জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জয়পুরের স্কুলে চারতলার বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে মাত্র ৯ বছরের মেয়ে। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে ভেঙে পড়েন বাবা-মা। মেয়ের ময়নাতদন্তের পরই স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেন তাঁরা।
Add Zee News as a Preferred Source
স্কুলের বিরুদ্ধে ভয়ংকর অভিযোগ তুলেছেন মৃত আমাইরার মা। তার মা শিবানী মীনা এক বছর আগে মেয়ের একটা রেকর্ডিং প্রকাশ করেন যেখানে আমাইরা বলছে, 'আমি স্কুলে যেতে চাই না... আমাকে পাঠিও না।' তিনি জানিয়েছেন, এই রেকর্ডিং তিনি আমাইরার ক্লাসের শিক্ষিকাকে পাঠিয়েছিলেন। এই আশায় যে এতে স্কুল বুঝতে পারবে মেয়ের কিছু সমস্যা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:Bengal Weather Update: হুড়মুড়িয়ে পারদ পতন শহরে! তবে শীতের মাঝে ফের বাধা হয়ে দাঁড়াবে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা... জাঁকিয়ে ঠান্ডা...
শিবানী অভিযোগ করেন, 'আমি ক্লাস টিচারের সঙ্গে কথা বলেছি, ক্লাস কো-অর্ডিনেটরের সঙ্গেও একাধিকবার কথা বলেছি, গত এক বছরে অনেকবার জানিয়েছি। কিন্তু তারা হয় আমাকে এড়িয়ে যেত, নয়তো গুরুত্ব দিত না।' আমাইরা বাবা-মা আরও অভিযোগ করেন যে, স্কুলেরই কিছু পড়ুয়া তাঁদের মেয়েকে হেনস্থা করত। ঘটনার দিও সেই অভিযোগ করেছিল মেয়ে।
তাদের দাবি, আমাইরা একাধিকবার শিক্ষিকার কাছে গিয়ে বলেছিল যে, ক্লাসের কিছু ছেলে তাকে বিরক্ত করে ও হেনস্থা করে। এমনকি বাবা-মাও আগেও স্কুলে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। শিবানী বলেন, 'আমাইরা আমাকে বহুবার বলেছিল যে, ক্লাসে তাকে বিরক্ত করা হয়। কিছু ছেলে তাকে অসম্মান করত, এবং এক ছেলের সঙ্গে তার নাম জুড়ে ঠাট্টা করত। আমি শিক্ষিকাকে এই বিষয়ে জানিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি ব্যাপারটাতে গুরুত্ব দেননি।'
আমাইরা বাবা বিজয় মীনা জানান যে একবার পিটিএম-এ কিছু বাচ্চা আমাইরা আর এক ছেলেকে নিয়ে ইঙ্গিত করছিল। এতে মেয়ে লজ্জা পেয়ে বাবার পেছনে লুকিয়ে যায়। তখন বিজয় শিক্ষিকাকে বলেন, কিন্তু তিনি বলেন, 'এটা কো-এড স্কুল, তাই মেয়েকে ছেলেদের সঙ্গেও কথা বলতে শিখতে হবে।' বিজয় বলেন, 'আমার মেয়ে যদি না চায়, সেটা তার নিজের ব্যাপার।' তাঁরা আরও জানিয়েছেন, বুলিং গত বছর থেকে বাড়তে থাকে এবং চলতি বছরও থামেনি, কারণ একই কিছু ছাত্র তার ক্লাসেই ছিল। মা অভিযোগ করেন, 'আমি এক বা দুবার আগে একবার বুলি করা ছেলেটি তার বাবা-মায়ের হস্তক্ষেপের পর আমাইরার কাছে ক্ষমা চেয়েছিল।
আরও পড়ুন:Mysterious death: যৌনকর্মীর 'রহস্যমৃত্যু'! শেওড়াফুলির পল্লীর ঘর থেকেই মিলল দেহ...কাল রাতে...
১ নভেম্বর নয় বছরের আমাইরা স্কুলের চতুর্থ তলা থেকে লাফ দেয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু সেখানে পৌঁছার আগেই মৃত্যু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ঝাঁপ দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে আমাইরা দু’বার শিক্ষিকার কাছে গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে সাউন্ড না থাকায় বোঝা যায়নি সে কী বলেছিল। অথচ CBSE-র নিয়মে ক্লাসরুমের ভিডিয়োতে সাউন্ড থাকার কথা।
আমাইরার কাকা, সাহিল, বলেন, 'স্কুলে ৫,০০০-র বেশি ছাত্রছাত্রী, ছয়তলা ব্লিডিং- কিন্তু তলাগুলোয় কোনও নিরাপত্তা জাল বা গ্রিল নেই। এটা কীভাবে সম্ভব? CCTV-র অডিয়ো ও পুরনো ভিডিয়ো ফুটেজও কেন নেই? এত বড় স্কুল, এত টাকা ফি নেয়, কিন্তু দায়িত্ব নেই!'
অন্যদিকে, পুলিস জানিয়েছে যেই জায়গায় আমাইরা পড়েছিল সেটি সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। রক্তের ছিটেফোঁটা দাগ পর্যন্ত ছিল না। পরিবার স্কুলের বিরুদ্ধে FIR করেছে। স্কুল এখনও পর্যন্ত কোনও বিবৃতি দেয়নি। আমাইরার পরিবার এবং প্যারেন্টস অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে, পুরো ঘটনা সঠিকভাবে তদন্ত করতে হবে এবং যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
আপনি কি অবসাদগ্রস্ত? বিষণ্ণ? চরম কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনার হাত ধরতে তৈরি অনেকেই। কথা বলুন প্লিজ...
iCALL (সোম-শনি, ১০টা থেকে ৮টা) ৯১৫২৯৮৭৮২১
কলকাতা পুলিস হেল্পলাইন (সকাল ১০টা-রাত ১০টা, ৩৬৫ দিন) ৯০৮৮০৩০৩০৩, ০৩৩-৪০৪৪৭৪৩৭
২৪x৭ টোল-ফ্রি মানসিক স্বাস্থ্য পুনর্বাসন হেল্পলাইন-- কিরণ (১৮০০-৫৯৯-০০১৯)
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)