)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আইটি জায়ান্ট TCS-এর ছাঁটাই নোটিস ঘিরে তোলপাড় সব মহলেই। মাস দুয়েক আগেই ভারতের বৃহত্তম আইটি পরিষেবা সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) ঘোষণা করেছিল যে তাঁরা কর্মীসংখ্যার ২ শতাংশ অর্থাৎ ১২ হাজারেরও বেশি কর্মীকে আগামী এক বছরের মধ্যে ছাঁটাই (TCS layoffs) করবে। এরপরই টিসিএস-এর ছাঁটাই নিয়ে সামনে আসতে থাকে একের পর এক খবর। 'বেঞ্চ' কর্মীদের ছাঁটাই থেকে জোর করে রেসিগনেশন দেওয়ানো! সেই তালিকায় সাম্প্রতিক সংযোজন পুনে টিসিএস-এর ২৫০০ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের নোটিস!
আইটি কর্মীদের সংগঠন NITES দাবি করেছে, এমন অনেককে লেঅফের নোটিস ধরানো হয়েছে, যাঁদের মধ্যে অনেকেই মধ্যম থেকে উচ্চপদস্থ পেশাদার। যাঁরা ১০ থেকে ২০ বছর ধরে কোম্পানিতে আছেন। তাঁদের সার্ভিস দিয়েছেন। যদিও TCS পালটা দাবি করেছে যে, এই তথ্য সম্পূর্ণ ভুল ও ভুয়ো! আইটি জায়ান্টের দাবি, দক্ষতা পুনর্বিন্যাস উদ্যোগের ফলে খুব কম সংখ্যক কর্মচারীই প্রভাবিত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ সেপারেশন প্যাকেজও দেওয়া হয়েছে। ওদিকে পুনে টিসিএস-এর খবর সামনে আসার পর থেকেই, খুব স্বাভাবিকভাবে আরও একটি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, কেন আইটি কর্মীরা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সংস্থায় কাজ করে চলেছেন?
যার উত্তরে অনেকেই বলেছেন, চাকরির নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও বিদেশে কাজের সুযোগ। মানে অনসাইট প্রোজেক্ট। কেউ বলেছেন, ম্যানেজার ভালো ছিল। অনসাইটে সুযোগ পেয়েছিলেন। তাঁর এখান থেকে চলে যাওয়ার দরকার পড়েনি। একজন যেমন লিখেছেন, "আমার ভাই ২০০৭ সালে টিসিএসে যোগ দেয়। ২ বছর পর অনসাইটে যায়। ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অনসাইটে ছিল। আজও টিসিএসে কাজ করে। চাকরি পরিবর্তন করার কোনও দরকার না পড়াতেই এতদিন 'জব চেঞ্জ' করেনি।" আরেকজন যেমন লিখেছেন, "আমি ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টিসিএস-এ ছিলেন এমন একজনকে চিনি, যাঁর কথায় সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক, নির্দিষ্ট একটি রুটিনে কাজ, কম চাপযুক্ত কাজ, মূলত বছরের এক-পঞ্চমাংশ বেঞ্চে থাকার নিশ্চয়তা, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ, বেতন বৃদ্ধি কম হলেও চাকরির নিশ্চয়তা এগুলোই ছিল টিসিএস-এ দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে কাজ করার প্রধান কারণ।"
একজন টিসিএস কর্মচারী যেমন লিখেছেন, "আমি ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে টিসিএসে কাজ করছি। আগে পরিবর্তন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারপর অনসাইটের কারণে আমি গত ৭-৮ বছর ধরে ইউরোপে আছি।" মোটামুটি সবার কথাতেই একটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে, তা হল- ভালো বেতন, অনসাইটে কাজের সুযোগ, চাকরির স্থিরতা ও আর্থিক নিশ্চয়তার জন্যই মূলত কেউ টিসিএস ছেড়ে যেতে চাননি। কিন্তু এখন রতন টাটার মৃত্যুর পর থেকেই সংস্থার অন্দরে পট পরিবর্তনের পালা শুরু হয় বলে মত কর্মীদের একাংশের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় স্তরের আইটি ইউনিয়নের সদস্য তথা টিসিএসের এক কর্মী যেমন দাবি করেছেন, '১২০০০ নয়, ছাঁটাইয়ের সংখ্যা ৩০ হাজারেরও বেশি হতে পারে। যেহেতু কর্মীদের অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদেরই পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং কোম্পানি তাঁদের ছাঁটাই করছে না, তাই এই সংখ্যাগুলি কোনও রেকর্ডে থাকবে না। সেক্ষেত্রে ছাঁটাইয়ের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার হতে পারে!’
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)