)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আপত্তি তোলা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু থেকে। তা গিয়েছিল শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। তবে সেই আপত্তি টিকল না। সুপ্রিম কোর্ট বলছে, এসআইআর (SIR) দেশের এই প্রথম ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া (Special Intensive Revision) নয়; যদিও বিরোধীরা পাল্টা বলছে প্রক্রিয়াটি 'প্রহসনমূলক'।
নেতিবাচক কেন?
সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নেতিবাচক ছবি তুলে ধরার জন্য বিরোধী দল, নেতা ও এনজিওদের সমালোচনা করেছে। বিরোধী পক্ষ অভিযোগ করেছে, প্রক্রিয়াটির আড়ালে নাগরিকত্ব যাচাই চলছে। এবং এর ফলে লক্ষ লক্ষ নাগরিক তথা ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার হারাতে পারেন।
সুপ্রিম-জবাব
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: প্রধান বিচারপতি-পদাধিকারী বিচারপতি সূর্য কান্ত ডিএমকে এবং পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, "আপনারা এমনভাবে বিষয়টা দেখাতে চাইছেন, যেন দেশে এই প্রথম ভোটার তালিকা সংশোধন হচ্ছে! আমরাও বাস্তব পরিস্থিতি জানি। একটি সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ এই প্রক্রিয়া চালাচ্ছে... কিছু পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকতেই পারে। সেক্ষেত্রে সেগুলি চিহ্নিত করে সংশোধন করা যেতে পারে। কিন্তু আপনারা এমনভাবে বলছেন এতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যেন বিপন্ন হয়ে পড়েছে!
বিরোধীদের আপত্তি
ডিএমকের পক্ষে সওয়ালকারী সিনিয়র অ্যাডভোকেট কপিল সিব্বল এ বিষয়ে যুক্তি দেন যে, অতীতে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হলেও সেই প্রক্রিয়া ছিল সতর্কতামূলক এবং দীর্ঘ, প্রায় তিন বছর সময় নেওয়া হত। কিন্তু এখন নির্বাচন কমিশন এটি এক মাসের মধ্যে করতে চাইছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, এর ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছেন।
প্রহসন?
সিব্বল বর্তমান এসআইআর-কে এক "প্রহসনমূলক প্রক্রিয়া" বলে আখ্যা দেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের নথি তালিকায় "১ জুলাই, ২০২৫-এর তথ্য-সহ বিহার এসআইআর-এর ভোটার তালিকার নির্যাস" অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে ব্যাখ্যাতীত বলে উল্লেখ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "তামিলনাড়ুর নির্বাচনের সঙ্গে বিহার এসআইআর-এর কী সম্পর্ক?"
মেশিন রিডেবল নথি?
এনজিও 'অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস' বা এডিআর (ADR)-এর পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট প্রশান্ত ভূষণ মৃত এবং ভুয়ো ভোটারদের বাদ দেওয়ার জন্য ডি-ডুপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহার এবং ভোটারদের কাছে অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ দেওয়ার দাবি জানান। তিনি ২০০৩ সালের ভোটার তালিকা মেশিন রিডেবল বা মেশিন-পাঠযোগ্য করে প্রকাশেরও দাবি জানান।
গোপনীয়তা লঙ্ঘন
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী অবশ্য মেশিন-পাঠযোগ্য ভোটার তালিকা প্রকাশের বিষয়ে আপত্তি জানান, কারণ এটি ভোটারদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
২৬ নভেম্বর
সুপ্রিম কোর্ট ডিএমকে এবং অন্যান্য আবেদনকারীদের দায়ের করা আবেদনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ জারি করেছে এবং পরবর্তী শুনানির জন্য ২৬ নভেম্বর তারিখ ধার্য করেছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)