জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়েই রাশিয়ার থেকে ভারতের তেল কেনা (India's crude oil imports) নিয়ে বড় কথা বলে দিলেন পুতিন (Putin India Visit)। রাশিয়ার থেকে ভারত তেল কেনায় ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেই প্রসঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের (Putin On Tariffs) সপাটে জবাব, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি আমাদের থেকে জ্বালানি কিনতে পারে, তাহলে ভারত কেন পারবে না?"
Add Zee News as a Preferred Source
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আর রাশিয়ার ওপর বাড়তি নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি (India's crude oil imports) এই মাসে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নামতে চলেছে। ভারতের মাটিতে পা দিয়েই সেই প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কড়া বার্তা দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Putin On Tariffs)। জোর দিয়ে তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র রুশ জ্বালানি কিনতে পারে, তাহলে ভারতের কেন তা করার অধিকার থাকবে না? (If US Has Right To Buy Our Fuel, Why Should not India)
চার বছর পর ফের ভারত সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন (Putin India Visit)। পুতিনের এই সফরের লক্ষ্য রুশ তেল, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, ফাইটার জেটের বিক্রি বাড়ানো এবং জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বাইরেও দু'দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন মস্কোর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে ভারতকে চাপ দিচ্ছে, সেই সময় পুতিনের ভারত সফর নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রও রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি কেনে
নয়াদিল্লি ও মস্কোর সম্পর্ক সোভিয়েত যুগ থেকেই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কয়েক দশক ধরে ভারত রুশ অস্ত্রের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা (Western sanctions) সত্ত্বেও সমুদ্রপথে বহনযোগ্য রুশ তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবেও উঠে এসেছে ভারত (India top buyer of seaborne Russian oil)। আর সেই প্রসঙ্গেই পুতিনের ট্রাম্পকে কড়া বার্তা, "যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার থেকে জ্বালানি কিনতে পারে, তবে ভারত নয় কেন?"
রাশিয়া–ভারত তেল বাণিজ্য স্বাভাবিকভাবে চলছে
পুতিন আরও বলেন, পশ্চিমী চাপের কারণে ভারতের তেল আমদানি চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কিছুটা কমেছে। তবে সেটা খুবই সামান্য। মোট বাণিজ্য আগের মতোই প্রায় একই পর্যায়ে আছে। পুতিন আরও বলেন, “পেট্রোলিয়াম পণ্য ও অপরিশোধিত তেল, ভারতের সঙ্গে রুশ তেলের বাণিজ্য মোটামুটি স্বাভাবিকভাবেই চলছে।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে উপকৃত করতেই এই ধরনের শুল্ক নীতির আরোপ বলেও মন্তব্য করেন পুতিন। আশা প্রকাশ করেন, শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) হস্তক্ষেপে সব সমস্যার সমাধান হবে।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বহুমুখীকরণের লক্ষ্য
রাশিয়া ও ভারতের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো। ২০২১ সালের প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ২০২৪–২৫ সালে প্রায় ৬৯ বিলিয়ন ডলারে উঠে এসেছে। যার বেশিরভাগের মূলেই ভারতের জ্বালানি আমদানি। ২০২৫ -এর এপ্রিল–অগাস্ট মাসে এই বাণিজ্য কমে দাঁড়িয়েছে ২৮.২৫ বিলিয়ন ডলারে। যার অন্যতম কারণ ভারতের অপরিশোধিত রুশ তেল আমদানি কমানো।
ওদিকে রাশিয়াও আরও বেশি ভারতীয় পণ্য আমদানি করতে চায়। যাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ভারসাম্য আনা যায়। কারণ বর্তমানে তা জ্বালানির ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল জানিয়েছেন, ভারতও রাশিয়ায় রপ্তানির বৈচিত্র্য বাড়াতে চায়। যেজন্য রাশিয়ায় গাড়ি, ইলেকট্রনিকস, ডেটা-প্রসেসিং যন্ত্রপাতি, ভারী যন্ত্রপাতি, শিল্প উপাদান, টেক্সটাইল এবং খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে আগ্রহী ভারত।
আরও পড়ুন, Putin India Visit: গোটা 'প্রাসাদ উড়িয়েই' ভারতে পুতিন! রুশ রাষ্ট্রপতির 'উড়ন্ত ক্রেমলিন' এক বিস্ময়কর বিস্ময়...
আরও পড়ুন, Repo Rate Cut: রেপো রেট কমাল RBI! মধ্যবিত্তদের স্বস্তি দিয়ে মাসে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত কমবে গৃহঋণে EMI...বুঝে নিন পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব...
.(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)