিষেধ। মনে করা হচ্ছে কোনও মিসাইল টেস্টের জন্যই জারি করা হয়েছে ওই নোটাম(NOTAM)। আগামী ১৭-২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত জারি থাকবে ওই নোটাম। সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত জারি থাকবে বিধিনিষেধ। ওই সময়ের মধ্যে কোনও বিমান বা জাহাজ ওই এলাকা দিয়ে যেতে পারবে না। কারণ এর মধ্যে কোনও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এত বিশাল এলাকা নো ফ্লাই জোন কেন?
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতবড় এলাকায় নো ফ্লাই জোন ঘোষণা করার অর্থ বিরাট পাল্লার কোনও মিসাইল টেস্ট করা হতে পারে। কারণ সাধারণ কোনও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় জন্য আড়াই হাজার কিলোমিটারের বেশি এলাকা নেওয়া হয় না। ফলে বড় কোনও প্রস্তুতি নিতে চলেছে কেন্দ্র। গত অক্টোবর মাসে এরকমই এক মিসাইল পরীক্ষা করা হয়েছিল। তার জন্য ১৪৮০ কিলোমিটার। এবার তার থেকে অন্তত এক হাজার কিলোমিটার বেশি এলাকা নেওয়া হচ্ছে।
কোনও কোনও মহল থেকে অনুমান করা হচ্ছে এবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পাল্লা শুধু বেশিই হবে না বরং তা পরীক্ষা করা হতে পারে কোনও সাবমেরিন থেকে। গোটা বিষয়টি নিখুঁতভাবে নজর রাখবে ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনা। কারণ ক্ষেপণাস্ত্রের ভাঙা অংশ যে কোনও জায়গায় পড়তে পারে।
এমন একটা সময়ে এই বিশাল পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে যখন ভারতের দুই প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশে ভোটের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি পাকিস্তান তার নিজের সমস্যা নিয়ে জর্জরিত। পাকিস্তানে একসময়ের আইএসআই প্রধান ফাইজ হামিদকে সেনা আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে সংবাদমাধ্যমের খবর, আগামী ১৭-২০ ডিসেম্বরের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র টেস্ট করতে পারে ডিআরডিও। ফলে তার জন্য কড়া ভাবে নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে চলা হচ্ছে। অনুমান করা হচ্ছে সাবমেরিন থেকে
k-4 ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হবে।
k-4 ক্ষেপণাস্ত্র কী
k-4 ক্ষেপণাস্ত্রে যে জ্বালানি থাকে তা হল সলিড ফুয়েল। সাবমেরিন থেকে এটিকে লঞ্চ করা যায়। এটিতে ব্যবহার করা হয়েছে অগ্মি মিসাইলের প্রয়ুক্তি। ২০০৯ সালে আইএনএস আরিহান্ত জলে নামার পর এই মিসাইলের তৈরির কাজ শুরু হয়।
কেন এই k-4 ক্ষেপনাস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ
আইএনএস আরিহান্ত ও আইএনএস আরিঘাটে ৪টি করে K-4 ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। ২০২৫ সালের পরে S4-শ্রেণির ডুবোজাহাজগুলি প্রতিটিতে ৮টি পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম হবে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে K-4 ক্ষেপণাস্ত্রটি আরিহান্ত-শ্রেণির ডুবোজাহাজে সম্পূর্ণ কর্মক্ষম ক্ষমতা অর্জন করেছিল। K-4 ক্ষেপণাস্ত্র ভারতকে গভীর সমুদ্রের জল থেকে চিন ও পাকিস্তানের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার ক্ষমতা রাখে।
K-4 ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য
K-4 ক্ষেপণাস্ত্রটি লম্বায় ১০-১২ মিটার। ব্যাস ১.৩ মিটার। ওজন ১-২০ টন। এটি একাধিক ওয়ারহেড-সহ মোট ২ টন পেলোড বহন করতে পারে।
এটির পাল্লা ৩,০০০-৩,৫০০ কিলোমিটার। GPS এবং NavIC নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করে।
এটি ব্যবহার করে ২০-৫০ মিটার গভীরতায় সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)