)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাবার খুনের বদলা নিতে নিজে হাতে আইন তুলে নিলেন এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনসপেক্টর। বাবাকে খুন করেছিল ভাই। বাবার খুনের বদলা নিতে ভাইকে খুনের টার্গেট করলেন সেই অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনসপেক্টর। কাজ হাসিলের জন্য ইনস্টাগ্রামে ভাড়া করলেন একজন সুপারি কিলারকেও। শুধু তাই নয়, ফাঁদ পাতলেন জেল পালানো এক যুবতীকে দিয়েও! একেবারে যেন বলিউডের কোনও ক্রাইম থ্রিলারের টান টান চিত্রনাট্য! চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে।
বাবাকে খুন এক ভাইয়ের...
বাবাও ছিলেন পুলিস ইনসপেক্টর। পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে গোয়ালিয়রের দীদনগরে নিজেদের বাড়িতেই পুলিস ইনসপেক্টর বাবা হনুমান তোমারকে খুন করে তাঁরই ছেলে অজয়। সেইসময় ভানু নামে হনুমান তোমরের অপর ছেলেও আক্রান্ত হন। জখম হন। তবে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। শেষে বাবা হনুমান তোমরের মৃত্যুতে 'সহমর্মিতার ভিত্তিতে' চাকরি হয় তাঁর। ইন্দোরে অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনসপেক্টর পদে নিয়োগ পান।
খুনের বদলা ও বিবাদে ভাইকে খুনের পরিকল্পনা ASI-র...
ওদিকে বাবা হনুমান তোমারকে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন জেল হয় অজয়ের। পুলিস সূত্রে খবর, দুই ভাই ভানু এবং অজয়ের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত ২০১৭ সাল থেকে। অজয় জেলে যাওয়ার ফলে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। ওদিকে ভানু তাঁদের পৈতৃক বাড়ি বিক্রি করে দেন। যার জেরে সম্পত্তি বিক্রির অর্থ নিয়েও নতুন করে বিরোধ শুরু হয়। শেষে বাবার খুনের বদলা ও সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের শেষ করতেই ভাই অজয়কে খুনের পরিকল্পনা করেন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর অজয়।
কীভাবে খুন?
ইনস্টাগ্রামে অজয় যোগাযোগ করেন ধর্মেন্দ্র নামে এক সুপারি কিলার সঙ্গে। সেইসঙ্গে এক যুবতীকে দিয়েও ভাই অজয়কে খুনের ফাঁদ পাতেন ভানু। ১৪ জুলাই গোয়ালিয়রের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পান অজয়। এরপর ২৩ জুলাই শিবপুরী থেকে গোয়ালিয়র যাওয়ার পথেই আততায়ীরা খুন করে অজয়কে। গাড়িতে করে যাওয়ার সময়ই গুলি করে খুন করা হয় তাঁকে। ভাই অজয়ের শেষকৃত্যে অংশ নেন ভানুও। পুলিস সূত্রে খবর, অজয়ের প্যারোলের পর তাঁর সংস্পর্শে আসেন এক যুবতী। সেই যুবতী ঘটনার দিন শিবপুরীর থেকে অজয়ের গাড়িতেই উঠেছিলেন। এরপর মাঝ রাস্তায় তিনি টয়লেট যাওয়ার অছিলায় একটি নির্জন স্থানে গাড়ি থামাতে বলেন। গাড়ি থামতেই হামলাকারীরা অজয়কে গুলি করে খুন করে।
যুবতীর বন্ধুত্বের ফাঁদ...
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই যুবতী একজন পলাতক বন্দি। তাকে ভানুর একটি গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। যা থেকেই অজয় খুনের পিছনে এএসআই ভাই ভানুর যোগ সামনে আসে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে যে খুনের ঠিক আগে ভানুর গাড়ি অজয়ের গাড়ির পিছন পিছনে আসছিল। পরে তাঁর ফোন বন্ধ হয়ে যায়। এও জানা গিয়েছে যে, ভানু-ই ওই যুবতীকে অজয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।
ASI-র নামে লুক আউট সার্কুলার...
ইতিমধ্যেই পুলিস সুপারি কিলার ধর্মেন্দ্র ও ওই যুবতীকে গ্রেফতার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধর্মেন্দ্র স্বীকার করেছে যে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর, সে ইনস্টাগ্রামে ছবি পোস্ট করে। যা দেখে ভানু তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একাধিকবার তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়েছেন ভানু। বর্তমানে ভানুও পলাতক। পুলিস মনে করছে ভানু ব্যাংককে পালিয়ে গিয়েছেন। তাঁর নামে লুক আউট সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)