)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) নতুন ঘোষণায় একপ্রকার দিশেহারা হাজার হাজার ভারতীয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US President) হঠাৎই ঘোষণা করেন, এইচওয়ানবি (H-1B) ভিসার জন্য ১ লক্ষ ডলারের ফি ধার্য হবে। ঘোষণা ঘিরে মুহূর্তে তৈরি হয় আতঙ্ক। প্রযুক্তি সংস্থাগুলি (Amazon, Microsoft-সহ একাধিক বিগ টেক কোম্পানি) বিদেশে থাকা কর্মীদের তড়িঘড়ি ই-মেল করে জানায়, শনিবার ভোরের মধ্যেই আমেরিকায় ফিরে আসতে হবে। TCS-ও তাদের মধ্যে অন্যতম।
TCS-এর সমস্যা:
এদিকে TCS-এর ছাঁটাই প্রক্রিয়া নিয়ে গত তিনমাস ধরেই নানান খবর হচ্ছে। অন্যায়ভাবে এর আগে খাতায় কলমে ১২০০০ আর বেহিসেবে ৩০০০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে। আর এখন ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের আরও বিপদ।
টিসিএস থেকে বরখাস্ত হওয়া কর্মী দাবি করেছেন, সিভারেন্স পে চাওয়ার সময় HR তাঁকে মারধর করেছে
কর্মীর বক্তব্য:
একজন বরখাস্ত হওয়া টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) কর্মী অভিযোগ করেছেন যে, তিনি যখন সিভারেন্স পে (Severance Pay) সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন, তখন কোম্পানির মানবসম্পদ (HR) বিভাগের সদস্যরা তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত (Assault) করেন।
এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়, যা এখন ভাইরাল। পোস্টের শিরোনাম ছিল: "Got terminated by TCS, then assaulted by HR when I asked about severance – what should I do?"
কর্মীর দাবি অনুযায়ী:
১৯ সেপ্টেম্বর, TCS-এর নয়ডার যমুনা অফিসে ঘটনাটি ঘটে। তিনি জানতে চেয়েছিলেন কেন তাঁকে বরখাস্ত করা হলো, সিভারেন্স পে দেওয়া হবে কিনা, এবং ল্যাপটপ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া কী। সকাল ১০:৩০ নাগাদ তাঁর অফিস অ্যাক্সেস ব্লক করে দেওয়া হয়। বিকেল ৪:৩০ নাগাদ তিনি অফিসে যান।
HR বলেন, আমরা উত্তর দেব না। আপনি বরখাস্ত হয়েছেন। যেখানে খুশি যান লড়াই করুন।
তিনি ফোনে ভিডিও রেকর্ড করতে চাইলে, অন্য HR কর্মী বলেন: "ওর ফোন কেড়ে নাও।" এরপর তাঁকে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া হয়, ডান হাত মোচড়ানো হয়, এবং তিনি অপমানিত বোধ করেন। তিনি সেক্টর-১৬৮ পুলিস চৌকিতে অভিযোগ দায়ের করেন এবং ভিডিও প্রমাণ জমা দেন। পুলিস HR-কে থানায় আসতে বলে, কিন্তু তারা অস্বীকৃতি জানায়।
এই পোস্ট ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ বলেছেন 'এটা এখন শুধু চাকরি নয়, শারীরিক হেনস্থার বিষয়। ভিডিয়ো ভাইরাল হলে কোম্পানি HR-দের দায়ী করে বরখাস্ত করবে।'
ভারতীয় আইটি শিল্পে ধাক্কা
ইনফোসিস, টিসিএস, উইপ্রো, এইচসিএল, কগনিজান্টের মতো ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলি দীর্ঘদিন ধরে H-1B ভিসার উপর নির্ভরশীল। হাজার হাজার ইঞ্জিনিয়ারকে মার্কিন ক্লায়েন্টের কাছে পাঠিয়ে তারা পরিষেবা দিয়েছে।
এখন—খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনসাইট মডেল ভেঙে পড়তে পারে। কাজ ফেরত আসবে ভারতে বা চলে যাবে কানাডা, মেক্সিকো বা অন্য নিকটবর্তী দেশে। ভারতীয় আইটি পেশাজীবীদের জন্য আমেরিকায় সরাসরি কাজের সুযোগ কমে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এটি শুধু ব্যক্তিগত স্বপ্ন ভাঙবে না, ভারতের বৈদেশিক আয়ের উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আর্থিক বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, এই পদক্ষেপে স্থানীয় চাকরির সুযোগ বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে—বিগ টেক কোম্পানি যেমন গুগল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, মেটা— এরা H-1B-র মাধ্যমে দক্ষ কৌশলী নিয়োগ করে। নতুন খরচের বোঝা তাদের প্রতিভা নিয়োগে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াতে পারে। স্টার্টআপ ও গবেষণাগার যাদের বাজেট সীমিত, তারা আর আন্তর্জাতিক প্রতিভা আনতে পারবে না। উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতা কমে যাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকার অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বিপুল ফি আদায় আসলে আইনি কাঠামোর বাইরে। কংগ্রেস শুধুমাত্র প্রশাসনিক খরচ তুলতে ফি ধার্য করার অনুমতি দিয়েছে। আদালতে এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ হলে টিকবে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)