Air India Crash: প্রথমবার এত কাছ থেকে প্লেন দেখবে উত্সাহী ছিল ১৭ বছরের আরিয়ান। সেই উত্সাহ চোখের নিমেষে আতঙ্কে পরিণত হয়ে যাবে, তা সে কোনওদিন কল্পনাতেও ভাবেনি। বিমান দুর্ঘটনার পর প্রথম এবং একমাত্র ভিডিয়ো করে আরিয়ানই।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: প্রথমবার আমদাবাদে ঘুরতে এসেছিল ১৭ বছরের আরিয়ান আসারি। সে গুজরাতের অরবল্লি জেলার বাসিন্দা। মেঘানিনগরে সে তার এক আত্মীয়ের বাড়ি ঘুরতে আসে। সেখান থেকে সে খুব কাছ থেকে প্লেন দেখতে পাবে বলে খুব উত্সাহী ছিল। এমনকী বিমান উড়ানের ভিডিয়ো তুলে সে বাড়ি গিয়ে তার বন্ধুদের দেখাবে বলে তৈরি হচ্ছিল।
ঘটনাক্রমে আরিয়ান বৃহস্পতিবার প্লেনের ভিডিয়ো করতে ছাদে উঠেছিল। এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী ফ্লাইট AI-171 ভেঙে পড়ার ভিডিয়োটি একমাত্র আরিয়ানই করে। যা মুহূর্তের মধ্য়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। আরিয়ানের করা ভিডিয়োতে স্পষ্ট দেখা যায়, বিমানটি উড়ানের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নামতে শুরু করে। এবং হস্টেলে গিয়ে আছড়ে পড়ে। ওই হস্টেল থেকে মাত্র কয়েকশো মিটার দূরেই আরিয়ানের আত্মীয়ের বাড়ি।
দুর্ঘটনায় বিমানের একজন বাদে সকলের মৃত্যু হয়। এই ঘটনা দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। আরিয়ানের রেকর্ড করা ভিডিয়োটি বিমান দুর্ঘটনার প্রথম এবং একমাত্র লাইভ ভিডিয়ো হয়ে দাঁড়ায়। তারপরে আমদাবাদ বিমানবন্দরের আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ হয়। তবে আরিয়ান ভিডিয়োটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেক নেটিজেনই সেটিকে ষড়যন্ত্র বলে জল্পনা শুরু করে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন যে, যে ভিডিয়ো করেছে, সে নিশ্চয় আগে থেকে জানত যে ঘটনাটি ঘটবে।
সব ষড়যন্ত্র, জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আরিয়ান শনিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়। সেখানে তিনি স্বীকার করে যে, বন্ধুদের বিমান উড়ান দেখাবে বলে সে ভিডিয়োটি করে। এটি সম্পূর্ণ কাকতালীয় যে বিমান দুর্ঘটনার রেকর্ড হয়ে যায়। সে বলে, 'আমি ভেবেছিলাম প্লেনটি এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করছে। কিন্তু এই ভয়ংকর বিস্ফোরণ আমাকে নাড়িয়ে দেয়।'
ঘটনার রীতিমত আতঙ্কের মধ্যে চলে যায় আরিয়ান। সে প্রথমবার এত কাছ থেকে বিমান দেখেছিল। আর প্রথমবারই এত বড় ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী হতে হল তাকে। সংবাদমাধ্যমে আরিয়ান বলে, 'আমি জীবনে কোনও এক সময়ে বিমানে চড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু যা দেখলাম তার পর আমার মনে হয় না যে আমি আর বিমানে উঠতে পারব বলে।'
সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সময় আরিয়ানকে ঘিরে অনেক ভিড় জমতে শুরু করে। তখন পুলিস এসে তাকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যায়। যার ফলে নতুন আর এক জল্পনার শুরু হয় যে, ভিডিয়ো করার জন্য তাকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু সেই জল্পনার জল ঢেলে আমদাবাদে পুলিস এক্স হ্যান্ডেলে জানায়, ভিডিয়ো রেকর্ড করার জন্য কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। আরিয়ান তার বাবার সঙ্গে সাক্ষী হিসাবে তার বক্তব্য দিতে এসেছিল। আবার সে বাড়ি চলে যায়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)