জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বন্দেমাতরম-এর দেড়শো বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা চলছিল সংসদে। সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বন্দে মাতরম নিয়ে বলতে গিয়ে বঙ্কিম চন্দ্রকে 'বঙ্কিমদা' বলে সংসদে বিরোধীদের মধ্যে তুফান তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এনিয়ে সংসদে আপত্তি জানান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভুল শুধরে নেন। তবে আরও একাধিক বাঙালি নাম ভুল বলেন প্রধানমন্ত্রী। যেমন পুলিন বিহারী দাসের কথা বলতে গিয়ে বলেন পুলিনবিকাশ। শুধু তাই নয় মাস্টারদা সূর্য সেনের নাম থেকে দা শব্দটা বাদ দিয়ে দেন বাকপটু প্রধানমন্ত্রী।
Add Zee News as a Preferred Source
সংসদে এদিন প্রধানমন্ত্রী বলতে শুরু করেন 'বঙ্কিমদা' বন্দেমাতরম রচনা করেন। স্বাভাবিকভাবেই তা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কন্ঠ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রতিটি ভারতবাসীর কাছে বন্দে মাতরম সংকল্প হয়ে যায়। কংগ্রেস বুঝে গিয়েছিল, বাংলা থেকে ওঠা এই মন্ত্র...। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মাঝেই সৌগত রায় বলে ওঠেন, বঙ্কিমদা নয় অনন্ত বঙ্কিমবাবু বলুন। সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলে ওঠেন, আচ্ছা আচ্ছা বঙ্কিমবাবু। আপনার কথাকে সম্মান করি। দাদা, থ্যাঙ্কু।
এখানেই শেষ নয়, আবারও ভুল হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম করতে গিয়ে। এবার সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত বলেন, বঙ্কিমদাস চট্টোপাধ্যায়। তারপর বঙ্কিমদা। প্রিয়াঙ্কার দেওয়া তথ্য খণ্ডন করতে গিয়ে তিনি ফের ওই ভুল করে বসেন। শোরগোল পড়ে যায় সংসদ কক্ষে।
প্রধানমন্ত্রীর ওই ভুল নিয়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, কাকে বাবু বলতে হয়, কাকে দাদা বলতে হয়, সেই জ্ঞান মোদীজী বা বিজেপির নেই। এটা একধরণের অপমান। মোদী বোধহয় বঙ্কিমচন্দ্র বলতে, সিপিএম থেকে বিজেপিতে আসা বঙ্কিম ঘোষকে ভেবেছেন। আসলে চটুল মানসিকতা প্রকাশ পায়। বাংলাকে আগাগোড়া অপমানের প্রকাশ এই কথাতেই।
আরও পড়ুন-হরিয়ানার হানাদার! মায়ের সঙ্গে লিভ-ইনে থাকা লোকটা একলা পেয়ে মেয়েকেও ছাড়ল না... গা ঘিনঘিনে নোংরামি...
আরও পড়ুন-হচ্ছেটা কী! হাতে মারাত্মক অস্ত্রসস্ত্র, ওড়িশায় একশোর বেশি বাঙালির ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিল উন্মত্ত জনতা...
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা হয়, বিজেপি যে কতটা বাংলা-বিরোধী, সেটার প্রমাণ হাতে-নাতে দিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বহু বছর ধরে বাংলার মনীষীদের নানা ভাবে কলুষিত করা, ভুলভাল নামে অ্যাখ্যায়িত করা- বিজেপির প্রতিটি অপচেষ্টা প্রমাণ করেছে, ওরা বাংলার ভাষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি- সবকিছুতেই সম্পূর্ণ 'বহিরাগত'।
জে.পি. নাড্ডা দেখিয়েছিলেন তিনি কতটা অজ্ঞ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরর জন্মস্থান শান্তিনিকেতন বলেছিলেন। স্বামীজিকে কলুষিত করতে গিয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার, তাঁকে 'অজ্ঞ বামপন্থী প্রোডাক্ট' বলেছিলেন। অমিত শাহের মিছিলে তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গরা পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তিটাই ভেঙে ফেলেছিল। আর এখন, রাজ্যসভায় বন্দে মাতরম্ নিষিদ্ধ করার পর সামনে এল নতুন হাস্যকর ঘটনা। সংসদে দাঁড়িয়ে বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রাণপুরুষ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে মোদীজি বলছেন 'বঙ্কিম দা।' বাংলা যাঁদের শ্রদ্ধা করে, তাঁদের এভাবে ডাকে না। এটা শ্রদ্ধার ভাষা নয়, সাংস্কৃতিক অজ্ঞতার প্রমাণ।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলার সংস্কৃতির মেরুদণ্ড, বিজেপির ড্যামেজ কন্ট্রোলের উপকরণ নন। আর বিজেপি নেতারা শুনে রাখুন, আপনারা ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী নন, আপনারা নকলের উত্তরাধিকারী। যাদের মনে বাংলা বিরোধী বিষ, তাদের এই বাংলা-প্রেমের 'অভিনয়' মানুষ আগেই ধরে ফেলেছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)