জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জয়পুরের কথা উঠলেই প্রথমে মাথায় কী আসে? সেখানকার অতি জনপ্রিয় সাঙ্গানেরি প্রিন্টিংয়ের (Sanganeri print) পোশাক আর সেখানকার অতি জনপ্রিয় খাবার। কিন্তু এখানেই এসেছে নতুন টুইস্ট। ধরুন, আপনি ঘুরতে গিয়েছেন জয়পুর আর আপনার পছন্দের মিষ্টিটি আপনি খুঁজছেন, দোকানে গিয়ে বললেন 'মাইসোর পাক' (Mysore pak) চাই; তাঁরা আপনার কথা শুনে বললেন, দাদা 'মাইসোর শ্রী' (Mysore Shree) আছে। তখন আপনি সেখান থেকে বেরিয়ে এলেন। হন্যে হয়ে খুঁজেও পেলেন না আপনার পছন্দের মিষ্টিটা। এমনটা হল কেন বলুন তো?
Add Zee News as a Preferred Source
এরকারণ ভারত-পাকিস্তানের অশান্তি (India–Pakistan conflict) এবং 'অপারেশন সিঁদুরের' (Operation Sindoor) আঁচ পড়েছে মিষ্টিতেও। জয়পুরের ঐতিহ্যবাহী নানা মিষ্টির নাম থেকে 'পাক' শব্দ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। 'পাক' শব্দটি সরে গিয়ে হয়েছে 'শ্রী' বা 'ভারত'।
আরও পড়ুন: Tej Pratap Yadav's illicit relationship: নেতা মজে মস্তিতে, উত্তাল রাজনীতি! আমাকে নোংরা করে দিল কেন? বলছেন স্ত্রী...
পড়শি দেশের সঙ্গে ঘাত-প্রত্যাঘাতে বদলে গিয়েছে মিষ্টির নাম আর তা বদলেছেন রাজস্থানের মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। তাঁরা রাতারাতিই বদলে দিয়েছেন মিষ্টির নাম। দুই দেশের উত্তেজনার আবহে যেমন প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বানিজ্যে ঠিক তেমনই প্রভাব পড়েছে এদেশের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টিতেও।
মিষ্টির নামে 'পাক' শব্দকে ঘিরেই ঘোর আপত্তি। দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং পাকিস্তানের প্রতি রাগে-ক্ষোভে রাজস্থানের মিষ্টির দোকান রাতারাতি বদলে ফেলেছে তাদের মিষ্টির নাম। রাজস্থানের জয়পুরের মিষ্টির দোকানের এক কর্মচারী বলেন, 'আমরা সমস্ত মিষ্টি থেকেই 'পাক' শব্দটি সরিয়ে ফেলেছি। সকলেই এই বিষয়টিতে সহমত হয়েছেন, তাই আমরা রাতারাতি মিষ্টির নাম বদলে ফেলেছি।'
এখানে বলে রাখা ভালো এই পাক-শব্দের সঙ্গে আদতে পাকিস্তানের কোনও সম্পর্ক নেই। 'পাক' শব্দটির কন্নড় ভাষায় প্রকৃত অর্থ মিষ্টি। সাধারণত, বেসন, চিনি, ঘি, ক্ষীর দিয়ে একটি বিশেষ মণ্ড করা হয়, যেটার নাম 'পাক' এবং নানান ভাবে এগুলো রান্না করা হয় তাই বাংলায়ও এটাকে পাক করা হয়েছে বলা হয়।
আরও পড়ুন: Panchkula Suicide News: ধারের বোঝায় জীবন অতিষ্ঠ, পরিবারের ৭ জনই আত্মঘাতী! গাড়িতেই...
আবার ইতিহাস বলছে, মহীশূরের রাজকীয় রান্নাঘরের সঙ্গে এই 'পাক' শব্দটি এসেছে। ঊনিশ শতকের গোড়ার দিকে আমরা এই 'মহীসূর পাক'-এর উল্লেখ পাই। কৃষ্ণরাজ ওয়াদিয়ারের রাজত্বকালে মহীশূর প্রাসাদের রান্নাঘরে কাকাসুর মাদাপ্পা নামের এক রাঁধুনি এই মিষ্টি তৈরি করেন। উনি বেসন, ঘি আর চিনির সংযোগে এক নতুন মিষ্টি তৈরি করেন। এবং তারই নাম দেন 'মহীসূর পাক'।
ঐতিহ্য বজায় রাখতে এতদিন এই নামই ছিল। কিন্তু বর্তমান আবহে মিষ্টির নাম 'মহীসূর শ্রী' হয়েছে। শুধু তাই নয়, 'স্বর্ণ ভস্ম পাক' এবং 'চাঁদি ভস্ম পাক' বদলে 'শ্রী' রাখা হয়েছে। আবার 'মোতি পাক' বদলে 'মতি শ্রী' হয়েছে। 'পাক' শব্দটি সম্পূর্ণরূপেই ব্যন করা হয়েছে। এর জায়গায় এসেছে 'শ্রী'। তাহলে কী বুঝলেন? এবার যদি রাজস্থানে ঘুরতে যান তাহলে আর 'মাইসোর পাক' বা 'মোতি পাক' বলবেন না, এর পরিবর্তে বলবেন, 'মাইসোর শ্রী', 'মতি শ্রী'।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)