Rapido bike driver harassed Bengali Girl: লোকেশন বুকিং নিয়ে Rapido চালক পিক-আপ পয়েন্টে এসে পৌঁছান। ট্রিপ শুরুর ওটিপি নেন। কিন্তু তারপরই শুরু হয় নাটক। তারপর যা হল...

সুদেষ্ণা পাল: বেঙ্গালুরুর রাস্তায় অ্যাপ বাইকচালকের হাতে চূড়ান্ত হেনস্থা (Rapido bike driver harassed in Bengaluru)। এমনকি হুমকিও। ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হল প্রকাশ্যে, জনবহুল রাস্তায়।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। অফিস থেকে ফেরার পথে, ব্যস্ত সময়ে। যে কোনও মেট্রো সিটিতেই এখন ফাস্টলাইফে সময়ের সঙ্গে দৌড়তে ও সময় বাঁচাতে ওয়ার্কিং তরুণীদের বড় ভরসা অ্যাপ বাইক। আর বেঙ্গালুরুর মতো হাইটেক সিটিতে অ্যাপ বাইক (App Bike) যেন লাইফলাইন! অ্যাপ অটো বা ক্যাবের চেয়ে বাইকে খানিক পয়সাও সাশ্রয়, আবার টাইম সেভিংও। এককথায়, অ্যাপ বাইক ছাড়া রোজের 'ডেইলি প্যাসেঞ্জারি' জীবন যেন অচল!
আদালতের নির্দেশে অবশ্য বেঙ্গালুরু শহরে মাস দুয়েকের উপর বন্ধ ছিল অ্যাপ বাইক (App Bike Service) পরিষেবা। সম্প্রতি ফের চালু হয়েছে এই অ্যাপ বাইক পরিষেবা। বাইক পরিষেবা চালু হতেই খানিক দম ছেড়ে বেঁচেছিলাম! কিন্তু সপ্তাহের দ্বিতীয় কাজের দিনের সন্ধ্যায় অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে যে অভিজ্ঞতা হল... তা দুর্বিষহ বললে কম বলা হবে। বলা ভালো, ভয়াবহ!
উত্তর বেঙ্গালুরুর বিদ্যানারায়ণপুরার থিন্ডলু সার্কেলের আবাসন থেকে শহরের একেবারে কেন্দ্রে ট্রিনিটিতে অফিস, আমার রোজনামচার পথ। অ্যাপ বাইকে আবাসন থেকে গ্রিন লাইনের স্যান্ডাল সোপ ফ্যাকটরি মেট্রো স্টেশন। সেখান থেকে ম্যাজেস্টিকে মেট্রো বদলে ফের পার্পল লাইনে ট্রিনিটে মেট্রো স্টেশন। ফিরতি পথেও ঠিক একইভাবে ট্রিনিটি থেকে ২ বার মেট্রো বদলে স্যান্ডাল সোপ ফ্যাকটরি মেট্রো স্টেশন। সেখান থেকে অ্যাপ বাইকে বাড়ি। এই হচ্ছে রোজকার রুটিন। স্যান্ডাল সোপ ফ্যাকটরি মেট্রো স্টেশন থেকে থিন্ডলু সার্কেল, ১০ কিমি পথের ভাড়া ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকাও গুনতে হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যাতেও অফিস থেকে ফেরার পথে স্যান্ডাল সোপ ফ্যাকটরি মেট্রো স্টেশনে পৌঁছে অ্যাপ বাইক বুক করি। বুকিং নিয়ে Rapido চালক পিক-আপ পয়েন্টে এসে পৌঁছানও। ট্রিপ শুরুর আগে ওটিপিও নেন আমার থেকে। কিন্তু তারপরই শুরু হয় নাটক। ওটিপি নেওয়ার পর, তাঁর মনে হয় তিনি ওই টাকায় অতদূর যাবেন না! আমি তখন তাঁকে বলি, তাহলে ট্রিপটা ক্যানসেল করে দিন! কিন্তু তিনি সন্দেহজনক আচরণ করতে শুরু করেন। প্রথমে বাইক নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। আমি তাঁকে আটকালে, তখন তিনি পালটা হুমকি দিতে থাকেন, "করব না আমি ট্রিপ ক্যানসেল, আপনি করুন!" (Rapido bike driver harassed in Bengaluru)
কিন্তু আমি ট্রিপ ক্যানসেল করতে গিয়ে দেখি, ট্রিপ ক্যানসেল হচ্ছে না। কাস্টমার ট্রিপ ক্যানসেল করতে পারবে না, পরিষ্কার জানাচ্ছে সংস্থা। সেকথা আবদুল কাদির নামে ওই Rapido বাইক চালককে জানালে চূড়ান্ত অভব্যতা শুরু করেন তিনি! শুরু হয় কাস্টমার কেয়ারে ফোনের 'নাটক' ও সঙ্গে আমি তাঁকে ট্রিপ ক্যানসেল না করে সেই জায়গা ছাড়তে না দেওয়ায় শুরু হয় হুমকি দেওয়া! (Rapido bike driver harassed)

বিপদ বুঝে আমি তাঁর ও তাঁর বাইকের ছবি তোলার পর হুমকির মাত্রা আরও বাড়ে। পালটা আমাকেই পুলিসের ভয় দেখানো শুরু হয়! লোক জমে যায় রাস্তায়, মেট্রো স্টেশনের সামনে। তিনি ওটিপি দিয়ে ট্রিপ 'স্টার্ট' করে দেওয়ায়, মাঝপথে তাঁর ট্রিপ 'এন্ড' করা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। যেটা করতে গেলে তাঁর রেটিং-এ প্রভাব পড়বে! আর সেটা বুঝতে পেরেই এই চূড়ান্ত অভব্যতা।
শেষে কোনওমতে জমায়েত লোকদের সাহায্যে ওই বাইক চালকের কাছ থেকে জোর করে তাঁর ফোন নিয়ে ট্রিপ এন্ড করতে সক্ষম হই। ভিন রাজ্যে, ভিন শহরে এসে ভাষাগত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে অনেকবারই। ফোন-পে কাজ না করায়, নগদ থাকা সত্ত্বেও বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু কালকের এই অভিজ্ঞতা যেন সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)