COVID-19: 'কোভিড জেনেই টেস্ট করাইনি'! ভয়াবহতা নিয়ে হাড়হিম তথ্য সামনে, ফের গিলছে দৈত্য ভাইরাস
COVID-19: ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা...দক্ষিণ এশিয়ায় তার দাপট দেখা যাচ্ছে। ওমিক্রমের সাব ভ্যারিয়ান্ট কি আগের মতোই ভয়ংকর? ঠিক কী ছিল পাঁচ বছর আগের ছবি, আর এখনই বা কী হয়েছে...
শুভপম সাহা
|
Updated By: May 22, 2025, 07:21 PM IST
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গোটা দক্ষিণ এশিয়া দাপাচ্ছে কোভিডের নতুন ভ্যারিয়ান্ট JN1 COVID-19। এটি হল ওমিক্রমের সাব ভ্যারিয়ান্ট। চিন, হংকং, সিঙ্গাপুর ও ভারতে দ্রুত ছড়াচ্ছে এই ভ্যারিয়ান্ট। নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। আবার কি তবে দেশে ফিরতে চলেছে সেই ভয়াবহ দিন। ফের গিলছে সেই দৈত্য ভাইরাস। ইতিমধ্যেই ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মে, ২০২৫) কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সূত্র অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে COVID-19 পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সক্রিয় COVID-19 কেসের সংখ্যা ২৫৭।
TRENDING NOW
২০২০ সালে ফেরা যাক। যখন গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের সিনিয়র ডিরেক্টর ডাক্তার সুশীলা কাটারিয়াকে সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্ত ১৪ জন ইটালিয়ান পর্যটকের চিকিৎসার কথা বলা হয়েছিল, তখন তিনি এবং তাঁর দল দ্রুত একটি বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করেছিলেন। এটিই ছিল করোনা ভাইরাসের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ লড়াইয়ের সূচনাপর্ব।
আরও পড়ুন: বিয়ের রাতে পান আনতে রাস্তায় বর, বউ পালাল শ্যালককে নিয়ে! গায়েব লক্ষাধিক টাকা-গয়না...
কোভিডের প্রথম তরঙ্গ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যা মূলত বয়স্কদের প্রভাবিত করেছিল, এবং ২০২১ সালের জানুয়ারিতে তা কিছুটা কমেছিল। কিন্তু ভয়াবহ করোনার হামলা তখনও বাকি ছিল। ২০২১-এর মার্চ মাসে শুরু হওয়া দ্বিতীয় তরঙ্গ ভারতকে কার্যত ধসিয়ে দিয়েছিল। নিম্ন শ্বাসযন্ত্রের ট্র্যাক্টকে লক্ষ্য করে, ফুসফুসের গুরুতর জটিলতার তৈরি করেছিল কোভিড। স্বাস্থ্যসেবা প্রায় ভেঙে দিয়েছিল। সেই সময়ে ভারতে বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক সংখ্যক কেস রেকর্ড হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা অনাক্রম্যতার কথা বললেও, গণ-দুর্ভোগই সেই পর্যায়কে সংজ্ঞায়িত করেছিল।
ডাক্তার সুশীলা বলছেন,'তখন আমরা খুব বেশি কিছু জানতাম না। আমাদের ভয় ছিল, অনিশ্চয়তা ছিল, আর তার সঙ্গে কোনও রোডম্যাপও ছিল না।' সুশীলা সম্প্রতি কথা বললেন, ফের নতুন করে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা নিয়ে।
নতুন ভ্যারিয়েন্ট JN1 সম্পর্কে আমরা কী জানতে পারছি?
'এটি একটি মাইল্ড ভ্যারিয়েন্ট, তা ছড়িয়ে পড়তে পারে, কিন্তু ব্যাপক ভাবে নয়—এবং এটি গুরুতর অসুস্থতার কারণ নয়।'
আপনার হাসপাতালে কি কোভিডের পরীক্ষা করা হচ্ছে? আপনি কি কোনও কেস দেখেছেন?
'আমরা সম্প্রতি টেস্ট করছিলাম না, কিন্তু এখন স্ক্রিনিং বাড়িয়েছি। এখনও পর্যন্ত আমরা একটিও কোভিড পজিটিভ কেস পাইনি। তবে গুরুতর ফ্লুতে আক্রান্ত কারও উপরের শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই পর্যায়ে এটি পর্যবেক্ষণের বিষয়।'
JN1 কি ভারতে একটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট?
'না, এটি গতবছরও ছিল—আমরা যথেষ্ট পরীক্ষাও করছিলাম না। সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলি রিয়াল-টাইম ডেটা ভাগ করছে, কারণ তারা ব্যাপক টেস্ট করছে। আমরা সেটা করছি না। খুব সম্ভবত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আমরা যে উচ্চ-গ্রেডের ফ্লু সংক্রমণ দেখেছি তা আসলে কোভিডই ছিল, কিন্তু আমরা এটি নিশ্চিত করিনি। সৌভাগ্যক্রমে বেশিরভাগেরই OPD-তে সুরাহা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: চলন্ত বাইকে বরকে জুতো খুলে পেটাচ্ছেন বউ! যোগীরাজ্যের ঘটনায় তোলপাড় নেটপাড়া...
মানুষের কি আবার টিকা নেওয়া উচিত?
'এখন পর্যন্ত আমি কোনও জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন দেখছি না। মানুষ সংক্রমণের বিরুদ্ধে ভালো ভাবে লড়াছে, যার অর্থ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে। যদিও পুরনো ক্ষমতাই সাহায্য করছে। তবে আমাদের সম্মিলিত ফ্লু এবং কোভিড ভ্যাকসিনের প্রয়োজন। এটি কাজ করছে, কিন্তু কম কেসের সংখ্যা কোভিডের বাড়বাড়ন্তকে মন্থর করেজে
ন্যাজাল টিকা কী?
'ন্যাজাল টিকাগুলি আরও কার্যকর। তারা উপরের এবং নীচের শ্বাসনালীর উভয় স্থানেই এক শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় করে। এটি ভাইরাল শেডিং এবং সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।'
মানুষের এখনই কী করা উচিত?
'শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতার জন্য হাসপাতালগুলিকে অবশ্যই কোভিড পরীক্ষা ফের শুরু করতে হবে। ব্যক্তিগত স্তরে, হাতের স্বাস্থ্যবিধি এবং শ্বাসযন্ত্রের শিষ্টাচার অনুসরণ করুন। কেন্দ্রের থেকে এখনও কোনও বুস্টারের সুপারিশ নেই। ICMR -এর নির্দেশের অপেক্ষায় আছি। বেশিরভাগ তরঙ্গ হালকা ভাবেই চলে যায়। তবে আমাদের অবশ্যই সতর্ক এবং প্রস্তুত থাকতে হবে।'
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
Subhapam Saha
বলতে বলতে গোওওওল... থেকে বোলারের মাথার উপর দিয়ে তুলে ছয়! মূলত ক্রীড়া সাংবাদিকতায়, তবুও বিনোদন থেকে বিজ়নেস, সর্বত্র কলম-ক্যামেরায় বিচরণ। ২০১১ সালে সাংবাদিকতার বাইশ গজে ডেবিউ। প্রিন্ট-টিভি-ডিজিটাল, তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১৪ বছরের চলমান ইনিংস। লিখতে লিখতে কাট যায়ে রাস্তে...এমনই ভাবনা আজীবন শিক্ষানবিশের...
...Read More