)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের নির্যাতিতার মা বাবা গত একবছর ধরে মেয়ের ন্যায়বিচারের আশায় হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টের দরজায় হন্যে হয়ে ঘুরেছে। মেয়ের উপর ঘটে চলা অকথ্য অত্যাচারে মৃত্যুর পর, প্রকৃত অপরাধীরা এখনও বিচার পায়নি বলেই মনে করেন তাঁরা।
বাবা-মায়ের গয়ায় পিন্ডদান:
মৃত মেয়ের আত্মার শান্তি কামনায়, আর জি করের নির্যাতিতা ডাক্তারের বাবা-মা গয়ায় পিন্ডদান করলেন। মেয়ের মৃত্যুর প্রায় এক বছরের মাথায় এই পিণ্ডদান করলেন অসহায় মা-বাবা।
নির্যাতিতা ডাক্তারের বাবা-মা তাদের মৃত মেয়ের আত্মিক শান্তি ও মোক্ষ লাভের জন্য গয়াধাম পৌঁছেছেন। সেখানে তারা ফাল্গু নদীর তীরে অবস্থিত শঙ্করাচার্য হলে পূর্ণাঙ্গ রীতি মেনে তাদের মেয়ের শ্রাদ্ধকর্ম ও পিন্ডদান সম্পন্ন করেছেন।
শ্রাদ্ধ ও পিন্ডদানের পর তারা বিষ্ণুপদে পিন্ড নিবেদন করে মেয়ের মোক্ষ কামনা করেছেন। এর পাশাপাশি তারা দেবঘাট, অক্ষয়বট ও প্রেতশিলায়ও পিন্ডদান করেছেন। মৃত মেয়ের বাবা-মা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাদের মেয়ের শ্রাদ্ধকর্ম ও পিন্ডদান করেন।
৯ আগস্ট ২০২৪-এর ঘটনা এবং বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ:
৯ আগস্ট ২০২৪-এ কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজে ট্রেনিং ডাক্তারের সঙ্গে একটি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। এরপর চিকিৎসারত অবস্থায় সেই নির্যাতিতা ডাক্তারের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার দেওয়ার দাবি জানানো হয়। তবে, ভুক্তভোগী পরিবার এখনও পর্যন্ত কোনও ন্যায়বিচার পায়নি।
মায়ের আকুতি ও ন্যায়বিচারের আশা:
গয়ায় পৌঁছানর পর নির্যাতিতার মা জানিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের মেয়ের আত্মার শান্তির জন্য এখানে এসেছেন। তিনি বলেন, ৯ আগস্ট ২০২৪-এ তাদের মেয়ের সঙ্গে যে নারকীয় ঘটনা ঘটেছিল, তার জন্য তারা এখনও লড়াই করে যাচ্ছেন এবং তাদের মেয়ে এখনও ন্যায়বিচার পাননি। তবে, তাদের বিশ্বাস যে, একদিন তারা অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন এবং অপরাধীরা কঠোরতম শাস্তি পাবে, আর কোনও অপরাধীই রেহাই পাবে না।
পন্ডার বিবরণ:
শ্রাদ্ধকর্ম ও পিন্ডদান সম্পন্নকারী পান্ডা দামোদার লাল ঝাঙ্গর জানিয়েছেন যে, নির্যাতিতার মা বাবা কলকাতা থেকে এসেছেন এবং তাদের পূর্বপুরুষরা বাংলাদেশের বগুড়া জেলার রহিমাদের বাগহাট থানার দেবনাথ পরিবারের বাসিন্দা ছিলেন।
তিনি বলেন, তাদের মেয়ে কলকাতায় ডাক্তার ছিল এবং তার মৃত্যু হওয়ায় তার বাবা-মা গয়াধামে শ্রাদ্ধ করতে এসেছেন। পান্ডা আরও জানান, তারা সময়ের সঙ্গে কাজটি করেছেন। মেয়ের মৃত্যুর পর তার সুখ-শান্তি ও আত্মার শান্তির জন্য পিন্ডদান করা হয়েছে। প্রথমে ফল্গু নদীতে, দ্বিতীয়ত ভগবান বিষ্ণুর মন্দিরে, তৃতীয়ত অক্ষয়বটে এবং চতুর্থত প্রেতশিলায় পিন্ডদান করা হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)