Chirag Madaan Viral Video: ৯টা–৫টার চাকরি সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলত কাজ। তাতেও শেষ হত না। এমনকি ৫ দিনের জায়গায় ওয়ার্কিং ডে বাড়িয়ে ৬ দিনের করে দেওয়া হয়। বিশ্রামের কোনও সুযোগ প্রায় থাকত না। ব্যক্তিগত সময়ও পাওয়া যেত না।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অসুস্থতায় ছুটি নেই। লাঞ্চ ব্রেক মাত্র ১৫ মিনিট। তাই বছরে ১৭ লক্ষ টাকার প্যাকেজের চাকরি জাস্ট ছুঁড়ে ফেললেন IIIT দিল্লির স্নাতক। কর্পোরেট ব্যাংকিং সেক্টরে কাজ করা চিরাগ মাদান নামে IIIT দিল্লির স্নাতক ওই তরুণ এক ভাইরাল ভিডিয়োতে জানিয়েছেন, প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা বার্ষিক বেতনের চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত হঠাৎ নয়। বরং ক্রমবর্ধমান কাজের অনৈতিক চাপ থেকেই এসেছে।
৫ দিনের কর্মসপ্তাহ বাড়িয়ে ৬ দিন
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনজির দিল্লি থেকে স্নাতক ২৪ বছর বয়সী চিরাগ মাদানের ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই ‘টক্সিক ওয়ার্ক কালচার’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাদান ভিডিয়োতে জানিয়েছেন, শুরুতে ৯টা–৫টার চাকরি হলেও ধীরে ধীরে কাজের সময় বেড়ে যায়। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বা তারপরেও চলত কাজ। এমনকি ৫ দিনের কর্মসপ্তাহ বাড়িয়ে ৬ দিনের করে দেওয়া হয়। ফলে বিশ্রামের কোনও সুযোগ প্রায় থাকত না। বা ব্যক্তিগত সময়ও পাওয়া যেত না।
অসুস্থতাতেও ছুটি নেই
ভিডিয়োতে চিরাগ আরও বলেন, কাজের ফাঁকে ব্রেক নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল। লাঞ্চ ব্রেক ছিল খুবই সীমিত সময়ের জন্য। মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে কাজ শেষ করতে হত। কারণ কাজের চাপ ছিল অবিরাম। অসুস্থতাতেও ছুটি পাওয়া যেত না। তার জন্য বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হত। এসব কারণে মানসিক চাপ বাড়ছিল। শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হতে শুরু করেন তিনি।
হাই টার্গেট
তাঁর মতে, এহেন চাপের বড় কারণ ছিল অত্যন্ত হাই টার্গেট রাখা। কর্মীদের প্রায় ১০ কোটি টাকার ডিল ক্লোজ করতে বলা হত। আর লক্ষ্যপূরণ না হলে বাড়তি চাপ। বার বার পারফরম্যান্স মূল্যায়নের মুখে পড়তে হত। সময়ের সঙ্গে এই চাপ তাঁর উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। অনেকে এসব মুখ বুজে সহ্য করে নিতে পারলেও তিনি পারেননি।
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
চিরাগ মাদানের এই ভিডিও সামনে আসার পরই কর্পোরেট দুনিয়ার অবাস্তব প্রত্যাশা, দীর্ঘ ওয়ার্কং আওয়ার এবং স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ফের নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চিরাগের এই ভিডিয়োতে মিলেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ নিজের সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য মাদানকে সমর্থন করেছেন। আবার অনেকে তাঁদের নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়ে ভিডিয়োটিকে “বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি” বলে উল্লেখ করেছেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)