)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'মিশন শক্তি' (Mission shakti) আবহে উত্তরপ্রদেশে (UttarPradesh) লজ্জাজনক ঘটনা! নিজের নাবালিকা বোনকে বছরভর ধর্ষণের অভিযোগ দুই দাদার বিরুদ্ধে। উত্তর প্রদেশ সরকার নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় নিরন্তর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই হারদোই (Hardoi) জেলায় সম্পর্কের মুখে কালি লেপে দেওয়া এক ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রকাশ্যে এল। ফাঁস হল ব্ল্যাকমেলিং-এর নারকীয় ষড়যন্ত্র।
মানবতা এবং পারিবারিক সম্পর্কের ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশের হারদোই জেলা। নিজেরই নাবালিকা বোনকে দিনের পর দিন ধর্ষণ এবং সেই পাশবিক অত্যাচারের ভিডিয়ো রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে দুই দাদাকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। এই নারকীয় ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
ঘটনার বিবরণ:
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা তরুণীর বাবা-মা কর্মসূত্রে প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতেন। সেই সুযোগেই দুই দাদা, যারা সম্পর্কে তার নিজের ভাই, তার উপর শারীরিক অত্যাচার শুরু করে। অভিযোগ, প্রথমবার ধর্ষণের সময় তারা মোবাইলে সম্পূর্ণ ঘটনাটির ভিডিয়ো রেকর্ড করে রাখে।
ব্ল্যাকমেইল:
এর পরেই শুরু হয় আসল ষড়যন্ত্র। ওই ভিডিয়ো দেখিয়ে বোনকে ভয় দেখাতে শুরু করে দুই অভিযুক্ত। লোকলজ্জা এবং প্রাণের ভয়ে ওই কিশোরী মুখ বুজে সব অত্যাচার সহ্য করতে থাকে। অভিযোগ, ভিডিয়োটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এরপরও একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, তার কাছ থেকে টাকা-পয়সাও চাইতে শুরু করে অভিযুক্ত দাদারা। প্রাণে মরার হুমকিও দেয় ওই দুজন তাদের বোনকে।
যেভাবে পর্দাফাঁস হল:
দিনের পর দিন এই পাশবিক অত্যাচার এবং ব্ল্যাকমেলিং সহ্য করতে না পেরে অবশেষে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে ওই কিশোরী। শেষবার ১৮ই সেপ্টেম্বর ধর্ষিত হওয়ার পর সে তাঁর হবু বরকে গোটা ঘটনাটি জানায়। তার হবুই তাঁকে সাহস জোগায় এবং বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানাতে বলে। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যরা এবং প্রতিবেশীরা ঘটনাটি জানতে পারেন। তাদের সাহায্যেই নির্যাতিতা কিশোরী অবশেষে থানায় গিয়ে তার দুই দাদার বিরুদ্ধে ধর্ষণের এবং ব্ল্যাকমেলিং-এর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
পুলিসি তত্পরতা:
অভিযোগ পেয়েই পুলিস সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেয়। অভিযুক্ত দুই দাদাকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যেটিতে ওই ধর্ষণের ভিডিয়োটি রয়েছে বলে পুলিস অনুমান করছে। ফোনটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
নির্যাতিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং তার মানসিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য কাউন্সেলিং-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে এমন নারকীয় ঘটনা সমাজের অবক্ষয়ের চূড়ান্ত রূপ বলে মনে করছেন সমাজকর্মীরা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)