)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: হাড়হিম! ভয়ংকর! বীভত্স-- সব বললেও হয়তো কম। ৬০বছরের দম্পতিকে নৃশংস খুন করে করাত দিয়ে দেহ টুকরো টুকরো করে নদীতে ভাসিয়ে দিল। অভিযুক্ত তাদেরই একমাত্র ছেলে। শিউড়ে ওঠা ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের জুনপুরের। ঘটনার সূত্রপাত হয় নিখোঁজ হওয়ার মামলা দায়ের পরের থেকে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত দম্পতি শ্যাম বাহাদুর (৬২), এবং তাঁর স্ত্রী ববিতা (৬০)। অভিযুক্ত ছেলের নাম অম্বেশ। সে তার বাবা-মায়ের অমতে মুসলিম মহিলাকে বিয়ে করে। কিন্তু বিয়ের পাঁচ বছর পরও অম্বেশের বাবা-মা তাদের বাড়িতে মুসলিম বউমাকে গ্রহণ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত অম্বেশ এবং তার স্ত্রী আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু অম্বেশের স্ত্রীকে ভরণপোষণ (অ্যালিমনি) দেওয়ার জন্য টাকা লাগছিল। তাই সে তার বাবার কাছে সাহায্য চেয়েছিল। কিন্তু বাবা সম্ভবত রাজি হননি। এ থেকেই তাদের শেষ ঝগড়ার সূত্রপাত হয়, যা দুইজনের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নিখোঁজ মামলা:
১৩ ডিসেম্বর, অম্বেশের বোন বন্দনা জাফরাবাদ থানায় তাঁর বাবা-মায়ের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, তাঁর বাবা-মা ও ভাইকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বন্দনা জানান, ৮ ডিসেম্বর অম্বেশ তাঁকে ফোন করে বলেছিল, তাদের বাবা-মা ঝগড়ার পর বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। সে তাদের খুঁজতে যাচ্ছে। সেই কথোপকথনের পর, অম্বেশের ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং বন্দনা আর তাকে ফোনে ধরতে পারেননি। শেষে তিনি পুলিসে অভিযোগ দায়ের করেন এবং পুলিস তার খোঁজ শুরু করে। অম্বেশের বন্দনাকে ফোন করা এবং তার ফোন বন্ধ থাকা পুলিসের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে। এক সপ্তাহ পরে যখন তারা অম্বেশকে খুঁজে পান, তখন সে কেঁদে নিজের দায় স্বীকার করে।
ভিন ধর্মে বিয়ে:
শ্যাম বাহাদুর, একজন অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে কর্মী। এবং তাঁর স্ত্রী ববিতা, তিন মেয়ে ও এক ছেলে ছিলেন। ছেলে অম্বেশ প্রায় পাঁচ বছর আগে একজন মুসলিম মহিলার সঙ্গে বিয়ে করেন। তাঁর বাবা-মা এই বিয়ে মেনে নেননি এবং বলেছিলেন, তারা তাদের মুসলিম স্ত্রীকে বাড়িতে ঢুকতে দেবেন না। দম্পতির দুই সন্তান হয়েছে, তবুও শ্যাম বাহাদুর অম্বেশকে তার স্ত্রীকে বাড়িতে আনতে দেননি। অম্বেশ বলেন, শ্যাম বাহাদুর তাকে বারবার স্ত্রীর সঙ্গে আলাদা হওয়ার কথা বলতেন। শেষ পর্যন্ত সে বাবা-মায়ের কথা মতই, স্ত্রীকে বলে তারা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। স্ত্রী রাজি হন এবং ৫ লক্ষ টাকা ভরণপোষণের দাবি করেন।
টাকার কারণে ঝগড়া ও জোড়া খুন:
অম্বেশ তার বাবা-মায়ের চাপেই বিয়ে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অ্যালিমনির জন্য অম্বেশের স্ত্রী ৫ লাখ টাকা দাবি করে। কয়েক মাস ধরে অম্বেশ জাফরাবাদে থাকছিল এবং ৮ ডিসেম্বর বাবার কাছে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করে। শ্যাম বাহাদুর সেই সাহায্য দিতে অস্বীকার করেন, যার ফলে অম্বেশ এবং তার বাবা-মায়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়া চরমে উঠলে, অম্বেশ তার মা ববিতাকে একটি শিল নোড়া দিয়ে আঘাত করেন। ববিতা ব্যথায় কাঁপতে থাকলে শ্যাম বাহাদুর চিৎকার শুরু করেন এবং সাহায্যের জন্য ডাকতে চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আগেই অম্বেশ বারবার তার বাবার মাথায় আঘাত করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃদ্ধ দম্পতি মারা যান।
প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা:
বৃদ্ধ বাবা-মাকে খুনের পর অম্বেশ প্রমাণ লোপাটের কাজে নেমে পড়ে। সে বড় একটি ব্যাগ খোঁজার চেষ্টা করে যাতে করে দেহ সহজেই ফেলে দেওয়া যায়। কিন্তু বড় ব্যাগ পায়নি। গ্যারেজে ছোট কিছু ব্যাগ ছিল, কিন্তু সেগুলোতে দেহ ফেলার জন্য তাকে দেহ টুকরা করতে হতো। গ্যারেজে একটি করাত পেয়ে অম্বেশ কাজে নেমে পড়ে। সে বাবা-মায়ের দেহকে ছয়টি টুকরো করে, ব্যাগে ভরে গাড়ির বুটে রাখে এবং ভোরে নদীতে ফেলে দেয়। এরপর সে বোন বন্দনাকে ফোন করে জানায়, বাবা-মা ঝগড়া করে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন এবং সে তাদের খুঁজতে যাচ্ছে। এরপরই অম্বেশ ফোনটি বন্ধ করে দেয়।
স্বীকারোক্তি:
৬ দিন নিখোঁজ থাকার পর ১৪ ডিসেম্বর অম্বেশ নিজে থেকেই জাফরাবাদে ফিরে আসে। আত্মীয়রা যখন তার কাছে বাবা-মায়ের খোঁজ জানতে চান, তখন সে এড়িয়ে চলে যায়। শেষে পুলিসকে খবর দেওয়া হয়। পুলিসের জিজ্ঞাসার পর প্রথমে সে কথা ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে সে ভেঙে পড়ে এবং নিজের বাবা-মায়ের খুনের কথা স্বীকার করে।
অন্যদিকে, পুলিস দেহ উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেছে। শ্যাম বাহাদুরের দেহের একটি অংশ উদ্ধার হয়েছে, করাত ও খুনে ব্যবহৃত নোড়াও উদ্ধার করা হয়েছে। নদীতে অবশিষ্ট দেহ খুঁজতে ডাইভারের দল কাজ করছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)