)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ১৯ জুলাই বন্ধুর বাড়ি থেকে বই দিয়ে ফিরছিলেন। পথে তিন যুবক মিলে হঠাত্ পনেরোর কিশোরীকে আটকে গায়ে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুবনেশ্বর এইমসে ভর্তির পরের দিন ২০ জুলাই তাঁকে এয়ারলিফট করে দিল্লি এইমসে ভর্তি করানো হয়। ৭৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় কিশোরীর চিকিত্সা চলছিল। ২ অগাস্ট তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
নির্যাতিতা কিশোরীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর মোড় নেয়। প্রথমে জানা গিয়েছিল যে, তিন ব্যক্তি মিলে কিশোরীর গায়ে আগুনে ধরিয়ে দেয়। কিন্তু এখন পুলিস দাবি করছে, এই ঘটনার পিছনে কেউই জড়িত নয়।
এখানেই শেষ নয়, নির্যাতিতার বাবাও চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি একটি ভিডিয়োতে প্রকাশ করেন যে, মেয়ে নাকি মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। বাবার এহেন দাবিতে গোটা দেশ হতবাক।
পুলিস এক বিবৃতিতে বলে, 'এই দুঃখজনক মুহূর্তে আমরা সবাইকে অনুরোধ করছি-এই বিষয় নিয়ে কোনো সংবেদনশীল মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।' এরপর নির্যাতিতার বাবার একটি আবেগঘন ভিডিয়ো সামনে আসে। যেখানে তিনি বলেন যে, তাঁর মেয়ে মানসিকভাবে ভীষণ কষ্টে ছিল এবং সকলকে অনুরোধ জানান, এই ঘটনাটি রাজনীতির হাতিয়ার না বানাতে।
বাবার চাঞ্চল্যকর মন্তব্য:
তিনি বলেন, 'আমি আমার মেয়েকে হারিয়েছি। সে মানসিক চাপের কারণে নিজের জীবন শেষ করেছে। যে যন্ত্রণা সে সহ্য করছিল, তা অসহনীয় ছিল। আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই—ওড়িশা সরকার আমার ও আমার পরিবারের জন্য অনেক কিছু করেছে। আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, কেউ যেন এই ট্র্যাজেডিকে রাজনীতির রঙ না দেয়। শুধু তার আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করুন। এখন আমি শুধু আমার মেয়ের জন্য শান্তি চাই।'
অন্যদিকে, নির্যাতিতার মৃত্যুতে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মজিহি জানান, সরকার ও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা সত্ত্বেও মেয়েটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওড়িশা পুলিস জানায়, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে অন্য কারও জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। তবে মেয়েটির শরীরে আগুন লাগার ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, সে বিষয়ে পুলিস কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান:
অথচ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছিলেন, 'মেয়েটি দাউ দাউ করে জ্বলতে জ্বলতে তাদের বাড়ির দিকে ছুটে আসে। তাঁর হাত বাঁধা ছিল। সে গুরুতর দগ্ধ হয়েছিল। তিনি, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে মিলে আগুন নিভিয়ে দেয় এবং তাকে নতুন কাপড় দেয়। তখন কিশোরী তাদের বলে, তিনজন লোক দুটি বাইকে করে জোর করে তাকে এখানে নিয়ে আসে, কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়।'
এমনকি মেয়েটির মা-ও প্রথম এফআইআরে উল্লেখ করেছিলেন যে অজ্ঞাত পরিচয় তিনজন ব্যক্তি তাঁর মেয়েকে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। মেয়ের মৃত্যুর পর বাবা একেবারেই সেই অভিযোগ উড়িয়ে দেয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)