Digital Payment Fraud: যেহেতু ইউপিআই-তে টাকা সঙ্গে সঙ্গে চলে যায়, তাই গ্রাহক ভুল বুঝতে পারলেও ততক্ষণে টাকা প্রতারকের পকেট থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলা হয়। এই ১ ঘণ্টার বিরতি গ্রাহককে নিজের ভুল সংশোধনের একটি 'গোল্ডেন আওয়ার' বা সুযোগ দেবে। এই ১ ঘণ্টার মধ্যে প্রেরক চাইলে লেনদেনটি বাতিল করার সুযোগ পাবেন।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট বা ইউপিআই (UPI) ব্যবস্থার প্রধান এবং আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হল এর দ্রুত গতি। চা খাওয়া থেকে শুরু করে বাড়ি ভাড়া দেওয়া—মুহূর্তের মধ্যেই করা হয় পেমেন্ট। কিন্তু এই দ্রুত গতির সুযোগ নিয়েই বাড়ছে প্রতারণা। অনলাইন জালিয়াতি রুখতে কড়া পদক্ষেপ RBI-এর। ১০ হাজার টাকার বেশি লেনদেনে বড় বদল। ডিজিটাল পেমেন্টকে আরও নিরাপদ করতে নতুন সুরক্ষা বিধি আনার প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূলত 'অথরাইজড পুশ পেমেন্টস' (APP) সংক্রান্ত জালিয়াতি কমানোই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
কী নতুন প্রস্তাব?
RBI-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, যদি কোনও ব্যক্তি নতুন কোনও অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ টাকার বেশি পাঠান, তবে সেই টাকা সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে যাবে না। টাকাটি প্রেরকের অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে ঠিকই, কিন্তু ব্যাংক সেটি ১ ঘণ্টা ধরে রাখবে। এই ১ ঘণ্টায় গ্রাহক চাইলে সেই লেনদেন বাতিল করার সুযোগ পাবেন। যদি টাকা পাঠানোর পর গ্রাহকের মনে হয় যে তিনি কোনও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, তবে এই ১ ঘণ্টার মধ্যে তিনি টাকাটি আটকে দিতে পারবেন। তবে দোকানদারকে পেমেন্ট (Merchant Payment) বা কিউআর কোড স্ক্যান করে কেনাকাটার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না।
কেন এই কড়া নিয়ম?
বর্তমানে ডিজিটাল প্রতারণার হার কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। প্রতারকরা মূলত 'সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং' বা মানুষকে ভয় দেখিয়ে বা ভুল বুঝিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যেহেতু ইউপিআই-তে টাকা সঙ্গে সঙ্গে চলে যায়, তাই গ্রাহক ভুল বুঝতে পারলেও ততক্ষণে টাকা প্রতারকের পকেট থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলা হয়। এই ১ ঘণ্টার বিরতি গ্রাহককে নিজের ভুল সংশোধনের একটি 'গোল্ডেন আওয়ার' বা সুযোগ দেবে।
ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (NCRP)-এর তথ্য বলছে, মোট জালিয়াতির ঘটনার প্রায় ৪৫ শতাংশই ঘটে ১০,০০০ টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে। টাকার অঙ্কের হিসেবে মোট জালিয়াতির প্রায় ৯৮.৫ শতাংশই এই বড় অংকের লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত। এই কারণেই এই নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিকে টার্গেট করেছে RBI। এছাড়া কোনও লেনদেন সন্দেহজনক মনে হলে ব্যাংক সরাসরি গ্রাহককে সতর্ক করবে এবং পুনরায় নিশ্চিত করবে।
কোথায় কোথায় ছাড় মিলবে?
সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে--
মার্চেন্ট পেমেন্ট: কিউআর কোড স্ক্যান করে কেনাকাটা বা ইউপিআই পেমেন্টের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটবে না।
চেক ও ই-ম্যানডেট: চেক বা আগে থেকে সেট করা পেমেন্টের ক্ষেত্রেও দেরি হবে না।
হোয়াইট লিস্টিং: গ্রাহকরা চাইলে তাঁদের পরিচিত বা নির্ভরযোগ্য অ্যাকাউন্টগুলিকে 'হোয়াইট লিস্ট'-এ রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে টাকা পাঠানোর সময় কোনও দেরি হবে না।
জরুরি প্রয়োজনে কী করবেন?
যদি আপনার জরুরি ভিত্তিতে কাউকে টাকা পাঠাতে হয়, তবে বিশেষজ্ঞরা ছোট একটি অংক (যেমন- ১ টাকা) আগে পাঠিয়ে সেই ইউপিআই আইডি-টিকে বিশ্বস্ত হিসেবে সেট করে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া ফিজিক্যাল কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করার ক্ষেত্রেও এই সমস্যা হবে না।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)