জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: খোরপোশ আদায়ে যুগান্তকারী রায়: স্বামীর বেতন থেকে সরাসরি টাকা কাটার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
Add Zee News as a Preferred Source
খোরপোশ বা রক্ষণাবেক্ষণের টাকা আদায়ে দীর্ঘসূত্রতা এবং টালবাহানা রুখতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, যদি কোনো স্বামী আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও খোরপোশ দিতে দেরি করেন, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা নিয়োগকারী সংস্থা সরাসরি সেই ব্যক্তির বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কেটে নিয়ে সরাসরি স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করবে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও জটিলতা
অনেক সময় দেখা যায় যে, পারিবারিক বিবাদের জেরে বিচ্ছেদ বা আলাদা থাকার সময় আদালত স্ত্রীকে খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে স্বামীরা সেই নির্দেশ এড়িয়ে যান বা মাসের পর মাস টাকা দিতে টালবাহানা করেন। এর ফলে আশ্রয়হীন বা কর্মহীন স্ত্রীদের চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়। এই ধরণের একটি মামলার শুনানিতেই বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেন যে, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার দায়বদ্ধতা কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।
আরও পড়ুন: http://মুখ্যমন্ত্রী কোর্টে এসে ভুল কিছু করেননি, অযথা রাজনীতি করবেন না! মমতার ...
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও কঠোর নির্দেশ
শীর্ষ আদালতের বিচারপতিদের বেঞ্চ শুনানি চলাকালীন জানান যে, খোরপোশ দেওয়া কেবল আইনি নয়, বরং এটি একটি সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। এই মামলায় অভিযুক্ত স্বামী সরকারি বা এমন কোনো সংস্থায় কর্মরত ছিলেন যেখানে বেতনের তথ্য স্বচ্ছ। আদালত সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী সংস্থাকে (Employer) নির্দেশ দেয় যাতে তারা প্রতি মাসে বেতন প্রদানের সময় খোরপোশের টাকা আগেভাগেই কেটে নেয় (Deduction from salary)।
আদালতের দেওয়া নির্দেশিকার মূল অংশগুলো হল:
সরাসরি ট্রান্সফার: বেতন থেকে কেটে নেওয়া ওই অর্থ কোনো তৃতীয় পক্ষ বা দপ্তরের মাধ্যমে না গিয়ে সরাসরি আবেদনকারী স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে জমা করতে হবে।
নিয়োগকারীর দায়বদ্ধতা: যদি নিয়োগকারী সংস্থা এই নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হয়, তবে তা আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য করা হবে।
সময়সীমা: প্রতি মাসের বেতন হওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে যাতে স্ত্রীর জীবনধারণে কোনো সমস্যা না হয়।
সামাজিক প্রভাব ও আইনি তাৎপর্য
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভারতের পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। বিশেষ করে সরকারি বা কর্পোরেট সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এখন থেকে খোরপোশ ফাঁকি দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
আরও পড়ুন: http://BIG UPDATE: রাতের ঘুম উড়ল চাকরিপ্রার্থীদের! SSC নিয়ে সুপ্রিম ...
এই রায়ের ফলে যে ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো আশা করা হচ্ছে:
১. হয়রানি হ্রাস: খোরপোশের টাকা পাওয়ার জন্য স্ত্রীকে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে না।
২. আর্থিক নিরাপত্তা: নিয়মিত টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়ায় অনেক অসহায় মহিলা নিজের ও সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারবেন।
৩. আদালতের মর্যাদা রক্ষা: আদালতের দেওয়া খোরপোশের রায়কে লঘু করে দেখার প্রবণতা কমবে।
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং আইনি লড়াইয়ে ক্লান্ত মহিলাদের জন্য আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের স্পষ্ট বার্তা—নারীর সম্মান এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগ কঠোরতম পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। এই রায় ভবিষ্যতে এই ধরণের হাজার হাজার বকেয়া মামলার নিষ্পত্তিতে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)