)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেশজোড়া ধর্মীয় ভাবাবেগের কেন্দ্রস্থল পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে (Puri Jagannath Mandir) জঙ্গি হামলার হুমকি (Terrorist Attack)। মন্দিরের দেওয়ালে আঁকাবাঁকা হস্তাক্ষরে হুমকিবার্তা (Threatening graffiti) দেখতে পাওয়া যাওয়ার পর থেকেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা পুরীতে। শুধু ভক্ত নয়, প্রশাসনের শীর্ষ মহল পর্যন্ত এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে। বুধবার সকালে এই হুমকি বার্তাটি প্রকাশ্যে আসার পর পরই মন্দির সহ গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এলাকাজুড়ে তড়িঘড়ি বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী, এবং গোয়েন্দা বিভাগ নেমে পড়েছে তদন্তে।
ঘটনার সূত্রপাত
বুধবার সকালে মন্দিরের হেরিটেজ করিডোরের কাছে একটি দেওয়ালে কিছু স্থানীয় বাসিন্দা প্রথম এই বার্তাটি দেখতে পান। ওড়িয়া এবং ইংরেজি, দুটি ভাষাতেই লেখা ছিল, 'পুরীর মন্দির উড়িয়ে দেওয়া হবে খুব শীঘ্রই। প্রস্তুত থাকুন। জঙ্গিরা মন্দির ধ্বংস করে দেবে।'
শুধু তাই নয়, ওই বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। হুমকির পাশাপাশি, বেশ কয়েকটি ফোন নম্বরও দেওয়ালে লেখা ছিল এবং সেগুলিতে ফোন করার জন্য বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে মন্দির চত্বরের বেশ কয়েকটি লাইট পোস্টও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই ঘটনা পুরীর শান্ত পরিবেশকে এক নিমেষে আতঙ্কের চাদরে ঢেকে দিয়েছে।
পুরীর নিরাপত্তার প্রশ্ন
এই ঘটনা আবারও দেশের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। পুরো মন্দির চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং দিবারাত্র টহলরত নিরাপত্তা কর্মী থাকা সত্ত্বেও এমন হুমকি বার্তা কীভাবে দেওয়ালে লেখা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়রা এবং মন্দির কর্তৃপক্ষ উভয়ই এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন। এই মুহূর্তে পুরীর পুলিশ সুপার (এসপি) জানিয়েছেন যে, বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, 'এটি সরাসরি মন্দিরের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি বিষয়। আমাদের দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে।'
তদন্ত
সিসিটিভি নজরদারির বিষয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, মন্দিরের কিছু এলাকায় এখনও সিসিটিভি বসানোর কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে এবং দেওয়াল লিখনটি যেখানে লেখা হয়েছে, সেখানে ক্যামেরা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিস ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। কে বা কারা, কোন উদ্দেশ্যে এরকম লিখেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য সব দিক থেকেই তদন্ত চলছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, দেওয়াল লিখনের পিছনে কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা, মানসিক বিকারগ্রস্ত ব্যক্তির কাজ, নাকি সত্যিই এর পেছনে কোনো জঙ্গি সংগঠনের হাত আছে, তা জানতে পুলিস বদ্ধপরিকর।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম উল্লেখ থাকায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে খবর। এই মুহূর্তে পুরীর মন্দির চত্বরে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। তীর্থযাত্রীদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পুরো পরিস্থিতি এখন পুলিসের কড়া নজরদারিতে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)