রেপো ও রিভার্স রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখল আরবিআই

৬.৫০ শতাংশেই থাকল রেপো রেট। 

Updated By: Oct 5, 2018, 04:20 PM IST
রেপো ও রিভার্স রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখল আরবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদন: সুদের হার অপরিবর্তিত রাখল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। রেপো রেট ও রিভার্স রেপো রেটে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। মূল্যবৃদ্ধি নিয়্ন্ত্রণেই শুক্রবার ঋণনীতি ঘোষণায় এই সিদ্ধান্ত নিল আরবিআই। অনেকেই বলছেন, মুদ্রাস্ফীতি কমাতে 'নিরপেক্ষ' থেকে 'কঠোর' অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক। বর্তমানে রেপো রেট ৬.৫০ শতাংশ। এবং রিভার্স রেপো রেট ৬.২৫ শতাংশ। আরবিআই জানাল, ২০১৯ সালের মার্চের আগে ৪.৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে মূল্যবৃদ্ধি। শিল্পমহল অবশ্য উত্সবের মরসুমে রেপো রেট বদলের আশা করেছিল।     

নীতি নির্ধারণ নথিতে চলতি অর্থবর্ষে দেশের সম্ভাব্য আর্থিক বৃদ্ধির পরিসংখ্যানে কোনও বদল করেনি আরবিআই। আগের মতোই জিডিপি-র হার অপরিবর্তিত রয়েছে ৭.৪ শতাংশে। জুলাই-সেপ্টেম্বর মূল্যবৃদ্ধি থাকতে পারে ৪ শতাংশ। অক্টোবর থেকে মার্চ ৩.৯-৪.৫ শতাংশে থাকতে পারে মূল্যবৃদ্ধি। 

কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের আর্থিক নীতি কমিটির মতে, বিশ্বের নানা ঘটনায় নেতিবাচর প্রভাব ফেলছে ব্যবসায়। দাম বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের। বিশ্বজুড়ে আর্থিক মন্দার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব পড়তে পারে আর্থিক বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতিতে। দুই প্রেক্ষাপটে ঝুঁকি বাড়ছে। এর ফলে ক্ষুদ্রস্তরে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। 

উত্সবের মুখে আরবিআই-র সতর্ক ঋণনীতি ঘোষণায় খুশি হয়নি শিল্পমহল। আরবিআইয়ের ঘোষণার পরই প্রথমবার ডলারের নিরিখে ৭৪ টাকার ঘর ভাঙে টাকা। 

দিন কয়েক আগে রবি ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বাজারে ফসলের দামের উপরে তার কি প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে নিশ্চিত নয় আরবিআই।

তবে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে আশঙ্কা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মতে, ভৌগলিক-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রশমন না করা হলে দাম আরও বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার পেট্রোল-ডিজেলে শুল্ক কমানোর কথা ঘোষণা করেছে মোদী সরকার। এর জেরে মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছে আরবিআই। 

মূল্যবৃদ্ধির জেরে বেড়েছে উত্পাদন ব্যয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুতের বর্ধিত দর। চলতি আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকের উত্পাদন ব্যয় বেড়ে গিয়েছে বলে সমীক্ষায় জানতে পেরেছে আরবিআই।

আরবিআই জানিয়েছে, বাজারের অনিশ্চয়তা, রাজকোষ ঘাটতি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে বিনিয়োগের উপরে নজর দিতে হবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে। রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতনবৃদ্ধির পর্যালোচনার পর মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা আরও বাড়তে।      

আরও পড়ুন- অভিযোগ করে লাভ নেই, প্রমাণ দিলেই তদন্ত শুরু, কংগ্রেসকে জোর ধাক্কা ক্যাগের