
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ক্লাস নাইনের ছাত্রের হাতে খুন (Ahmedabad stabbing case) হয়েছিল টেনের ছাত্র। ছুরি দিয়ে পনেরোর পড়ুয়াকে কুপিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই মতো গ্রেফতারও হয় অভিযুক্ত। ওদিকে আহত ছাত্রকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি। মঙ্গলবারই তার মৃত্যু হয়। ছাত্রের মৃত্যুর পর স্কুলের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। কিন্তু এরই মধ্যে বড় মোড়। সামনে এল খুনী ছাত্রের এক গোপন চ্যাট (Screenshot of accused students' chat)। যা দেখে হাড়হিম অবস্থা সকলের।
ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি আমদাবাদের খোখরায় সেভেন্থ-ডে অ্যাডভেন্টিস্ট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাইরে ঘটে। মঙ্গলবার বিকেলে স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজার পরে, ক্লাস টেনের ছাত্র নয়ন নিজের ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে স্কুল থেকে বের হয়। ঠিক তখনই ক্লাস নাইনের এক ছাত্র এবং আরও কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে। প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়, তারপর তা হাতাহাতিতে গড়ায়। হঠাৎই ক্লাস নাইনের ছাত্রটি ছুরি বের করে নয়নকে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
CCTV-তে শেষ মুহূর্ত
স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নয়ন পেট চেপে ধরে রক্তাক্ত অবস্থায় স্কুলের দিকে হাঁটছে। তাকে দ্রুত মানিনগরের এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রবল রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যু হয় তার।
হাড়হিম গোপন চ্যাট
কিন্তু আজ এক গোপন চ্যাট প্রকাশিত হয়েছে। চ্যাটটি ওই অভিযুক্ত ছেলেটির। তার পরিচিত বা বন্ধুস্থানীয় কারও সঙ্গে। ঘটনার ঠিক পরে-পরেই, তখনও সে পুলিসের হাতে ধরা পড়েনি। চ্যাটটি এরকম:
বন্ধু: ভাই, আজ তুই কিছু করেছিস কি?
অভিযুক্ত: হ্যাঁ।
বন্ধু: কাউকে ছুরি মেরেছিস?
অভিযুক্ত: তোকে কে বলল?
বন্ধু: প্লিজ, এক মিনিটের জন্য ফোন কর না...
বন্ধু: ***** এই কারণে কাউকে ছুরি মেরে খুন করা যায় না। তুই ওকে শুধু মারধর করতে পারতিস, মেরে ফেলাটা আবার কী?
অভিযুক্ত: ছাড়! যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে!
বন্ধু: একটু খেয়াল রাখিস। কিছুদিনের জন্য গা ঢাকা দে। আর, এই চ্যাটগুলো ডিলিট করে দে।
অভিযুক্ত: আচ্ছা।
অভিযুক্ত ছেলেটি যখন জানতে চাইল তার বন্ধু কীভাবে ঘটনাটা জানতে পারল, তখন বন্ধুটি জানায় যে, রাস্তায় তাদের এক পরিচিতের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। সে-ই তাকে ঘটনাটি জানায়।
অভিযুক্ত বলে, "তাকে (ওই পরিচিত বন্ধুকে) বল, আমি তাকে খুন করেছি। সে আমাকে চেনে, তাকে এখুনি গিয়ে বল!
খুব স্বাভাবিক ভাবেই ভয়ংকর এই চ্যাট প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়ে গিয়েছে তোলপাড়।
অভিযুক্ত গ্রেফতার, মামলা রুজু
যাইহোক, ওদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত ছাত্রটি স্কুলভবনের পেছনের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষী তাকে দেখতে পেয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিসকে খবর দেয়। পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত নাবালককে আটক করে। তার বিরুদ্ধে জুভেনাইল অ্যাক্টের আওতায় মামলা রুজুও হয়। এবং একটি FIR দায়ের করা হয়।
স্কুলের বাইরে বিক্ষোভ
নয়নের মৃত্যুর পরে তার পরিবার এবং তার এলাকার মানুষজন স্কুলে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীরা স্কুলপ্রাঙ্গণে ভাঙচুর চালায়। এমনকি স্কুল কর্মীদের উপরও হামলা চালায়। পুলিস এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ছাত্র এবং নিহত ছাত্র দুই ভিন্ন সম্প্রদায়ের। ফলে নয়নের মৃত্যুর ঘটনা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের স্তরে পৌঁছে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকেরা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)